দুবাই-তেল আবিব গামী বিমানে হাইজ্যাক আতংক! পাঠানো হল জরুরি সংকেত
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে বুধবার বড় ধরনের হাইজ্যাক (flight hijack)আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠানোর পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার…
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইদুবাই বিমানে বুধবার বড় ধরনের হাইজ্যাক (flight hijack)আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠানোর পর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়। পরে জানা যায়, পাইলটদের মধ্যে ঝগড়ার কারণেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল। কোনো হাইজ্যাক হয়নি। বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটটি সকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। (flight hijack)বিমানটিতে প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। উড়ানের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশের সময় বিমানটি জরুরি ট্রান্সপন্ডার কোড পাঠায়। প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ৭৭০০ এবং পরে হাইজ্যাক বা অবৈধ হস্তক্ষেপ নির্দেশক কোড ৭৫০০ পাঠানো হয়।
আরও দেখুনঃ
এই সংকেত পাওয়ার পর ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সতর্ক হয়ে যায় এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বিমানটি তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করে এবং উচ্চতা কমিয়ে দেয়। কিছু সময়ের জন্য ফ্লাইট ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকেও বিমানটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।
পরে স্পষ্ট হয় যে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ বা তীব্র ঝগড়া হয়েছিল।(flight hijack) সেই ঘটনার জেরেই জরুরি সংকেত সক্রিয় হয়ে যায়। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো হাইজ্যাক নয়, বরং ককপিটের অভ্যন্তরীণ একটি ঘটনা। ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, পাইলটদের মধ্যে বিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।বিমানটি অবশেষে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
যাত্রীদের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়। ঘটনাটি পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল, কারণ দুবাই-তেল আবিব রুটটি ইসরায়েলি যাত্রীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়।বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ অত্যন্ত বিরল এবং গুরুতর।
এ ধরনের ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, আকাশপথে নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত হাইজ্যাকের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবুও যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা ভয়ের মধ্যে কাটিয়েছেন।