YouTube Shorts-এ বড় বদল, অরিজিনাল ভিডিওতেই এবার বেশি গুরুত্ব
অন্যের ভিডিও সামান্য পরিবর্তন করে আপলোড করলে কমতে পারে রিচ, অরিজিনাল কনটেন্টে বাড়বে ইউটিউবের অ্যালগরিদমিক গুরুত্ব
ইউটিউব শর্টস ক্রিয়েটরদের জন্য বড় পরিবর্তন আনছে। শর্টসের রেকমেন্ডেশন সিস্টেমে এবার থেকে অরিজিনাল ভিডিওকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্য ক্রিয়েটরের ভিডিও ডাউনলোড করে সামান্য পরিবর্তন করে ফের আপলোড করলে সেই ভিডিওর রিচ কমে যেতে পারে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে সেই সব অ্যাগ্রিগেটর চ্যানেল সমস্যায় পড়তে পারে, যাদের কনটেন্টের বড় অংশ তৈরি হয় অন্য ক্রিয়েটর, সোশ্যাল মিডিয়া, সিনেমা বা ভাইরাল ভিডিও থেকে ক্লিপ নিয়ে পুনরায় আপলোড করার মাধ্যমে। ইউটিউব ১ অক্টোবর এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। নতুন নিয়মটি মূলত শর্টসের রেকমেন্ডেশন সিস্টেমে প্রভাব ফেলবে।
কী পরিবর্তন করছে YouTube?
ইউটিউব জানিয়েছে, শর্টসের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার জন্য তাদের রেকমেন্ডেশন সিস্টেমে অরিজিনাল কনটেন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। অন্য ক্রিয়েটরের ভিডিওতে নিজেদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু না যোগ করে সেটি পুনরায় আপলোড করা হলে সেই কনটেন্টের রিচ কমানোর ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ, কোনও চ্যানেল যদি অন্যের ভাইরাল শর্টস ডাউনলোড করে প্রায় কোনও পরিবর্তন ছাড়াই নিজের চ্যানেলে আপলোড করে, তাহলে আগের তুলনায় সেই ভিডিও শর্টস ফিডে কম মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে।
ইউটিউবের রেকমেন্ডেশন সিস্টেম অবশ্য শুধু একটি বিষয় দেখে ভিডিও ছড়ায় না। দর্শকের ওয়াচ হিস্ট্রি, আগ্রহ, এনগেজমেন্টসহ বিপুল সংখ্যক সিগন্যাল বিশ্লেষণ করা হয়। নতুন পরিবর্তনে সেই সিগন্যালগুলির পাশাপাশি কনটেন্টের অরিজিনালিটির গুরুত্ব আরও বাড়ানো হচ্ছে।
শুধু বর্ডার বা স্পিড পরিবর্তন করলেই হবে না
অন্যের ভিডিও নিয়ে সামান্য টেকনিক্যাল পরিবর্তন করাকে ইউটিউব যথেষ্ট মৌলিক কাজ হিসেবে বিবেচনা নাও করতে পারে। যেমন, কোনও ভিডিওতে শুধু বর্ডার যোগ করা, প্লেব্যাক স্পিড সামান্য বাড়ানো বা কমানো, একটি টেমপ্লেট ব্যবহার করা কিংবা ছোটখাটো টেকনিক্যাল এডিট করা সাধারণত উল্লেখযোগ্য অরিজিনাল কনটেন্ট তৈরির সমান নয়। অর্থাৎ শুধু ভিডিওর চেহারা একটু বদলে সেটিকে নতুন ভিডিও হিসেবে প্রকাশ করার কৌশল ভবিষ্যতে আগের মতো কার্যকর নাও হতে পারে।
অন্যের ক্লিপ ব্যবহার করলে কি আর Shorts বানানো যাবে না?
না। ইউটিউবের পরিবর্তনের অর্থ এমন নয় যে অন্যের ভিডিও বা ফুটেজ ব্যবহার করা সমস্ত শর্টস রেকমেন্ডেশন থেকে বাদ পড়বে। মূল বিষয় হল, কনটেন্টে ক্রিয়েটরের নিজস্ব উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে কি না। উদাহরণ হিসেবে কোনও বাইরের ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে তার সঙ্গে নিজস্ব কমেন্ট্রি, বিশ্লেষণ, গল্প বলার ধরন বা উল্লেখযোগ্য এডিটিং যোগ করা হলে সেটি আলাদা ধরনের কনটেন্ট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু ক্লিপটি ব্যবহার করাই সমস্যা নয়। সমস্যা বেশি তৈরি হবে তখন, যখন পুরো ভিডিওটির মূল মূল্য অন্য কারও তৈরি কনটেন্ট থেকে নেওয়া এবং আপলোডকারী নিজের পক্ষ থেকে প্রায় কিছুই যোগ করছেন না।
কেন Shorts-এ এই পরিবর্তন আনছে YouTube?
