ডিজে-মাইকের শব্দ জব্দ! এবার পুজোয় বায়না বাড়ছে ঢাকশিল্পীদের
পুলক বেরা, তমলুক
রাজ্য পালা বদলের পরে ডিজে আর মাইকের শব্দে রাশ টানতে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ডিজে বাজানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তাই আবার পুজোট বাড়ছে সাবেক ঢাকের চাহিদা। ঢাকিরাও জানাচ্ছেন, অন্যবারের চেয়ে এ বার বায়না আসছে বেশি। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের ঢাকিদের গ্রামগুলিতে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। দিনরাত মহড়ায় ঢাকের বোলে মেতে উঠেছে গোটা গ্রাম।
পূর্ব মেদিনীপুরের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের মহিষযদা, কাখদা, বামনআড়া-সহ একাধিক গ্রামে বসবাস ঢাকিদের। পুজোর আগে সেখানে ব্যস্ততা তুঙ্গে। কেউ ঢাকের খোল মেরামত করছেন তো কেউ ঢাকের চামড়া টান করে তাতে সুর বাঁধছেন। পুজোর আগে বছরের এই সময়টাতেই কাজের বায়না আসতে থাকে গ্রামে। কিন্তু এ বার সেই চাপটা অন্যবারকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন শিল্পীরা। কারণ, উচ্চগ্রামে সাউন্ড বক্স আর ডিজে’র উপরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা।
মহিষদা গ্রামের অনুপ ভৌমিক বলেন, ‘ঢাক বলুন বা ব্যান্ড পার্টি এ বার চাহিদা একটু বেড়েছে। হয়তো ডিজে বাজানোর উপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে।’ শিল্পীদের দাবি, তাঁদের কাছে এখন এত বেশি বরাত আসছে যে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনুপের কথায়, ‘প্রচুর বায়না আসছে। কিন্তু লোকের অভাবে বায়না ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। কিছু করার নেই, সব জায়গায় তো যাওয়া সম্ভব হবে না।’
শুধু জেলায় নয়, অন্য জেলা এবং ভিনরাজ্য থেকেও বায়না আসছে বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা। তাঁদের কথায়, কলকাতা, খড়াপুর, টাটা, জামশেদপুরের পাশাপাশি দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র থেকেও বায়না এসেছে। গ্রামের অনেকেই রাজ্যের বাইরে যাচ্ছে। মহিষদার এক ঢাকশিল্পী প্রতাপ ধাড়ার কথায়, ‘বুকিং বাড়ছে। প্রস্তুতিও জোরকদমে চলছে। বর্ষা চলে গিয়েছে। সামনে পুজো। তাই জিনিসপত্র ঠিকঠাক করার চাপও বাড়ছে। পুজোর আগে ঢাক নিয়ে বেরিয়ে পড়ার আগে তাই ভালোভাবে সব দেখে নিতে হচ্ছে। কোথাও চামড়া ঠিক রয়েছে কি না, কোথাও বাঁধন আলগা হয়েছে কি না-সবই।’
চাহিদা বাড়লেও শিল্পীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। আগে যেখানে সহজেই স্থানীয় এলাকায় ঢাক বা ব্যান্ড পার্টি পাওয়া যেত, এ বার সেখানে বুকিং করতে হচ্ছে। অনেক পুজো কমিটি স্থানীয় শিল্পী না পেয়ে জেলার বাইরে যোগাযোগ করতে বাধ্য হচ্ছে। নিকাশি বাজারের একটি পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদীপ দে বলেন, ‘প্রতি বছর পুজোয় ঢাকিদের বায়না করা হয়। এ বার ঢাকি বুক করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছি। এখনও পর্যন্ত কোথাও বায়না করতে পারিনি। জেলায় সে ভাবে দল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ঝাড়গ্রামের একটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’
ডিজের দাপটে তাঁদের রুজিতে টান পড়েছিল। পুজোর আগেও অনেকে বায়না পাচ্ছিলেন না। এ বার সেখানে অন্য ছবি। শিল্পীদের আশা, শুধু এ বছর নয়, উৎসবে ফের ঢাক-ঢোল-সহ চিরাচরিত বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে তাঁদের পেশাও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।