এল নিনোর আশঙ্কায় খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমাল কেন্দ্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

এল নিনোর আশঙ্কায় খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমাল কেন্দ্র

Spread the love

এল নিনোর প্রভাব আগামী কয়েক মাসে আরও বাড়তে পারে। তার মধ্যেই দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন (Foodgrain Production) নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিল কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ ফসল বছরে ৩৭৩.৯৩…

এল নিনোর প্রভাব আগামী কয়েক মাসে আরও বাড়তে পারে। তার মধ্যেই দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন (Foodgrain Production) নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিল কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ ফসল বছরে ৩৭৩.৯৩ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৫-২৬ ফসল বছরে প্রকৃত উৎপাদনের তুলনায় এই লক্ষ্য প্রায় ২.৬৩ মিলিয়ন টন কম।

ফসল বছর জুলাই থেকে পরের বছরের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। এল নিনো, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং দেশের কয়েকটি রাজ্যে খরার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ সালে রেকর্ড উৎপাদন

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ ফসল বছরে খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬২.৬০ মিলিয়ন টন। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টন। এরপর ২০২৬-২৭ সালের জন্য উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৩৭৩.৯৩ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ আগের বছরের প্রকৃত উৎপাদনের তুলনায় লক্ষ্যমাত্রা কম হলেও তা ৩৭০ মিলিয়ন টনের উপরে রাখা হয়েছে। জাতীয় রাজধানীতে আয়োজিত দু’দিনের ন্যাশনাল কনফারেন্স ফর রবি ক্যাম্পেন-এর পর সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী।

রবি মরশুমে উৎপাদনের লক্ষ্য বাড়ানো হয়েছে

২০২৬-২৭ ফসল বছরে রবি খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ১৭৭.৭২ মিলিয়ন টন। ২০২৫-২৬ সালে রবি মরশুমে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছিল ১৭৪.৫১ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ রবি মরশুমের জন্য এবার আগের বছরের প্রকৃত উৎপাদনের তুলনায় বেশি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র। রবি মরশুমের অন্যতম প্রধান ফসল হল গম। তাই গম-সহ অন্যান্য রবি ফসলের উৎপাদন বাড়ানো এবারের কৃষি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

খরিফ খাদ্যশস্যে বড় লক্ষ্য, কিন্তু জমি কমেছে কয়েকটি ফসলে

২০২৬-২৭ ফসল বছরে খরিফ খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ১৯৬.২১ মিলিয়ন টন। ২০২৫-২৬ সালের খরিফ মরশুমে প্রকৃত উৎপাদন হয়েছিল ১৭৪.১৪ মিলিয়ন টন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফসলের চাষের জমি কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে ধানের জমি। প্রায় ১৬.৩২ লক্ষ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ কম হয়েছে। এছাড়াও ভুট্টা, সয়াবিন এবং তুলার চাষের জমিও কমেছে। অন্যদিকে উরদ, বাজরা, জোয়ার, তিল, সূর্যমুখী, মুগ এবং তুর ডালের চাষের জমি বেড়েছে।

বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে কী বললেন কৃষিমন্ত্রী?

বর্তমানে দেশের বৃষ্টিপাতের ঘাটতি প্রায় ১২ শতাংশ বলে জানিয়েছেন শিবরাজ সিং চৌহান। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও পরিস্থিতিকে সাধারণত খরা হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ে বৃষ্টির ঘাটতি ২০ শতাংশের বেশি হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমা। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান ঘাটতির মাত্রায় খাদ্যশস্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। চূড়ান্ত উৎপাদনের হিসাবও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব এবং বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র নজর রাখছে।

কর্ণাটক থেকে রাজস্থান, একাধিক রাজ্যে উদ্বেগ

কৃষি মন্ত্রকের কাছে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য এসেছে, তাতে কয়েকটি রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশ, তেলঙ্গানার কিছু এলাকা এবং রাজস্থানের কিছু অঞ্চল। অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষেত্রে রায়লসীমা ও সংলগ্ন এলাকাতেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে রাজ্যগুলির কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট এখনও আসা বাকি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। কর্ণাটক ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর অনুরোধ করেছে। আগামী ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় একটি দল রাজ্যটি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন দল পাঠানোর অনুরোধ করেছেন। সেখানেও কেন্দ্রীয় দল পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন চৌহান।

কম বৃষ্টির এলাকায় বদলাতে পারে চাষের ধরন

কেন্দ্রীয় সরকার এবার রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জল availability, মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ, জলাধারের স্তর এবং স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বৃষ্টি কম হয়েছে এবং জলাধার ও মাটির আর্দ্রতা কম, সেখানে বেশি জল প্রয়োজন হয় এমন ফসল এড়িয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তার পরিবর্তে ওইসব এলাকায় ডাল এবং তৈলবীজ জাতীয় ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে কম জলের পরিস্থিতিতেও কৃষিজমি যাতে পড়ে না থাকে, সেটাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষকদের এফটিএ সুবিধা জানাতে দেশজুড়ে প্রচার

খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন কৃষিমন্ত্রী। শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, ভারত গত কয়েক বছরে যে একাধিক ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা এফটিএ করেছে, তার সুবিধা সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করতে দেশজুড়ে প্রচার চালাবে কেন্দ্র। এই চুক্তিগুলির মাধ্যমে ভারতীয় কৃষিপণ্যের জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক বাজারে শূন্য আমদানি শুল্কে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যগুলিকেও এই চুক্তিগুলির সম্ভাব্য সুবিধা সম্পর্কে জানানো হবে। কোন রাজ্যের কোন কৃষিপণ্য কোন আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি সুযোগ পেতে পারে, সেই বিষয়েও তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

২০১৪ সালের পর ৯টি এফটিএ

কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে ভারত ৯টি এফটিএ স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ চুক্তিগুলির একটি হল ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এফটিএ, যা ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন সেই চুক্তিগুলির সুযোগ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ানোই কেন্দ্রের লক্ষ্য।

এদিকে এল নিনো ও বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিজমি যাতে পড়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেও রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। আগামী কয়েক মাসে বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং জলসম্পদের অবস্থার উপরই খাদ্যশস্য উৎপাদনের চূড়ান্ত ছবিটা অনেকটা নির্ভর করবে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories – On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *