SIR Tribunal: ‘যখন আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন জানতাম না…’, কেন ট্রাইব্যুনালের কাজ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির? জানালেন নিজেই | SIR Tribunal: Retired Judge Indrajit Chattopadhyay Seeks to Step Down, Cites Poor Road Conditions
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: তাঁর জেলায় এতদিনে সবেমাত্র ৫০০-৭০০ জনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। SIRএর পরীক্ষায় এখনও ভাগ্য ঝুলে রয়েছে সাড়ে পাঁচ লক্ষের মতো। কিন্তু এই পরিস্থিতিতেই SIR ট্রাইব্যুনালের কাজ ছাড়তে চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠালেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু কেন? প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে তিনি রাস্তার খারাপ দশাকেই কারণ হিসাবে দর্শিয়েছেন। এই খবর সামনে আসা মাত্রই স্বাভাবিকভাবে নানামহলে একাধিক প্রশ্নের উত্থাপন হয়েছে। সত্যিই ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি? TV9 বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেটারই ব্যাখ্যা দিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার এখান থেকে দূরত্বটা বিরাট ফ্যাক্টর। আমি সকাল ৯.৪৫ মিনিটে বাড়ি থেকে বের হই, আমার ওখানে পৌঁছতেই ১১.১৫ হয়ে যায়। ওখানে তিন-চারটে ইংরাজি মাধ্যম স্কুল রয়েছে, ওই জায়গায় আমার ২০-২৫ মিনিট সময় চলে যায়। যেহেতু ওখানে অনেকগুলো গাড়ি পার্ক করা থাকে। সেজন্য অসুবিধা হয়। আমি সেটাই চিঠিতে লিখেছি। আমি ইস্তফাপত্র দিইনি।”
উল্লেখ্য, প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি সল্টলেকে। আর ট্রাইব্যুনালের সেন্টার পড়েছে জোঁকাতে। দূরত্ব ২২ কিলোমিটারের মতো। গাড়িতে যেতে সময় লাগার কথা ঘণ্টা খানেক। সেখানে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির। তিনি বলছেন, “এগুলো যখন করা হল, তখন কিন্তু আমাদের জানানোই হয়নি, যে এতটা দূরে হবে। আমাদের নিয়ে যাওয়া হল, দেখলাম একটা ট্রাইব্যুনাল তৈরি হচ্ছে। তখন ভেবেছিলাম ২-৩ মাসের ব্যাপার। তখন জানতাম না, এত কেস পেন্ডিং আছে। আমি সেটাই ভেবেছিলাম, আমি ৩-৪ মাস করব, তারপর ছেড়ে দেব।” কিন্তু তিনি নিজেই জানালেন, তাঁর জেলায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ কেস পেন্ডিং রয়েছে। এতদিনে ৫০০-৭০০ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তবুও রোজ এই তিন ঘণ্টায় যাতায়াত, তার ওপর খারাপ রাস্তা, এটাই মূলত তাঁর কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমার কাজটা করতে ভালো লাগে। আমি চাই কাজটা করি। যদি কাছাকাছি কোথাও দেওয়া হয়, আমি কাজটা করতে পারি।” প্রধান বিচারপতিকে চিঠিতে গোটা বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি বলেছি, আমাকে ২১ দিনের মধ্যে জানাবে যে ওয়ার্ক ফর্ম হোম করতে দেওয়া হবে কিনা, কিংবা ভেন্যুটাকে বদলে সল্টলেকের কাছাকাছি দেওয়া হবে কিনা। এছাড়াও ট্রাইব্যুনালের আরও কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি আমরা আলোচনা করব প্রধান বিচারপতি কিংবা কমিশনের সঙ্গে।”
কিন্তু এসবের পরও প্রশ্ন থাকছে, এত মামলার নিষ্পত্তি কীভাবে হবে? কবে হবে? উল্লেখ্য, এর আগে প্রাক্তন বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ট্রাইব্যুনালের কাজ থেকে ইস্তফা নিয়েছেন।