INDIA Alliance Mamata-Abhishek: বাংলা খুইয়ে দিল্লিতে আর ছরি ঘোরানো হল না মমতার, বাগে পেয়ে ‘ভাও’ বোঝালেন রাহুল | Former CM Mamata Banerjee and Abhishek Banerjee loose their control in INDIA alliance
সালটা ২০২৫, বাংলার মসনদে তখন তৃণমূল। বেজায় দাপট ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)।সেই সময় SIR নিয়ে লাগাতার আন্দোলন-বিদ্রোহ-বিক্ষোভ চলছে এ রাজ্যে। আর ঝাঁঝালো বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমনকি, আক্রমণ করতে ছাড়েননি নিজেদের ‘জোট সঙ্গী’ কংগ্রেসকে। বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস যদি ভোটার তালিকার এই চুরি ধরতে পারত, তা হলে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং বিহারে বিজেপি জিতত না।’ এরপর বছর ঘুরেছে। ভোটে হেরে রাজ্যপাট চলে গিয়েছে। দল ছাড়খার। লোগো হাতছাড়া। কার্যত, আজ ‘সর্বহারা’ হয়ে ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা ঢুকতেই সরলেন রাহুল
বুধবার, নয়া দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে একজোট হয়েছে বিরোধী দলগুলি। সেখানে উপস্থিত মমতা-অভিষেক। কিন্তু সেই উপস্থিতি যেন চোখেই পড়ল না কারও। এমনও দৃশ্য দেখা গেল যখন মমতা-অভিষেক ঢুকছেন, বুড়ি ছোঁয়ার মতো শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে গেলেন রাহুল গান্ধী।
ইন্ডি জোটের দণ্ড-মুন্ডের কর্তা রাহুল?
এই রাহুল গান্ধীকেই একসময় ভোটচুরি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করতে দেখা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ একদম স্পিকটি নট। তবে কি ইন্ডি জোটের দণ্ড-মুন্ডের কর্তা রাহুল? ইন্ডি জোটে ক্রমেই কমছে মমতা-অভিষেকের গুরুত্ব?
একটা সময় ছিল এ রাজ্যে সবুজ ঝড়ের দাপটে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাগ কাটা কার্যত মুশকিল হত। ২০২৪ এর লোকসভা ভোটে বিপুল জনমত নিয়ে তৃণমূল জিতেছিল। পরে যখন কেন্দ্রে বিজেপিকে রুখতে ‘ইন্ডিয়া’ জোট তৈরি হয়, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ঝোড়ো ‘দাপট’ ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরপর হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং বিহারে যখন সতীর্থ দলগুলি পরাজিত হতে শুরু করে তখন দলীয় নেতাদের পাশে থাকার থেকে কটাক্ষের সুর বেশি শোনা যেত অভিষেকের গলায়। অভিষেক বলেছিলেন, ‘সমমনস্ক দলগুলিকে, বিশেষত যারা বিজেপি বিরোধী তাদের বলব, ভোটার তালিকার চুরি ধরতে হবে। তৃণমূলই এক মাত্র দল যারা এটা ধরে ফেলেছে।’
লাইম লাইটে অভিষেক কই?
কিন্তু ‘ভোট চুরি’-‘ভোট চুরি’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেও আখেরে লাভের লাভ হল না। বাংলায় বিজেপির ঝড়ে ধস্ত হয়ে গেল তৃণমূল। আজ যখন বৈঠক হল অভিষেক তো মমতার সঙ্গে গিয়েছেন ঠিকই কিন্তু ‘লাইম লাইটে কই?’ সাংবাদিক বৈঠক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করলেও একবারও অভিষেকের নাম নেননি। সংবাদ মাধ্যমেরও মুখোমুখি হন রাহুল নিজে।
এরপর ধরা পড়ল আরও একটি ছবি। চোকো টেবিলে সনিয়া গান্ধীর পাশে বসলেও রাহুল কিন্তু দূরত্ব বজায় রাখলেন। আর দূরেই বসে রইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে আর দেখা যায়নি তাঁকে। অতীতে যখন বৈঠক হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরাবর মধ্যমণি হিসাবে দেখা গিয়েছে। বক্তব্য রেখেছেন অভিষেকও। আজ চুপ কেন? রাজনৈতিক মহল আলোচনা করছে, বাংলা খুইয়েছেন বলেই কি আর দিল্লিতেও সেই ছড়ি ঘোরাতে পারলেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?