Porsche Cayenne Electric ভারতে লঞ্চ আজ, ৬৪২ কিমি রেঞ্জ ও ১১৫৬ হর্সপাওয়ার - 24 Ghanta Bangla News
Home

Porsche Cayenne Electric ভারতে লঞ্চ আজ, ৬৪২ কিমি রেঞ্জ ও ১১৫৬ হর্সপাওয়ার

Spread the love

ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে পোর্শে কেয়েন ইলেকট্রিক (Porsche Cayenne Electric)।  আজ, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ অর্থাৎ বুধবার ভারতের বাজারে নতুন এই সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক এসইউভির আত্মপ্রকাশ…

ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে পোর্শে কেয়েন ইলেকট্রিক (Porsche Cayenne Electric)।  আজ, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ অর্থাৎ বুধবার ভারতের বাজারে নতুন এই সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক এসইউভির আত্মপ্রকাশ হবে। প্রায় এক বছর আগে ভারতে মডেলটি আনার কথা জানিয়েছিল পোর্শে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে।

লঞ্চের সময় গাড়িটি দুটি ভ্যারিয়েন্টে আসবে, কেয়েন ইলেকট্রিক এবং কেয়েন টার্বো ইলেকট্রিক। দুটিতেই রয়েছে ১১৩ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি, ডুয়াল ইলেকট্রিক মোটর এবং অল-হুইল ড্রাইভ। পোর্শের অফিসিয়াল তথ্যেও এই দুটি ভ্যারিয়েন্টকে প্রাথমিক লঞ্চ মডেল হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

১১৩ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি, ৬৪২ কিমি রেঞ্জ

স্ট্যান্ডার্ড কেয়েন ইলেকট্রিক-এ রয়েছে ১১৩ কিলোওয়াট আওয়ার ব্যাটারি। গাড়িটি সর্বোচ্চ ৪০৮ হর্সপাওয়ার এবং ৮৩৫ এনএম টর্ক তৈরি করতে পারে। ০ থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৪.৮ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ২৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ। পোর্শের দাবি অনুযায়ী, কেয়েন ইলেকট্রিকের সর্বোচ্চ ৬৪২ কিমি ডব্লিউএলটিপি রেঞ্জ রয়েছে।

অন্যদিকে, পারফরম্যান্সের দিক থেকে আরও শক্তিশালী কেয়েন টার্বো ইলেকট্রিক। লঞ্চ কন্ট্রোল সক্রিয় থাকলে এর সর্বোচ্চ পাওয়ার ১,১৫৬ হর্সপাওয়ার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ০ থেকে ১০০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ২.৫ সেকেন্ড এবং সর্বোচ্চ গতি ২৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। এর ডব্লিউএলটিপি রেঞ্জ সর্বোচ্চ ৬২৩ কিমি।

৬০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত রিজেনারেটিভ ব্রেকিং

কেয়েন ইলেকট্রিকের অন্যতম প্রযুক্তিগত আকর্ষণ হল এর রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম। পোর্শের দাবি, আদর্শ পরিস্থিতিতে গাড়িটি সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত শক্তি পুনরুদ্ধার করতে পারে। প্রতিদিনের ব্যবহারে প্রায় ৯৭ শতাংশ ব্রেকিং শুধুমাত্র ইলেকট্রিক মোটরের মাধ্যমে সামলানো সম্ভব বলে জানিয়েছে পোর্শে। ফলে প্রচলিত মেকানিক্যাল ব্রেকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। দুই ভ্যারিয়েন্টেই অ্যাডাপটিভ এয়ার সাসপেনশন স্ট্যান্ডার্ড। রিয়ার-অ্যাক্সেল স্টিয়ারিং অতিরিক্ত অপশন হিসেবে পাওয়া যাবে।

চেহারায় কেয়েনের পরিচিত ডিজাইন

সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক হলেও নতুন কেয়েনের ডিজাইনে পরিচিত কেয়েনের সিলুয়েট ধরে রেখেছে পোর্শে। তবে সামনে রয়েছে নতুন ডিজাইন। ইলেকট্রিক এসইউভিতে বন্ধ গ্রিল, ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখার জন্য দুপাশে এয়ার ভেন্ট এবং সক্রিয় অ্যারোডায়নামিক এলিমেন্ট রয়েছে। গ্লস-ব্ল্যাক লোয়ার ক্ল্যাডিং, ২০ থেকে ২২ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল এবং পুরো প্রস্থ জুড়ে এলইডি লাইট বার থাকছে।

লাইট বারের মাঝখানে আলোকিত পোর্শে লেখা থাকবে। টার্বো ইলেকট্রিক মডেলে বডি-কালার স্কিড প্লেট পাওয়া যাবে, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড মডেলে কালো ফিনিশ ব্যবহার করা হয়েছে।

৪,৯৮৫ মিমি লম্বা, ৭৮১ লিটারের বুট

কেয়েন ইলেকট্রিকের দৈর্ঘ্য ৪,৯৮৫ মিমি, যা প্রচলিত ইঞ্জিনের কেয়েনের তুলনায় ৫৫ মিমি বেশি। এর হুইলবেস ৩,০২৩ মিমি, প্রস্থ ১,৯৮০ মিমি এবং উচ্চতা ১,৬৭৪ মিমি। ব্যবহারিকতার দিক থেকেও বড় এসইউভি হিসেবে যথেষ্ট জায়গা থাকছে। সামনে ৯০ লিটারের ফ্রাঙ্ক এবং পিছনে ৭৮১ লিটারের বুট রয়েছে। পিছনের পাওয়ার সিট ভাঁজ করলে বুট স্পেস বেড়ে ১,৫৮৮ লিটার হতে পারে।

ভারতে প্রথমবার ১৪.৫ ইঞ্চির কার্ভড ডিসপ্লে

কেবিনে রয়েছে ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে এবং ১৪.৫ ইঞ্চির কার্ভড ইনফোটেনমেন্ট টাচস্ক্রিন। ভারতে পোর্শের কোনও মডেলে এই ধরনের ডিসপ্লে প্রথমবার দেখা যাচ্ছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। অপশন হিসেবে পাওয়া যাবে ১৪.৯ ইঞ্চির প্যাসেঞ্জার ডিসপ্লে এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি হেড-আপ ডিসপ্লে। স্ট্যান্ডার্ড ফিচারের মধ্যে রয়েছে আট-ওয়ে ইলেকট্রিক্যালি অ্যাডজাস্টেবল ফ্রন্ট সিট, যা ১৮-ওয়ে সিটে আপগ্রেড করা যাবে। সঙ্গে চার-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, প্যানোরামিক সানরুফ এবং ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং রয়েছে। অডিওর জন্য স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ১৪-স্পিকার বোস সিস্টেম থাকছে। চাইলে ২০-স্পিকার হারমান কার্ডন সিস্টেম নেওয়া যাবে।

১১ কিলোওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং

কেয়েন ইলেকট্রিকের আরও একটি উল্লেখযোগ্য ফিচার হল ঐচ্ছিক ১১ কিলোওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সিস্টেম। সামঞ্জস্যপূর্ণ ওয়ালবক্স এবং ফ্লোর প্লেট ব্যবহার করে গাড়ি পার্ক করলেই কেবল সংযোগ ছাড়াই চার্জিং শুরু করা সম্ভব।

গাড়িটিতে ৮০০ ভোল্ট আর্কিটেকচার রয়েছে এবং ডিসি ফাস্ট চার্জিংয়ে সর্বোচ্চ ৩৯০ কিলোওয়াট পর্যন্ত চার্জিং পাওয়ার পাওয়া যায়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই ক্ষমতা ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত যেতে পারে। আদর্শ পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হতে ১৬ মিনিটেরও কম সময় লাগতে পারে।

ভারতে কেয়েন ইলেকট্রিকের দাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নতুন এই বৈদ্যুতিক এসইউভি প্রিমিয়াম ইভি বাজারে অডি কিউ৮ ই-ট্রন, বিএমডব্লিউ আইএক্স এবং লোটাস এলেট্রে-র মতো মডেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে চূড়ান্ত ভারতীয় দাম এবং স্পেসিফিকেশন আগামীকালের লঞ্চেই পরিষ্কার হবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *