ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? ইরান-রাশিয়া থেকে ইউক্রেনের নতুন কৌশল
আধুনিক যুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ইরান ও রাশিয়ার ব্যবহারের পর এবার নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথমবার ব্যবহার করার দাবি করেছে ইউক্রেন (Ukraine War)। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের তৈরি এফপি-৭ ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।
১ অক্টোবর এই ঘোষণা করেন জেলেনস্কি। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠিক কোথায়, কোন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এবং কতগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, সেই তথ্য ইউক্রেন প্রকাশ করেনি। ফলে প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের ব্যবহারের দাবি এখনও স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে এই ঘটনা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি তুলনামূলক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আধুনিক যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠছে।
২৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা এফপি-৭-এর
ইউক্রেনের সংস্থা ফায়ার পয়েন্ট এফপি-৭ তৈরি করেছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ গতি প্রায় ১,৫০০ মিটার প্রতি সেকেন্ড, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫,৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
এটি মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি এবং শত্রুর পিছনের এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে কমান্ড পোস্ট, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের গুদাম, রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র।
এফপি-৭-কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এটিএসিএমএস-এর সঙ্গে তুলনা করা হলেও ইউক্রেনের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র হওয়ায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধের প্রশ্নটি আলাদা।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন এত কঠিন লক্ষ্য?
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল শক্তি হল এর অত্যন্ত বেশি গতি এবং উড়ানের গতিপথ। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর অনেকটা উঁচুতে উঠে গিয়ে নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে এবং পরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাছে শনাক্ত করা, গতিপথ নির্ধারণ করা এবং উপযুক্ত ইন্টারসেপ্টর ছোড়ার জন্য সময় তুলনামূলকভাবে কম থাকে। বিশেষ করে ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রের কয়েকশো কিলোমিটারের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানতে পারে। এ কারণেই আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু বিমান বা ড্রোন নয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধেও প্রস্তুত থাকতে হয়।
ইরান দেখিয়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি
ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলিতেও ইরান বিপুল সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে এই অস্ত্রের গুরুত্ব সামনে এনেছে। ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়।
কারণ প্রতিটি ধরনের অস্ত্রের জন্য একই ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা যায় না। ফলে প্রতিরক্ষাকারীকে একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইন্টারসেপ্টর প্রস্তুত রাখতে হয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অত্যন্ত বেশি গতি এবং শেষ পর্যায়ে দ্রুত নেমে আসার গতিপথ প্রতিরক্ষার জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
রাশিয়াও একই কৌশল ব্যবহার করছে
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করেছে। ইস্কান্দার-এম এবং কিঞ্জাল-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া ইউক্রেনের সামরিক এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।
একাধিক ধরনের আকাশপথের অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে হয়। এই অভিজ্ঞতাই ইউক্রেনকে নিজেদের ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার দিকে আরও জোর দিতে উৎসাহিত করেছে।
কেন নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চাইছে ইউক্রেন?
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলির কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার অস্ত্র পেয়েছে। কিন্তু সরবরাহের পরিমাণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা সামরিক বিধিনিষেধ থাকতে পারে। নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারলে কিয়েভের হাতে একটি স্বাধীন দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি হবে।
এফপি-৭ সেই বৃহত্তর দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থারই একটি অংশ। ইউক্রেন ইতিমধ্যেই দীর্ঘপাল্লার ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যোগ হলে দেশটির নিজস্ব দূরপাল্লার আঘাত হানার ব্যবস্থাটি আরও স্তরযুক্ত হতে পারে।
ভারতের কাছেও রয়েছে প্রলয়
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে শুধু ইউক্রেন নয়। ভারতও বহু বছর ধরে নিজেদের ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তৈরি করছে।
এর অন্যতম উদাহরণ প্রলয়। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও-র তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র একটি দেশীয় সলিড-প্রপেল্যান্ট কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এতে উন্নত গাইডেন্স ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রলয়ের পরপর দুটি উড়ান পরীক্ষা সফলভাবে করা হয়েছিল। ডিআরডিও জানিয়েছিল, পরীক্ষাগুলি সেনার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পাল্লায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য করা হয়েছিল।
প্রলয়ের সম্ভাব্য পাল্লা কনফিগারেশন অনুযায়ী প্রায় ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার বলে প্রকাশিত তথ্য রয়েছে। এটি প্রচলিত বা কনভেনশনাল ওয়ারহেড বহনের জন্য তৈরি এবং নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রলয়ের বিশেষত্ব কোথায়?
