ফ্রিজে জমে রক্ত, রান্নাঘরে ইঁদুরের বিষ্ঠা-আরশোলা, মুম্বইয়ের শতাব্দী প্রাচীন ক্যাফের লাইসেন্স সাসপেন্ড
মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক ইরানি ক্যাফে Kyani & Co.-র ফুড সেফটি লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দিল মহারাষ্ট্র FDA। সোমবার এই খবর সামনে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে ভোজন রসিকদের মধ্যে। শুধু লাইসেন্স সাসপেন্ড করাই নয়, আপাতত খাবার তৈরি, বিক্রি এবং সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
১৯০৪-এ মুম্বইয়ের ধোবি তালাও এলাকায় ক্যাফেটি চালু করেছিলেন খোদারাম মারেজাবান নামে এক ইরানি ভদ্রলোক। তার পরে কেটে গিয়েছে একশো বছরেরও বেশি। কিন্তু এখনও ক্যাফেতে ঢুকলে সেই পুরোনো দিনের স্বাদ পাওয়া যায়। উঁচু ছাদ, কাঠের চেয়ার-টেবিল, দেওয়ালে টাঙানো সাদা-কালো ছবি। সস্তায় মেলে চা-জলখাবারও। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাফেতে হানা দেয় FDA।
পরিদর্শনে একের পর এক অনিয়ম সামনে আসে। অভিযোগ, রান্নাঘরেই ছিল খোলা নর্দমার ম্যানহোল। খাবার রাখা ছিল মেঝেতে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ইঁদুরের বিষ্ঠা, মরা আরশোলা। শুধু তাই নয়, কাঁচা ময়দার ডো ঢেকে রাখা হয়েছিল খবরের কাগজ দিয়ে। ফ্রিজে জমাট বাঁধা রক্তও মিলেছে বলে অভিযোগ।
ক্যাফের কর্মীদের বিরুদ্ধেও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা PPE কিট ছিল না প্রায় কারওরই। এই পরিস্থিতিতে Food Safety and Standards Act, 2006-এর 32(3) ধারার আওতায় ক্যাফেটির FSSAI লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি খাবার তৈরি, বিক্রি এবং সরবরাহ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মরশুমে রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে মহারাষ্ট্র FDA। ‘Safe Food, Safe Maharashtra’ কর্মসূচির আওতায় ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মিষ্টি, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, তেল, চাল, শুকনো ফল, নোনতা, চা, মশলা, সস, নুডলস এবং ওয়েফার-সহ মোট ৫০,৬০১.৭৮ কেজি অর্থাৎ প্রায় ৫০.৬ টন খাদ্যপণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য ১.১৯ কোটি টাকা।
FDA জানিয়েছে, অভিযানে এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের ৩০টি হোটেল-রেস্তোরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মুম্বইয়ে ১৩টি, কোঙ্কণে ৬টি, পুনেতে ৮টি এবং শম্ভাজিনগরে ৩টি। পাশাপাশি ২২টি FIR দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ জনকে। সিল করে দেওয়া হয়েছে ৩টি রেস্তোরাঁ।