পদবি মানে মশা! ফ্লাইদুবাইয়ের বীর পাইলট স্মিত মচ্ছরের নামের পেছনের চমৎকার ইতিহাস
নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান এবং শতাধিক যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন…
নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান এবং শতাধিক যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে বিশ্বজুড়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। ওমানি কো-পাইলটের নৃশংস ছুরিকাঘাত এবং ককপিটে হামলার পরেও তাঁর ওই হিরোসুলভ উপস্থিতি বুদ্ধি গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। তবে এই বীরত্বের খবরের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের কাপের আড্ডায় সাধারণ মানুষের মনে একটি কৌতূহলী প্রশ্ন বারবার ঘুরেফিরে এসেছে, “মচ্ছর” (Machchhar), এটা আবার কেমন পদবি?
শব্দটি হুবহু হিন্দিতে ‘মশা’ (Mosquito)-র সঙ্গে মিলে যাওয়ায় এই কৌতূহল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। সাংবাদিক শীলা ভাট এক্স (X)-এ লিখেছিলেন, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পর্যন্ত লোকে এই প্রশ্ন করেছে। কিন্তু একটু গভীরে খোঁজ নিলেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, গুজরাতি এবং পশ্চিম ভারতের পদবি সংস্কৃতির এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় ঐতিহ্যের অংশ হলো এই ‘মচ্ছর’ পদবি।
তদন্তে জানা যায়, ‘মচ্ছর’ একটি অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত গুজরাতি পদবি। বিশেষ করে সিন্ধু ও কচ্ছ অঞ্চলের বনিক বা ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ‘লোহানা’ এবং ‘নাগর ব্রাহ্মণ’ সমাজের মধ্যে এই পদবির প্রচলন রয়েছে।
১৯৪২ সালে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক বিনোদিনী নীলকণ্ঠ তাঁর ‘গুজরাতি অতকোনো ইতিহাস’ (History of Gujarati Surnames) নামক গ্রন্থে গুজরাতি পদবির উৎপত্তির ওপর আলোকপাত করেছিলেন। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, জেনারেটর পর জেনারেটর শব্দ বদলে যাওয়া, পরিবারের আদি বাসস্থান বা কোনো বিশেষ উপনাম (Nick-name) বংশপরম্পরায় পদবি হিসেবে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার বহু ইতিহাস রয়েছে গুজরাটে।
এই প্রসঙ্গে গবেষক ও সাংবাদিক সৌরভ শাহ ‘ভাগবত গোমণ্ডল কোশ’ (Bhagvad Gomandal Kosh)-এর প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছেন, গুজরাতি অভিধান অনুযায়ী ‘মচ্ছর’ শব্দের একটি অর্থ হলো ‘শক্তি, তেজ বা উদ্দীপনা’ (Vigor or Passion)। অর্থাৎ, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর তাঁর কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তাঁর এই পদবিটি সম্পূর্ণ অর্থবহ এবং তিনি সাহসিকতার সঙ্গেই তা সার্থক করেছেন।
পদবি নিয়ে আরও কিছু মজার তথ্য
গুজরাতি নাগর সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন বহু পদবি রয়েছে যা শুনলে প্রথমে অন্য অর্থ মনে হতে পারে। যেমন- ‘হাথি’ (যার অর্থ হাতি), ‘ঘোড়া’ (ঘোড়া), ‘মঙ্কড’ (ছারপোকা বা পোকা বিশেষ) এবং ‘পোপাত’ (টিয়া পাখি)।
অনেক সময় গ্রামের নামের সঙ্গে মিল রেখেও পদবি তৈরি হয়েছে। যেমন- ‘ঘোড়া’ এসেছে ঘোড়াদ্রা থেকে, ‘হাথি’ এসেছে হাতাপ থেকে।
অধ্যাপক বিনোদিনী নীলকণ্ঠের মতে, মচ্ছর পদবিটি সংস্কৃত বা গুজরাতি শব্দ ‘মৎসরের’ (যার অর্থ হিংসা বা ঈর্ষা) পরিবর্তিত রূপ হতে পারে, কিংবা যেখানে প্রচুর মশার উপদ্রব ছিল এমন কোনো অঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিচ থেকেও এটি এসে থাকতে পারে। এমনকি মানুষের কোনো বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা মজার স্বভাবের কারণেও অনেক সময় উপনাম বা ‘উপনাম’ বংশের পদবি হয়ে থেকে যায়।
সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের করাচিতেও ‘মচ্ছর কলোনি’ নামে একটি বিশাল এলাকা রয়েছে। তবে পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেটির সঙ্গেও মশার কোনো সম্পর্ক নেই, বরং ওখানকার স্থানীয় মৎস্যজীবী বা জেলে সম্প্রদায়ের সিন্ধি শব্দের সঙ্গে ওই নামের যোগ রয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত একটি পতঙ্গের সঙ্গে নাম মিলে যাওয়ায় এই পদবি নিয়ে যতই কৌতূহল থাক না কেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের মাধ্যমে এই গুজরাতি পদবিটিকে আজ কেবল একটি অঞ্চলের গণ্ডিতে আটকে রাখেননি, বরং এটিকে বিশ্ববাসীর কাছে এক অনন্য সাহস ও গৌরবের প্রতীকে পরিণত করেছেন।
হাইজ্যাক আটকানো স্মিত মচ্ছরকে অশোক চক্র দেওয়ার অনুরোধ শিবসেনা সাংসদের
ভারতে ঢুকে সন্ত্রাসের চেষ্টা বিফল! BSF র গুলিতে ৭২ হুর পেল ২ পাক জঙ্গি