মমতাকে কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান অধীরের, বাংলায় নেতৃত্ব মানার বার্তাও - 24 Ghanta Bangla News
Home

মমতাকে কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান অধীরের, বাংলায় নেতৃত্ব মানার বার্তাও

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal Politics) নতুন জল্পনা তৈরি করে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন…

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal Politics) নতুন জল্পনা তৈরি করে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, তিনি মমতাকে তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসার আবেদন জানান। একই সঙ্গে জানান, মমতা ফিরে এলে বাংলায় তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে কাজ করতেও কংগ্রেসের আপত্তি থাকবে না।

অধীরের এই বক্তব্য এসেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলাদা রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে তৃণমূলের আর প্রয়োজন নেই। তবে এটি অধীরের রাজনৈতিক বক্তব্য, তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।

মমতার নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার বার্তা অধীরের

অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর সঙ্গে থাকা বাকি বিধায়ক ও সাংসদদের নিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন, তাহলে বাংলায় তাঁর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে কাজ করতে কংগ্রেস প্রস্তুত।

তিনি কংগ্রেসের হাইকমান্ডের কাছেও এই সম্ভাবনা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মমতা প্রায় তিন দশক আগে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই রাজনৈতিক বিচ্ছেদের পর তাঁর ফের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অধীরের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে ফেরার কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

 ALSO READ – ‘রাজনীতি এখন স্কাউন্ড্রেলদের আস্তাকুঁড়’,ক্ষোভ উগড়ে রাজনীতি থেকে অবসরের পথে মদন? 

‘ব্যাগেজ’ মন্তব্য ঘিরে জল্পনা

অধীর তাঁর বক্তব্যে মমতাকে অতীতের রাজনৈতিক ‘ব্যাগেজ’ পিছনে ফেলে কংগ্রেসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই মন্তব্যকে মমতার ভাইপো এবং তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেককে বাদ দিয়ে তৃণমূলের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

সৌগত রায়ের প্রতিক্রিয়া

অধীরের প্রস্তাব নিয়ে সৌগত রায় বলেছেন, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে তৃণমূলের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল বর্তমানে একটি পৃথক রাজনৈতিক দল এবং এখনও ইন্ডিয়া জোটের অংশ।

অর্থাৎ অধীরের প্রকাশ্য আহ্বানের পরেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কোনও সম্মতি জানানো হয়নি। বরং আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে দলীয় স্তরে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে।

 ALSO READ – শুক্রবার থেকে রাজ্যে শুরু ৩ দিনের ‘সেবা সেতু অভিযান’, মিলবে কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা?

রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়েও অধীরের আবেদন

মমতাকে কংগ্রেসে ফেরার আহ্বানের পাশাপাশি রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়েও তাঁর কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন অধীর। তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের যে নজির তৈরি হয়েছে, একইভাবে রেজিনগরেও কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করা উচিত। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, দুই আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা এবং ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।

নন্দীগ্রামে কী হয়েছিল?

নন্দীগ্রাম নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাকেই রেজিনগরেও সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন অধীর। এর আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন ঘিরে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছিল।

তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। অধীর তাঁর বক্তব্যে দলের নির্বাচনী পরাজয় এবং পরবর্তী সাংগঠনিক টানাপোড়েনকে সামনে রেখেই কংগ্রেসে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলটি এখনও পৃথক রাজনৈতিক সত্তা এবং ইন্ডিয়া জোটের অংশ বলে জানানো হয়েছে। ফলে অধীরের এই আহ্বান আপাতত একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানালে তবেই পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।

এদিকে বিজেপিও কংগ্রেস-তৃণমূলের এই প্রকাশ্য কথোপকথনকে নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্যে ব্যবহার করেছে। বিজেপির বঙ্গ মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেছেন, তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে গিয়েছে। এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্য; তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পাল্টা রাজনৈতিক অবস্থানও আলাদাভাবে বিবেচ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *