Flydubai-এর ককপিটে উগ্র জেহাদি হামলা? ইরান-যোগের ‘ইঙ্গিত’ বিবির, নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন
এই সময়: কো-পাইলটের হামলায় মারাত্মক জখম হয়েও বড়সড় ফ্লাইট-বিপর্যয় রুখে দেন ফ্লাইট-ক্যাপ্টেন স্মিত মছর। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সবটা শুনে বুধবারই ‘ভারতীয় সুপারহিরো’-কে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন ইজ়রায়েলি পিএম বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু কে এই কো-পাইলট? তাঁর হামলার মোটিভই বা কী? গোড়ায় মুখ খোলেননি বিবি। শুধু বলেছিলেন, ‘তদন্ত চলছে। এখনই বলা মুশকিল।’ ককপিটে রক্তপাতের ঘটনায় সন্ত্রাস-যোগের কথা যদিও তখনই আকারে-ইঙ্গিতে বলতে শুরু করে দিয়েছিল তেল আভিভ। এ দিন তা আরও জোরালো হয়ে গেল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়-কে দেওয়া খোদ নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎকারে।
কোনও রকম রাখঢাক না-রেখেই বিবি বলে দিলেন, ‘সম্ভবত ওই কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। আমরা নিশ্চিত যে কট্টর ইসলামিক মতাদর্শে ওই কো-পাইলটের মগজধোলাই হয়েছিল।’ এমনকী, এই ঘটনায় ইরান-যোগ রয়েছে কি না, তদন্তকারীরা তা-ও খতিয়ে দেখবেন বলে জানান ইজ়রায়েলি পিএম। তাঁর কথায়, ‘নিশ্চিত সব যাত্রীকে নিয়ে গোটা প্লেনটাকেই ধ্বংস করার আত্মঘাতী প্ল্যান ছিল ওই কো-পাইলটের। শুনেছি, প্ল্যান বানচাল হয়ে ধরা পড়ে যাওয়ার পরে উনি বারবার বলতে থাকেন— কিল মি, কিল মি…!’ ইজ়রায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাৎজ়েরও দাবি, ‘হাইজ্যাক করে শেষমেশ ফ্লাইট ক্র্যাশ করানোরই ছক ছিল ওই কো-পাইলটের।’
নাম-পরিচয় অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি ওই কো-পাইলটের। তবে ইজ়রায়েলের বিদেশমন্ত্রীরও দাবি, তিনি ওমানি। এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন এবং সৌদি আরবে প্রাথমিক তদন্তাধীন ওই কো-পাইলট। পরে তাঁকে ইউএই-র হাতে তুলে দেওয়ার কথা। ইজ়রায়েলি গোয়েন্দারা চাইছেন, তাঁদেরই তদন্তে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। কারণ ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিলেন ইজ়রায়েলিই! এখনও পর্যন্ত একাধিক মিডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস আটেক আগেই ফ্লাইদুবাইয়ের চাকরিতে যোগ দেন ওই কো-পাইলট। তাঁর বয়স, আগে তিনি কোথায় কাজ করতেন বা ফ্লাইট চালোনোর ক্ষেত্রে তাঁর কী অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিছুই প্রকাশ্যে আসেনি।
কিন্তু সত্যিই কি তিনি ওমানের নাগরিক? প্রশ্ন উঠছে। কারণ, ওমানের সঙ্গে ইজ়রায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ফলে ওই নাগরিক কী ভাবে তেল আভিভ-গামী বিমানের কো-পাইলটের দায়িত্ব পেলেন— তা খতিয়ে দেখছেন ইজ়রায়েলি কর্তৃপক্ষ। একাধিক সূত্রের দাবি, ওই পাইলটের দ্বৈত নাগরিকত্বও থাকতে পারে। ইজ়রায়েলি পরিবহণমন্ত্রী মিরি রেগেভ জানান, ইউএই-র সঙ্গে তাঁদের যে উড়ান-চুক্তি রয়েছে, তাতে কোনও ওমানি পাইলটকে দায়িত্ব দেওয়া মানে নিশ্চিত চুক্তি লঙ্ঘন। চুক্তিতে স্পষ্ট বলা আছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশের পাইলটদেরই শুধু ইজ়রায়েলের মাটিতে পাসপোর্ট-সহ প্রবেশাধিকার রয়েছে। আপাতত ফ্লাইদুবাইয়ের কোনও ফ্লাইট যাতে ইজ়রায়েলে না-ঢোকে সেই নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। ফ্লাইদুবাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে— ইঙ্গিত দিয়েছেন মিরি।
শুধু নিয়োগ নয়, এই ‘ওমানি’ পাইলটকে ঘিরে উঠছে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও। তাঁর সঙ্গেই কর্মরত ফ্লাইদুবাইয়ের এক কর্মী ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ওই কো-পাইলট নাকি কোনও মহিলার সঙ্গেই হাত মেলাতেন না। চরম নারীবিদ্বেষের পাশাপাশি তাঁর কট্টর ধর্মীয় আচরণও নাকি ছিল বেশ সন্দেহজনক। কিন্তু সত্যিই যদি তিনি কট্টর মৌলবাদী হয়ে থাকেন, তা হলে পাইলটের চাকরি তিনি পান কী করে— কার্যত এমনই প্রশ্ন তুললেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মছরের আগের কর্মস্থল স্পাইসজেটের চেয়ারম্যান অজয় সিং। তাঁর কথায়, ‘পাইলট নিয়োগ করার আগে সব উড়ান সংস্থাই নানাবিধ সাইকোমেট্রিক টেস্ট করে থাকে। আমরাও দফায়-দফায় পাইলটের মাইন্ড-সেট ইত্যাদি যাচাই করে নিই। তাই এ সব নিয়ম-কানুন থাকা সত্ত্বেও এমন কিছু ঘটলে তা সত্যিই চরম বিপজ্জনক।’
এ দিকে কোন অস্ত্রে ওই কো-পাইলট ককপিটে হামলা চালায়, তা স্পষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হতেই পারে ওই পাইলটের সিকিউরিটি চেকিং হয়নি। তাই খুব সহজেই তিনি ছুরি জাতীয় কিছু নিয়ে বিমানে উঠে যান!’ ইজ়রায়েলি পিএমের দাবি, ইরান-সমর্থিত প্যালেস্তাইনের হামাস কিংবা লেবাননের হেজ়বোল্লার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠী যে এমন হামলার ছক কষছে, সেই ইন্টেলও নাকি রয়েছে তাঁদের কাছে! ওই কো-পাইলট কি তেমনই কোনও গোষ্ঠীর সদস্য, নাকি ‘লোন উলফ’ হিসেবেই আর একটা ৯/১১ ঘটাতে চেয়েছিলেন? বিবি-র জবাব, ‘এখনই জোর দিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
ইজ়রায়েলের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন শার যদিও বুধবার মাঝ আকাশে ফ্লাইটের ককপিটে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘জিহাদি সন্ত্রাস হামলা’ বলেই মন্তব্য করেন । তাঁর কথায়, ‘এখনও প্রমাণ হাতে পাইনি আমরা। তবে আমার মতে, যত বেশি সম্ভব ইজ়রায়েলিকে মেরে ফেলা এবং ইজ়রায়েল-ইউএই সম্পর্কে ভাঙন ধরানোই আসল লক্ষ্য ছিল ওই কো-পাইলটের।’