ভারতে C-390 Millennium তৈরির প্রস্তুতি, নাগপুরে অ্যাসেম্বলি লাইন চায় Mahindra-Embraer
নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট বা মাঝারি পরিবহণ বিমান কর্মসূচিকে সামনে রেখে বড় পরিকল্পনা করছে মহিন্দ্রা গ্রুপ এবং ব্রাজিলের বিমান নির্মাতা সংস্থা এমব্রায়ের। ভারতীয়…
নয়াদিল্লি: ভারতীয় বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট বা মাঝারি পরিবহণ বিমান কর্মসূচিকে সামনে রেখে বড় পরিকল্পনা করছে মহিন্দ্রা গ্রুপ এবং ব্রাজিলের বিমান নির্মাতা সংস্থা এমব্রায়ের। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য সি-৩৯০ মিলেনিয়াম (C-390 Millennium) পরিবহণ বিমান তৈরির সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে নাগপুরকে চিহ্নিত করেছে দুই সংস্থা। সেখানে বিমানের ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন বা চূড়ান্ত সংযোজন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই প্রকল্প এখনও চূড়ান্ত নয়। ভারত সরকার সি-৩৯০ মিলেনিয়ামকে বেছে নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে মহিন্দ্রা-এমব্রায়ের অংশীদারিত্বকে বরাত দিলেই প্রস্তাবিত কারখানা তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
নাগপুরে তৈরি হতে পারে সি-৩৯০-এর অ্যাসেম্বলি লাইন
মহিন্দ্রা এবং এমব্রায়ের জানিয়েছে, নাগপুরকে সম্ভাব্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতিমূলক আলোচনা চলছে। মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় শিল্প পরিকাঠামো তৈরি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা করছে দুই সংস্থা। মহিন্দ্রার বক্তব্য, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আগে থেকেই এগিয়ে রাখা হলে ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মসূচির বরাত পাওয়া গেলে প্রস্তাবিত কারখানা দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কারখানায় উৎপাদন কবে শুরু হবে, সেই সময়সীমাও ঘোষণা করা হয়নি।
২৬ টন পর্যন্ত মাল বহন করতে পারে সি-৩৯০
এমব্রায়ের সি-৩৯০ মিলেনিয়াম একটি বহুমুখী সামরিক পরিবহণ বিমান। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এটি ব্যবহার করা যায়। বিমানটি সৈন্য ও কার্গো পরিবহণ, আকাশপথে সরঞ্জাম বা সেনা নামানো, চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়া, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ এবং মানবিক সহায়তার মতো কাজে ব্যবহার করা যায়। সি-৩৯০ মিলেনিয়াম সর্বোচ্চ ২৬ টন পর্যন্ত পেলোড বহন করতে পারে। পাশাপাশি অস্থায়ী বা পাকা নয় এমন রানওয়ে থেকেও পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও মানবিক অভিযানে বিমানটি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট কর্মসূচি
ভারতীয় বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট বা এমটিএ কর্মসূচির জন্য সি-৩৯০ মিলেনিয়ামকে সামনে রেখে মহিন্দ্রা এবং এমব্রায়ের যৌথভাবে কাজ করছে। ভারতীয় বায়ুসেনার চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচিত বিমান দেশে তৈরি ও সংযোজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহিন্দ্রা-এমব্রায়ের অংশীদারিত্ব সফল হলে দেশে শুধু বিমান সংযোজন নয়, ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের বিমান সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাসেম্বলি থেকে শুরু করে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন
প্রস্তাবিত কারখানায় শুধু বিমানের চূড়ান্ত সংযোজনই হবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাসেম্বলি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো সক্ষমতা তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেনও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সি-৩৯০ বেছে নেওয়া হলে মহিন্দ্রা এবং এমব্রায়ের ধাপে ধাপে ভারতীয় বিমান ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলিকে এই শিল্প ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। এর মধ্যে বিমান তৈরির যন্ত্রাংশ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং ওভারহল বা এমআরও, প্রশিক্ষণ এবং বিমানের সম্পূর্ণ পরিষেবা-জীবন বা লাইফসাইকেল সাপোর্টের মতো ক্ষেত্রও থাকবে।
মহারাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা
মহিন্দ্রা গ্রুপের গ্রুপ এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য বিনোদ সাহায় মহারাষ্ট্র সরকারকে জমি বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ভারতীয় বায়ুসেনা সি-৩৯০ মিলেনিয়ামকে বেছে নেয় কি না এবং মহিন্দ্রা-এমব্রায়ের অংশীদারিত্বকে বিমান সরবরাহের বরাত দেওয়া হয় কি না তার উপর। এমব্রায়ের ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও বসকো দা কোস্তা জুনিয়র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করা ভারতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিবেশ বা অ্যারোস্পেস ইকোসিস্টেম তৈরির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
২০২৫ সালে শুরু হয়েছিল যৌথ পরিকল্পনা
সি-৩৯০ মিলেনিয়ামকে ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মসূচির জন্য এগিয়ে নিয়ে যেতে মহিন্দ্রা এবং এমব্রায়েরের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তার আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই সংস্থার মধ্যে একটি মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই সংস্থা ভারতে সি-৩৯০-এর এমআরও সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিল। তবে সেটিও বিমানটি ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য নির্বাচিত হওয়ার উপর নির্ভরশীল।
ভারতে তৈরি হতে পারে বড় অ্যারোস্পেস ইকোসিস্টেম
প্রস্তাবিত শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে এমব্রায়েরের বিমান ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং উৎপাদন সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মহিন্দ্রার উৎপাদন পরিকাঠামো এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ শিল্প নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। বিমানটি ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য নির্বাচিত হলে স্থানীয় সংস্থাগুলির জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। উৎপাদন থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত, ওভারহল, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা ব্যবস্থায় ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে আপাতত পুরো প্রকল্পটি সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত, ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রয় প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত হবে। এখনও বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি মহিন্দ্রা ও এমব্রায়ের।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business