প্রলয়কে সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সরল গতিপথে সীমাবদ্ধ না রেখে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে উড়ানের নির্দিষ্ট পর্যায়ে গতিপথে পরিবর্তন আনা যায়।
এই ধরনের কোয়াসি-ব্যালিস্টিক বা ম্যানুভারিং সক্ষমতা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ইন্টারসেপশনকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পরীক্ষায় ডিআরডিও জানিয়েছিল, দুটি পরপর পরীক্ষাই নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে।
পাকিস্তান ও চিনও বাড়াচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা
দক্ষিণ এশিয়াতেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা নতুন নয়। পাকিস্তানের কাছে শাহিন সিরিজের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। পাশাপাশি স্বল্পপাল্লার নাসর ব্যবস্থাও দেশটির কৌশলগত অস্ত্রভাণ্ডারের অংশ।
চিনের ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা আরও বড় আকারের। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রি-র ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, চিনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৬২০-তে পৌঁছেছে। সিপ্রি জানিয়েছে, চিন অন্য যেকোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তুলনায় দ্রুত হারে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে। চিন একইসঙ্গে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার অস্ত্রের পরিকাঠামোও বাড়াচ্ছে।
আধুনিক যুদ্ধে কেন বদলে যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা?
আধুনিক যুদ্ধের বড় পরিবর্তনগুলির একটি হল, আকাশপথে আঘাত হানার জন্য এখন শুধু যুদ্ধবিমান ব্যবহার করলেই হচ্ছে না। ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র একই অভিযানে একসঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর ফলে আক্রমণকারী একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি করতে পারে। ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘসময় নজরদারি বা আক্রমণ চালাতে পারে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিচু উচ্চতায় নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে পারে। আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়।
তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও সব সমস্যার সমাধান নয়
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি থাকলেও এগুলি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল অস্ত্র। কার্যকর সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে শুধু একটি বা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য উৎপাদন ব্যবস্থা, সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, গাইডেন্স প্রযুক্তি, পরিবহণ এবং পর্যাপ্ত সংখ্যায় অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা। ইউক্রেনের এফপি-৭-এর ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে উৎপাদনের গতি এবং নিয়মিতভাবে কত সংখ্যায় এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা সম্ভব হয়।
জেলেনস্কি প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবহারের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি বড় আকারে উৎপাদনের কথা বলেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে বা প্রথম অভিযানে কতগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
ড্রোনের যুগেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন ফিরে আসছে?
আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের সমন্বিত ব্যবহার। ড্রোন সস্তা এবং সংখ্যায় বেশি হতে পারে, কিন্তু সব লক্ষ্যবস্তুর জন্য তা যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা, কমান্ড সেন্টার বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দ্রুত এবং ভারী আঘাতের প্রয়োজন হলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভূমিকা আলাদা।
ইরান, রাশিয়া, ইউক্রেন এবং ভারতের অস্ত্র কর্মসূচির দিকে তাকালে তাই একটি প্রবণতা স্পষ্ট: দূরপাল্লার আঘাতের সক্ষমতা এখন শুধু বড় শক্তিধর দেশগুলির হাতে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না অনেক দেশ।
ইউক্রেনের এফপি-৭-এর প্রথম যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবহার সেই পরিবর্তনের সাম্প্রতিক উদাহরণ। আর ভারতের প্রলয় দেখাচ্ছে, এই প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়াতেও বহুদিন ধরেই তৈরি হচ্ছে।
Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।