ডিসেম্বরের মধ্যেই বন্ধ হতে চলেছে গাড়ি থামিয়ে টোল দেওয়ার পালা
নয়াদিল্লি: হাইওয়েগুলোতে এখন যেভাবে গাড়ি থামিয়ে টোল দিতে হয়, (Barrier-Free Tolling)সেই দিন শিগগিরই শেষ হয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৭০…
নয়াদিল্লি: হাইওয়েগুলোতে এখন যেভাবে গাড়ি থামিয়ে টোল দিতে হয়, (Barrier-Free Tolling)সেই দিন শিগগিরই শেষ হয়ে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশি টোল প্লাজা বাধামুক্ত হয়ে যাবে। অর্থাৎ আর কোনো গেট বা বাধা থাকবে না, গাড়ি থামিয়ে টোল দেওয়ার দরকার পড়বে না। শুধু গাড়ি চালিয়ে যেতে হবে, আর সিস্টেম নিজে থেকেই টোল কেটে নেবে।
এই নতুন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি দুটো প্রযুক্তি এফএএসট্যাগ এবং এএনপিআর ক্যামেরা। এফএএসট্যাগ ইতিমধ্যেই অনেক টোল প্লাজায় কাজ করছে। (Barrier-Free Tolling)গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে লাগানো ট্যাগ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় বাধা থাকার কারণে গাড়ি থামিয়ে যেতে হয় বা ধীরগতির লাইনে দাঁড়াতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই বাধাগুলোই তুলে দেওয়া হচ্ছে।
আরও দেখুনঃ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে উত্তপ্ত রাজনীতি! ফের যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ডাক সিজেপির
এএনপিআর বা অটোম্যাটিক নাম্বার প্লেট রিকগনিশন ক্যামেরা গাড়ির নাম্বার প্লেট পড়ে নেবে চলতে চলতেই। তারপর এফএএসট্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে টোল কেটে নেওয়া হবে। গাড়ি থামার কোনো দরকার নেই।এই পুরো সিস্টেমকে বলা হচ্ছে মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো বা এমএলএফএফ। এর মানে হল একাধিক লেনে গাড়ি অবাধে চলতে পারবে, কোনো বাধা ছাড়াই। সরকারের লক্ষ্য হল ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ টোল প্লাজায় এই ব্যবস্থা চালু করা।
এর ফলে হাইওয়েতে যানজট কমে যাবে, সময় বাঁচবে এবং জ্বালানিও কম লাগবে।(Barrier-Free Tolling)বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক সুফলও অনেক বড়। বর্তমানে টোল আদায়ের খরচ প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে যায়। বাধামুক্ত ব্যবস্থায় এই খরচ কমে ৩ থেকে ৪ শতাংশে নেমে আসবে। এতে বছরে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। শুধু তাই নয়, গাড়ি থামিয়ে আবার স্টার্ট করার প্রয়োজন না থাকায় জ্বালানি খরচও কমবে।
হিসাব অনুযায়ী বছরে প্রায় ২৫০ কোটি লিটার জ্বালানি বাঁচতে পারে। পরিবেশের দিক থেকেও এটা বড় সুবিধা, কারণ কম জ্বালানি মানে কম দূষণ।ড্রাইভারদের জন্য এটা একটা বড় স্বস্তির বিষয়। দীর্ঘ যাত্রায় টোল প্লাজার সামনে লম্বা সারি, গরমে বা বৃষ্টিতে অপেক্ষা এসব অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। নতুন ব্যবস্থায় গাড়ি চালিয়ে যেতে যেতেই টোল পরিশোধ হয়ে যাবে। কোনো কিউ নেই, কোনো থামা নেই।
শুধু নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়া। বিশেষ করে ট্রাক ও বাস চালকদের জন্য এটা আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের সময় আরও বেশি মূল্যবান।(Barrier-Free Tolling)তবে এই রূপান্তর একদিনে হবে না। অনেক টোল প্লাজায় এখনও পুরনো পরিকাঠামো রয়েছে। ক্যামেরা বসানো, সফটওয়্যার আপডেট, এফএএসট্যাগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয় এসব কাজ চলছে।
কিছু জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সফল হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য প্লাজায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি প্লাজা বাধামুক্ত করা।যাত্রী ও পরিবহন খাতের মানুষজন এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, এতে রাস্তায় সময় বাঁচবে, যাত্রা আরও মসৃণ হবে। ব্যবসায়ীরাও খুশি, কারণ মাল পরিবহনে দেরি কমবে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও আছে।
যেমন, যেসব গাড়িতে এফএএসট্যাগ নেই বা নাম্বার প্লেট ঠিকমতো পড়া যায় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা হবে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। (Barrier-Free Tolling)প্রযুক্তি যাতে নির্ভুলভাবে কাজ করে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।মোটের ওপর, এই উদ্যোগ ভারতের হাইওয়ে ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলবে। শুধু টোল আদায়ের পদ্ধতি নয়, পুরো যাত্রার অভিজ্ঞতা বদলে যাবে। বাধাহীন রাস্তা, স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট, কম খরচ, কম জ্বালানি এসব মিলিয়ে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।