বর্তমানে শর্ট-ফর্ম ভিডিওর দুনিয়ায় একই ভিডিও খুব দ্রুত এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভাইরাল ভিডিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অসংখ্য অ্যাকাউন্টে পুনরায় আপলোড হতে পারে। এর ফলে অরিজিনাল ক্রিয়েটর এবং রি-আপলোড করা অ্যাকাউন্টের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।
ইউটিউবের যুক্তি অনুযায়ী, যদি অন্যের তৈরি ভিডিও কপি করে দেওয়া অ্যাকাউন্ট অরিজিনাল ক্রিয়েটরের তুলনায় বেশি রিচ পায়, তাহলে নতুন কনটেন্ট তৈরির উৎসাহ কমতে পারে। তাই অরিজিনাল ভিডিও তৈরি করা ক্রিয়েটরদের বৃদ্ধির সুযোগ বাড়ানোই নতুন রেকমেন্ডেশন পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।
এই পদক্ষেপ ইউটিউবের বিদ্যমান মনিটাইজেশন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্ল্যাটফর্মটি ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত রিপিটেটিভ, ব্যাপকভাবে তৈরি করা বা সামান্য পরিবর্তন করা রিইউজড কনটেন্টের ক্ষেত্রে মনিটাইজেশন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ রেখেছে।
অ্যাগ্রিগেটর চ্যানেলগুলির উপর বেশি প্রভাব পড়তে পারে
নতুন পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সেই সব চ্যানেলের উপর, যাদের মূল মডেলই হল অন্য জায়গা থেকে ভিডিও সংগ্রহ করে ইউটিউব শর্টসে পুনরায় প্রকাশ করা।
বিশেষ করে ভাইরাল ভিডিও, সিনেমার ক্লিপ, অন্য ক্রিয়েটরের শর্টস কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও সামান্য এডিট করে আপলোড করা চ্যানেলগুলির ক্ষেত্রে রিচ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে কোনও চ্যানেল নিয়মিতভাবে অন্যের ফুটেজ ব্যবহার করলেই তার সমস্ত ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম রিচ পাবে, এমনটা বলা হয়নি। ভিডিওতে কী ধরনের মৌলিক মূল্য যোগ করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রিয়েটরদের কীভাবে Shorts তৈরি করা উচিত?
নতুন পরিস্থিতিতে শুধু অন্যের ভিডিও নিয়ে দ্রুত আপলোড করার পরিবর্তে ক্রিয়েটরদের নিজেদের ভয়েস, কমেন্ট্রি, বিশ্লেষণ, স্টোরিটেলিং এবং ক্রিয়েটিভ এডিটিং যোগ করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনও ভাইরাল ঘটনার ফুটেজ ব্যবহার করলে শুধুমাত্র সেটি পুনরায় প্রকাশ না করে তার সঙ্গে নিজের ব্যাখ্যা, তথ্য, প্রেক্ষাপট এবং বিশ্লেষণ যোগ করা যেতে পারে।
একইভাবে রিঅ্যাকশন ভিডিও, কম্পাইলেশন বা ক্লিপ-ভিত্তিক শর্টসও তৈরি করা সম্ভব। তবে সেগুলিতে ক্রিয়েটরের নিজস্ব অবদান এবং দর্শকের জন্য নতুন মূল্য তৈরি করাটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শুধু কপি করে Shorts-এ বড় রিচ পাওয়ার দিন কি শেষ?
পুরোপুরি এমনটা বলা এখনও ঠিক হবে না। ইউটিউবের রেকমেন্ডেশন সিস্টেম বহু ধরনের সিগন্যালের উপর কাজ করে এবং দর্শকের আগ্রহ ও এনগেজমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট: শুধু অন্যের ভিডিও তুলে এনে সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করার উপর নির্ভরশীল Shorts চ্যানেলগুলির জন্য ভবিষ্যৎ আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে যারা নিজেরাই ভিডিও তৈরি করেন অথবা বাইরের ফুটেজ ব্যবহার করলেও তার সঙ্গে যথেষ্ট নিজস্ব কমেন্ট্রি, বিশ্লেষণ, সম্পাদনা এবং গল্প বলার উপাদান যোগ করেন, তাদের জন্য অরিজিনালিটির গুরুত্ব বাড়ার এই পরিবর্তন নতুন সুযোগও তৈরি করতে পারে।
Get your daily dose of tech news and insight. Follow us on X, Facebook, WhatsApp and Google News for instant updates. Catch all the action on our YouTube channel.