পরিকল্পনা ফের পিছল! Aston Martin-এর প্রথম EV আসতে পারে 2033-35 সালে
ইলেকট্রিক গাড়ির বাজার দ্রুত বদলালেও সেই পথে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না Aston Martin। ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা সংস্থাটি তাদের প্রথম ব্যাটারি ইলেকট্রিক গাড়ি বা BEV-এর লঞ্চ আরও পিছিয়ে দিয়েছে। সংস্থার CEO Adrian Hallmark জানিয়েছেন, এখন আর প্রথম EV লঞ্চের জন্য কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়িটি 2033 থেকে 2035 সালের মধ্যে বাজারে আসতে পারে।
Autocar UK-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে Hallmark জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু বাজারে আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার আগে 2035 সালের কাছাকাছি সময়ে BEV আনলেই চলবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম Aston Martin EV 2035 সালে আসতে পারে, আবার 2033 সালেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে 2031 সালে লঞ্চ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
একাধিকবার পিছিয়েছে Aston Martin-এর EV পরিকল্পনা
Aston Martin-এর প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে পরিকল্পনা বেশ কয়েকবার বদলেছে। প্রথমে 2025 সালে EV আনার লক্ষ্য ছিল। পরে সেই সময়সীমা 2026 করা হয়। এরপর সংস্থা জানিয়েছিল, তাদের প্রথম EV 2030 সালের মধ্যে বাজারে আসতে পারে। এবার সেই সময়সীমাও পিছিয়ে 2033-35 সালের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
Hallmark-এর মতে, EV-এর চাহিদা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন দেশের আইন যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বহু বছর আগে থেকেই নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখ ঠিক করা কঠিন। তাই সংস্থা আপাতত নির্দিষ্ট কোনও বছর বা তারিখের বদলে তিন বছরের একটি সময়সীমা ধরে এগোচ্ছে।
‘BEV Denier’ নয়, ‘BEV Delayer’ Aston Martin
Aston Martin-এর EV কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Hallmark সংস্থাটিকে “BEV deniers” নয়, বরং “BEV delayers” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ সংস্থা বৈদ্যুতিক গাড়ির ভবিষ্যৎকে অস্বীকার করছে না, বরং প্রযুক্তি ও বাজার পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি জানিয়েছেন, 2035 সাল পর্যন্ত Aston Martin-এর ব্যবসা মূলত ICE বা অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন নির্ভর থাকবে।
এর পিছনে অন্যতম কারণ হলো সংস্থার গাড়ির তুলনামূলকভাবে উচ্চ দাম। 2024 সালে executive chairman Lawrence Stroll জানিয়েছিলেন, Aston Martin-এর নির্দিষ্ট মূল্যস্তরে EV-এর চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
চারটি EV আনার পরিকল্পনা ছিল
এর আগে Aston Martin একটি নির্দিষ্ট EV আর্কিটেকচারের উপর ভিত্তি করে চারটি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। সেই লাইনআপে একটি GT, একটি SUV, একটি crossover এবং একটি mid-engined supercar থাকার কথা ছিল। তবে EV বাজারের পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সেই পরিকল্পনার সময়সীমা পিছিয়ে যাচ্ছে।
Aston Martin ইতিমধ্যেই EV প্রযুক্তির জন্য Lucid-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। পাশাপাশি বর্তমান ইঞ্জিন সরবরাহকারী Mercedes-Benz-এর সঙ্গেও সংস্থার অংশীদারিত্ব রয়েছে।
Hallmark-এর বক্তব্য অনুযায়ী, EV প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি আরও উন্নত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে Lucid-এর কাছ থেকে পাওয়া প্রযুক্তিও আগের চুক্তির সময়কার প্রযুক্তির তুলনায় অনেকটাই আলাদা হতে পারে।
EV-তে বিনিয়োগ এখনই বাড়াচ্ছে না সংস্থা
Aston Martin-এর প্রথম EV নিয়ে এখনই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইছে না সংস্থা। Hallmark জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছর প্রযুক্তি, বাজার এবং বিভিন্ন দেশের আইন পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। ফলে আপাতত EV প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই কম। মূলত গবেষণা এবং প্রযুক্তি মূল্যায়নের পর্যায়েই রয়েছে সংস্থা।
প্রথম EV 2033 সালে এলেও তার আগে প্রায় তিন বছর Aston Martin বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন Hallmark।
2035 পর্যন্ত V8 ও V12 ইঞ্জিন থাকবে
EV পিছিয়ে গেলেও Aston Martin-এর combustion engine গাড়ির ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বরং সংস্থাটি অন্তত 2035 সাল পর্যন্ত V8 এবং V12 ইঞ্জিনকে নিয়ম মেনে উৎপাদনে রাখার পরিকল্পনা করছে।
Hallmark জানিয়েছেন, বড় এবং ছোট দুই ধরনের ইঞ্জিনকেই সেই সময়সীমা পর্যন্ত compliant রাখার জন্য Aston Martin-এর একটি roadmap রয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক বছরেও Aston Martin-এর গাড়িতে শক্তিশালী petrol engine দেখা যেতে থাকবে।
Plug-in Hybrid নিয়ে সংশয়
EV-এর পাশাপাশি hybrid প্রযুক্তিও Aston Martin-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। তবে plug-in hybrid বা PHEV নিয়ে সংস্থার বর্তমান অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে।
2024 সালে Stroll জানিয়েছিলেন, Aston Martin PHEV প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগ করবে। কিন্তু Hallmark এখন জানিয়েছেন, hybridisation থাকবে, তবে plug-in hybrid ব্যবহারের সম্ভাবনা কম।
এর অন্যতম কারণ PHEV ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ওজন। Hallmark-এর মতে, প্রায় 200 কেজি অতিরিক্ত ওজন performance-oriented Aston Martin-এর ক্ষেত্রে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
2030 থেকে 2035-এর মধ্যে পুরো লাইনআপ বদলাবে
Hallmark জানিয়েছেন, 2030 থেকে 2035 সালের মধ্যে Aston Martin-এর বর্তমান product line-up-এর বড় ধরনের পরিবর্তন হবে। নতুন গাড়িগুলির performance, quality এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে সংস্থার।
এর পাশাপাশি Valhalla hypercar-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও কাজ করছে Aston Martin। এই মডেলকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে বিশেষ সংস্করণের আরও derivative আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন Hallmark। এমনকি আলাদা roof design-সহ নতুন derivative আসতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন। Valhalla-এর platform-কে ভবিষ্যতের low-volume special edition মডেল তৈরির জন্যও ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
Rapide E-র অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ
Aston Martin-এর EV ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। 2019 সালে সংস্থাটি Rapide E নামে একটি electric four-door গাড়ি প্রকাশ করেছিল। মোট 155টি গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও customer delivery শুরু হওয়ার আগেই সেই production programme বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে Rapide E প্রকল্পটি customer car হিসেবে বাজারে আনার বদলে electrification research project-এ পরিণত হয়।
গাড়িটিতে ছিল 800V battery architecture এবং দুটি electric motor। সম্মিলিতভাবে 610hp-এর বেশি power এবং 950Nm torque উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে Aston Martin সেই অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রযুক্তির মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগোতে চাইছে। ফলে সংস্থার প্রথম mass-market নয়, বরং luxury performance-oriented BEV-এর জন্য এখন 2033-35 সালের সময়সীমাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business