বাংলাদেশি পাটপণ্যে শুল্ক বাড়াল মোদী সরকার! সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার প্রতি টনে
নয়াদিল্লি: ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া পাটজাত পণ্যের ওপর (Anti-Dumping Duty)নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে…
নয়াদিল্লি: ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া পাটজাত পণ্যের ওপর (Anti-Dumping Duty)নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এই শুল্কের পরিসর ছিল ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার। তিন মাস আগেই কমিটি জানিয়েছিল যে বাংলাদেশি রফতানিকারকরা এখনও ভারতে পাটজাত পণ্য ডাম্পিং করছে। দেশীয় মিলগুলো ক্ষতির মুখে পড়ছিল।
বছরের পর বছর ধরে এই পথে চালানের পরিমাণ কমছে। (Anti-Dumping Duty)ফাইল ধুলা জমতে দেওয়া হয়নি।প্রতিবেশী দেশ যদি উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য পাঠায়, তাহলে ভারতীয় মিলগুলোর বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার পাবে না। এই শুল্কই তার জবাব। আগের স্ল্যাব ছিল ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার প্রতি টন। এবারের রাউন্ডে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার। ভারত নিজের পাট শিল্প রক্ষার জন্য কোনো ক্ষমা চাইছে না। ডাম্পিং করলে তার মূল্য দিতে হবে।
আরও দেখুনঃ ‘জ্ঞানেশকে ভারতরত্ন দেওয়ার চিঠি লিখিনি!’ অস্বীকার ইউসুফের
অর্থ মন্ত্রণালয়ের নোটিফিকেশন অনুযায়ী, পাটের সুতা, টোয়াইন, হেসিয়ান কাপড় ও বস্তাবন্দি ব্যাগের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য। কিছু নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকের জন্য কম হার বা শূন্য শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রস্তুতকারকদের ক্ষেত্রে সুতা ও টোয়াইনের ওপর ৪৪৫ ডলার প্রতি টন শুল্ক ধার্য হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিজ বা ডিজিটিআর-এর মধ্যবর্তী পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দেশীয় পাট মিলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছিল যে কম দামে আমদানি হওয়া পণ্য তাদের ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য এলে স্থানীয় শিল্প টিকে থাকতে পারে না। শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমে যায়। পাট চাষিদেরও ক্ষতি হয়। তাই অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চালানের পরিমাণ কমলেও ডাম্পিং অব্যাহত থাকায় শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এসেছে।
পাট শিল্প ভারতের জন্য ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। (Anti-Dumping Duty)মিলগুলো যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সরকার দেশীয় শিল্প রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে, কিন্তু ন্যায্য মূল্যে। খরচের চেয়ে কম দামে পণ্য ঢোকানো হলে শুল্ক দিয়ে তার মোকাবিলা করা হবে।
বাংলাদেশি রফতানিকারকরা এই শুল্ককে একতরফা বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলছেন, চালান কমছে তবুও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি হলো, ডাম্পিং প্রমাণিত হওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিন মাস আগেই কমিটির পর্যবেক্ষণে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। তারপর ফাইল আটকে রাখা হয়নি। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।নতুন শুল্ক কাঠামোতে কিছু কোম্পানিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত নির্দিষ্ট প্রস্তুতকারকদের জন্য হার কম বা শূন্য। কিন্তু সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার ধার্য। এর ফলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং দেশীয় উৎপাদনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। বাজারের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।পাট শিল্প রক্ষা করা মানে শুধু মিল মালিকদের স্বার্থ নয়। চাষি, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সবাই এর সঙ্গে যুক্ত। কম দামে আমদানি হলে পুরো চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। ভারত নিজের শিল্পকে রক্ষা করতে কোনো দ্বিধা করছে না। ডাম্পিং হলে তার মূল্য দিতেই হবে।এই সিদ্ধান্ত পাট খাতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দেশীয় মিলগুলো উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবে। রফতানিকারকদেরও ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাঠাতে হবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে। ভারতীয় পাট শিল্পের স্বার্থ রক্ষাই এখানে মূল লক্ষ্য।