Food Habit: গরম ভাতে ঘি মেখে খাচ্ছেন? অজান্তেই শরীরের কোনও ক্ষতি করছেন না তো! | Hot Rice with Ghee: Health Benefits, Science, and Side Effects Explained
কী বলছে গবেষণা?Image Credit: Getty Images & edited in meta ai
গরম ভাত (Hot Rice) আর সঙ্গে এক চামচ গাওয়া ঘি, বাঙালির পাতে এই জুটির কদর সেই প্রাচীনকাল থেকে। ভাতের থালা থেকে ওঠা সুন্দর গন্ধ নিমেষেই যেন খিদে বাড়িয়ে দেয়। দিদিমা-ঠাকুমাদের মতে, এই খাবার শরীর সুস্থ রাখার এক দারুণ উপায়। রোজকার একঘেয়ে ডায়েটে একটু ঘি মেশালে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনই শরীরও পুষ্টি পায়। কিন্তু এই যুগে এসে অনেকেই ভাবেন, ঘি খেলেই বোধহয় ওজন বেড়ে যাবে বা শরীরে চর্বি জমবে। বিজ্ঞান আসলে কী বলছে? সত্যিই কি ঘি ভাত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও সত্যি?
কী বলছে গবেষণা?
ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই কার্বোহাইড্রেট হজম হওয়ার পর খুব দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ভাতের সঙ্গে যখন ঘি মেশানো হয়, তখন ওই গ্লুকোজ রক্তে মেশার গতি অনেকটাই কমে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, ঘিয়ের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পেটে খাবার অনেকক্ষণ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে চট করে খিদে পায় না। এছাড়া, সারাদিন কাজ করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তা এই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থেকেই পাওয়া যায়।
শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে খুবই জরুরি। কিন্তু মুশকিল হল, এই ভিটামিনগুলো এমনি এমনি শরীরে মিশতে পারে না। এগুলোকে কাজে লাগাতে গেলে শরীরে ফ্যাটের দরকার হয়। ঘি হল এই স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্যতম সেরা উৎস। তাই ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি খেলে তা শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরে এই দরকারি ভিটামিনগুলো ঠিকমতো শুষে নিতেও সাহায্য করে।
হজমের সমস্যা কি সত্যিই মেটে?
অনেকেই মনে করেন, ঘি খেলে গ্যাস, অম্বল বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়। বিষয়টা কিন্তু ম্যাজিকের মতো নয়। ঘিয়ে থাকা কিছু বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড হজমের কাজে সাহায্য করে ঠিকই, তবে এটাই একমাত্র সমাধান নয়। ভাতের সঙ্গে সামান্য ঘি, ডাল ও সবজি মিলিয়ে খেলে তা একটি সুষম খাবার তৈরি করে। এই ধরনের খাবার পরিপাকতন্ত্রের জন্য বেশ আরামদায়ক।
কাদের সাবধানে থাকতে হবে?
ঘি খেতে ভালো লাগলেও, ইচ্ছেমতো বেশি পরিমাণে খাওয়া কিন্তু চলবে না। কারণ এতে প্রচুর ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যাঁদের শরীরে কোলেস্টেরল বেশি, হার্টের সমস্যা রয়েছে বা যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের ঘি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আবার যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাঁরা ঘি ভাত খেলেই যে সুগার ম্যাজিকের মতো কমে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। তাঁদের ভাত, ডাল ও সবজির সঠিক মাপের দিকে নজর দিতে হবে। গরম ভাতে অল্প ঘি রোজকার খাবারের একটি চমৎকার অংশ হতেই পারে। তবে এটিকে সব রোগের মহৌষধ না ভেবে, প্রতিদিন এক থেকে দু’চামচ মেপে খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।