নজরে অবৈধ অনুপ্রবেশ! মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম সেলের জালে ৬ বাংলাদেশি
মুম্বই পুলিশের খার থানার অ্যান্টি-টেররিজম সেলের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন (Bangladeshi)ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক। এঁরা মুম্বইয়ের খার এলাকায় একটি চক্র চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো…
মুম্বই পুলিশের খার থানার অ্যান্টি-টেররিজম সেলের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন (Bangladeshi)ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিক। এঁরা মুম্বইয়ের খার এলাকায় একটি চক্র চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো এবং ভারতীয় আধার কার্ডসহ অন্যান্য পরিচয়পত্র সংগ্রহের ব্যবস্থা করে আসছিলেন। পুলিশের তদন্তে এই তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
খার পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক আচরণ দেখে বান্দ্রা ট্রাফিক চৌকির কাছে এসভি রোডে এই ছয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলাও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তাঁরা বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা ভ্রমণ নথি ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং ভায়ান্দার এলাকায় অবস্থান করছিলেন। চারজনকে এর আগেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশের রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে।
আরও দেখুনঃ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় কেন্দ্রের নয়া অফশোর এক্সপ্লোরেশন প্রকল্প ‘সমুদ্র মন্থন’
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ইকবাল আকবরালি শেখ ওরফে গৌতম সুনিল দত্তকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। (Bangladeshi)তিনি অন্যদের ভারতে প্রবেশ, থাকার ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতেন বলে অভিযোগ। বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে নির্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তকালে পুলিশ বাংলাদেশি পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
এই ঘটনায় পুলিশের নজরে এসেছে যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করার একটা নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং অন্যান্য নথি তৈরি করে তাঁদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। এতে তাঁরা সহজেই কাজ খুঁজে নিতেন এবং স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেতেন। পুলিশ বলছে, এই ধরনের চক্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
মুম্বইয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা নতুন নয়। (Bangladeshi)সময়ে সময়ে পুলিশ এ ধরনের অভিযান চালিয়ে থাকে। তবে এবারের ঘটনায় খার এলাকায় সরাসরি অপারেশন চালিয়ে দ্রুত গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ইকবাল প্রায় পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করতেন এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ এখন এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজ করছে।
কতজনকে এইভাবে ভারতীয় নথি দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে আধার কার্ড তৈরি করা হত সেই বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে কতটা জাল। রেলওয়ে টিকিটসহ অন্যান্য কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এই গ্রেফতার অভিযান শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল নথি তৈরির চক্র ভাঙতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় মানুষও এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ বলছে, কেউ যদি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পান তাহলে দ্রুত জানাতে হবে।