অ্যাসিডিটি ভেবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন? সতর্ক করছেন কলকাতার চিকিৎসকরা - 24 Ghanta Bangla News
Home

অ্যাসিডিটি ভেবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ এড়িয়ে যাচ্ছেন? সতর্ক করছেন কলকাতার চিকিৎসকরা

Spread the love

কলকাতা: বুকের অস্বস্তি, চাপ বা হালকা ব্যথাকে (Heart Attack) অনেক সময় গ্যাস, অ্যাসিডিটি কিংবা বদহজমের সমস্যা বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু কলকাতার হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এমন উপসর্গ কখনও কখনও হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। বিশ্ব হার্ট দিবসের আগে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কলকাতায় হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রথম দিকের লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। এর মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ রোগী চিকিৎসা পেতে দেরি করার কারণে প্রাণ হারান বলে চিকিৎসকদের দাবি।

বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কম বয়সেও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং সবসময় তীব্র বুকব্যথা দিয়ে তার প্রকাশ নাও হতে পারে।

অ্যাসিডিটি নাকি হার্টের সমস্যা, বোঝা কঠিন

চার্নকক হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান তপোব্রত দে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হার্টের ব্যথা এবং গ্যাস বা অ্যাসিডিটির অস্বস্তির মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় রোগীর পক্ষে সহজ হয় না। তাঁর মতে, হৃদ্‌যন্ত্রজনিত ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখান থেকে শুরু হয়ে বাঁ হাত ও কাঁধের দিকে ছড়াতে পারে। আবার সেই অস্বস্তি পেটের দিকেও নামতে পারে এবং চোয়ালেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নড়াচড়ার সঙ্গে ব্যথা বাড়তে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে হার্টের সামান্য সমস্যা তুলনামূলক হালকা উপসর্গ তৈরি করে। রোগী সেটিকে গুরুত্ব না দিলে পরে তা বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকে পরিণত হতে পারে।  চার্নক হাসপাতালের বর্তমান কার্ডিওলজি পরিষেবাতেও ডা. তপোব্রত দে-র নাম রয়েছে। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, তিনি কার্ডিওলজি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত।

তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ

চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, কম বয়সি রোগীদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অনেক সময় খুব স্পষ্ট হয় না। কখনও আবার ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যাকে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়। পরিবারে কম বয়সে হৃদ্‌রোগের ইতিহাস থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তপোব্রত দে-র বক্তব্য, এই ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে রক্তনালিতে ব্লকেজ তৈরি হয়ে তা হঠাৎ ফেটে গিয়ে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক ঘটাতে পারে। তার আগে স্পষ্ট কোনও উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর কার্ডিয়াক রোগীদের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী উপসর্গ উপেক্ষা করার পর আচমকা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন।

শরীরে সমস্যা থাকলেও বোঝা যায় না সবসময়

বিএম বিড়লা হার্ট হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট এবং টিএভিআর বা টিএভিআই বিভাগের প্রধান জয় শোমের মতে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি অনেক সময় কোনও দৃশ্যমান উপসর্গের আগেই তৈরি হতে শুরু করে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এসে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করলেও তাঁর উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে বেশি শর্করা কিংবা অস্বাভাবিক লিপিড প্রোফাইল থাকতে পারে। তাৎক্ষণিক কোনও অস্বস্তি না থাকায় রোগী হয়তো এই রিপোর্টগুলিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির ইঙ্গিত হতে পারে। তাঁর মতে, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, ওজন এবং পারিবারিক হৃদ্‌রোগের ইতিহাসের মতো বিষয় নিয়মিত নজরে রাখলে ঝুঁকি অনেক আগে শনাক্ত করা সম্ভব।

ডায়াবেটিসে ‘সাইলেন্ট’ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

চিকিৎসকেরা আরও জানিয়েছেন, ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ অনেক সময় কম স্পষ্ট হতে পারে। তপোব্রত দে-র বক্তব্য, ডায়াবেটিসের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের স্নায়বিক অনুভূতি কমে যেতে পারে। ফলে অন্য রোগীর তুলনায় ব্যথার মাত্রা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম অনুভূত হতে পারে। তাঁর মতে, তরুণদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। এসব কারণে রক্তনালিতে দ্রুত ও অনেক সময় নীরবে ব্লকেজ তৈরি হতে পারে। চিকিৎসকেরা তাই লিপিড প্রোফাইলের মতো প্রাথমিক পরীক্ষার গুরুত্বের কথা বলেছেন। একইসঙ্গে শুধু বিশ্রামের অবস্থায় করা পরীক্ষা সব ধরনের সমস্যা ধরতে নাও পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সিদের নিয়েও উদ্বেগ

অ্যাপোলো হাসপাতালের জরুরি কার্ডিয়াক বিভাগে আসা রোগীদের তথ্যেও তরুণদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট উদয় শঙ্কর দাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তীব্র হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে এসটিইএমআই এবং এনএসটিইএমআই দু’ধরনের রোগী মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স এখন ৩০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

উপসর্গ হলে অপেক্ষা না করার পরামর্শ

আরএন টেগোর হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি কনসালট্যান্ট অতনু সাহা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনেক রোগী প্রাথমিক সতর্কসংকেত দেখা দেওয়ার পরও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। হাসপাতালে পৌঁছনোর সময় অনেক ক্ষেত্রেই তখন হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

তাঁর মতে, হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ। বুকের মাঝখানে চাপ বা ব্যথা, অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমিভাব কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল বা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে শুধুমাত্র অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চার্নক হাসপাতালের কার্ডিওলজি তথ্যেও এই ধরনের উপসর্গকে হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ব্যায়াম করলেই কি ঝুঁকি কমে?

নিয়মিত ব্যায়াম হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও, অতনু সাহা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ব্যায়াম করলেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। কারও অজানা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা থাকতে পারে, এমনকি তিনি বাইরে থেকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেও।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করে হঠাৎ অত্যন্ত বেশি পরিশ্রম বা তীব্র ব্যায়াম শুরু করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি রয়েছে।

চিকিৎসকদের মূল বার্তা হল, বুকের অস্বস্তিকে সবসময় অ্যাসিডিটি বা বদহজম বলে ধরে নিয়ে অপেক্ষা না করা। বিশেষ করে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। নিজের ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পেতে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল, ওজন এবং পারিবারিক ইতিহাসের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *