৯০০ হর্সপাওয়ারের ওপেন-টপ জি-ওয়াগন, মাত্র ১০টি তৈরি করবে ব্রাবাস - 24 Ghanta Bangla News
Home

৯০০ হর্সপাওয়ারের ওপেন-টপ জি-ওয়াগন, মাত্র ১০টি তৈরি করবে ব্রাবাস

Spread the love

কলকাতা: মার্সিডিজ-এএমজি জি ৬৩-কে আরও বেশি শক্তিশালী এবং এক্সক্লুসিভ করে তুলল জার্মান টিউনিং সংস্থা ব্রাবাস। সংস্থাটি প্রকাশ্যে এনেছে ব্রাবাস ৯০০ রকেট (Brabus 900 Rocket) এডিশন…

কলকাতা: মার্সিডিজ-এএমজি জি ৬৩-কে আরও বেশি শক্তিশালী এবং এক্সক্লুসিভ করে তুলল জার্মান টিউনিং সংস্থা ব্রাবাস। সংস্থাটি প্রকাশ্যে এনেছে ব্রাবাস ৯০০ রকেট (Brabus 900 Rocket) এডিশন ক্যাব্রিও, যা মার্সিডিজ-এএমজি জি ৬৩ (ডব্লিউ ৪৬৫)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। রকেট সিরিজে এই প্রথম কোনও ওপেন-টপ মডেল যুক্ত হল। শুধু শক্তিশালী ইঞ্জিন নয়, এই জি-ওয়াগনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল কনভার্টিবল সফট-টপ ছাদ। পুরো গাড়িটির উৎপাদন মাত্র ১০ ইউনিটে সীমাবদ্ধ রাখছে ব্রাবাস। ফলে এটি সাধারণ জি-ওয়াগনের মতো রাস্তায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

৯০০ হর্সপাওয়ারের ভি৮ ইঞ্জিন

ব্রাবাস ৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও-তে রয়েছে ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বো ভি৮ ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৯০০ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ১,২৫০ এনএম পর্যন্ত টর্ক তৈরি করতে পারে। তবে গাড়িটির টর্ক ইলেকট্রনিকভাবে ১,০৫০ এনএম-এ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তুলনায়, স্ট্যান্ডার্ড মার্সিডিজ-এএমজি জি ৬৩-তে রয়েছে ৪.০ লিটারের ভি৮ ইঞ্জিন। অর্থাৎ ব্রাবাস শুধু সফটওয়্যার পরিবর্তন করেনি, ইঞ্জিনের ডিসপ্লেসমেন্টও বাড়িয়েছে।

নতুন ইঞ্জিনে আপগ্রেডেড টার্বোচার্জার, পরিবর্তিত ইঞ্জিন ইন্টারনাল এবং স্টেইনলেস-স্টিল এক্সহস্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এক্সহস্ট সিস্টেমে বিভিন্ন ড্রাইভিং মোড বেছে নেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। পারফরম্যান্সের দিক থেকে ০ থেকে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র ৩.৭ সেকেন্ড। সর্বোচ্চ গতি ইলেকট্রনিকভাবে ২৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

 ALSO READ – নয়া মাইলফলক মেক ইন ইন্ডিয়ায়! ২০৩০ র মধ্যেই ৩৫০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে দেশীয় প্রযুক্তির ট্রেন

৫০০-র বেশি নতুন যন্ত্রাংশে তৈরি সফট-টপ

ওপেন-টপ জি-ওয়াগন তৈরি করা ব্রাবাসের জন্য সহজ কাজ ছিল না। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন সফট-টপ ছাদ ব্যবস্থা তৈরি করতে ৫০০-র বেশি নতুন কম্পোনেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ছাদ বন্ধ থাকা অবস্থায় এটি শক্তিশালী উইন্ডশিল্ড ফ্রেমের সঙ্গে লক হয়ে যায়। উচ্চ গতিতে গাড়ির কাঠামোগত দৃঢ়তা বজায় রাখতে ছাদের মধ্যে কার্বন-ফাইবারের একটি রুফ বো ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রাবাসের লক্ষ্য ছিল কনভার্টিবল ছাদ যুক্ত করার পরেও জি-ক্লাসের পরিচিত সিলুয়েট এবং কাঠামোগত শক্তি ধরে রাখা। কালো সফট-টপ প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা এবং বন্ধ করা যায়।

২৪ ইঞ্চির চাকা ও ওয়াইডবডি ডিজাইন

৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও-র ডিজাইনে ব্রাবাসের আগ্রাসী স্টাইল স্পষ্ট। গাড়িটিতে রয়েছে ২৪ ইঞ্চির ব্রাবাস প্ল্যাটিনাম এডিশন অ্যালয় হুইল। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে হাই-পারফরম্যান্স টায়ার। বড় চাকা বসানোর জন্য গাড়ির ফেন্ডারও চওড়া করা হয়েছে। চাকায় এক্সপোজড কার্বন অ্যারোব্লেড ব্যবহার করা হয়েছে, যা গাড়িটির ডিজাইনে আরও স্পোর্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর চেহারা দিয়েছে। ফেন্ডার এবং সাইড মিরর হাউজিংয়েও কার্বন-ফাইবারের উপাদান রয়েছে। পিছনে ওয়াইডবডি বাম্পারের সঙ্গে বাড়ানো রিয়ার ফেন্ডার যুক্ত করা হয়েছে। টেলগেটেও রয়েছে কার্বন-ফাইবার ট্রিম। সেখানে আলোকিত ব্রাবাস লেটারিং ব্যবহার করা হয়েছে।

 ALSO READ – ভলভো কারসের নতুন সিইও ক্লাউস জেলমার, ২০২৭ থেকে দায়িত্ব নেবেন

বিলাসবহুল কালো কেবিন

ভিতরের অংশে ব্রাবাস ৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও পেয়েছে কালো লেদার এবং আলকান্টারা ইন্টেরিয়র। সিট, দরজার প্যানেল, ফুটওয়েল এবং লাগেজ কম্পার্টমেন্টে ব্যবহার করা হয়েছে শেল-প্যাটার্ন কুইল্টিং। লাল কনট্রাস্ট স্টিচিং এবং লাল রঙের ইন্টেরিয়র এলিমেন্ট কালো কেবিনের সঙ্গে আলাদা কনট্রাস্ট তৈরি করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে কার্বন-ফাইবার ট্রিম এবং কার্বন-ফাইবার পেডাল। স্টিয়ারিংয়ের পিছনে রয়েছে কার্বন-ফাইবার প্যাডল শিফটার। এর সঙ্গে এলইডি শিফট ইন্ডিকেটর দেওয়া হয়েছে। গাড়ির স্পিডোমিটারে সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত গতি দেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট

এই বিশেষ জি-ওয়াগনের আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল ব্লকচেইন-ভিত্তিক ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট। এটি লাগেজ কম্পার্টমেন্টের মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ডিজিটাল পাসপোর্টে গাড়িটির সত্যতা, মালিকানা এবং স্পেসিফিকেশন সম্পর্কিত যাচাই করা তথ্য রাখা যাবে। অত্যন্ত সীমিত সংখ্যায় তৈরি এই গাড়ির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মালিকানা এবং প্রামাণিকতা যাচাইয়ের জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ সরঞ্জামেও এক্সক্লুসিভ ছোঁয়া

ব্রাবাস ৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও-তে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত পিছনের দরজা খোলার জন্য বিশেষ হিঞ্জ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লেদার-ট্রিম করা গাড়ির চাবি এবং একই ডিজাইনের ব্রাবাস উইকেন্ডার ব্যাগ। অর্থাৎ ব্রাবাস শুধু ইঞ্জিন এবং বডি ডিজাইনেই পরিবর্তন আনেনি, গাড়ির ছোটখাটো আনুষঙ্গিক বিষয়েও বিশেষত্ব রাখার চেষ্টা করেছে।

মাত্র ১০টি ইউনিট তৈরি হবে

ব্রাবাস ৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির একটি হল এর সীমিত উৎপাদন। বিশ্বজুড়ে মাত্র ১০টি ইউনিট তৈরি করবে ব্রাবাস। জি-ক্লাসের পরিচিত অফ-রোড চরিত্রের সঙ্গে ৯০০ হর্সপাওয়ারের ভি৮ ইঞ্জিন, কনভার্টিবল সফট-টপ, ২৪ ইঞ্চির চাকা, কার্বন-ফাইবার বডি এলিমেন্ট এবং বিলাসবহুল কেবিনকে একত্র করেছে এই বিশেষ মডেল।

ব্রাবাসের রকেট পরিবারের প্রথম ওপেন-টপ মডেল হিসেবে ৯০০ রকেট এডিশন ক্যাব্রিও তাই শুধু একটি শক্তিশালী জি-ওয়াগন নয়। সীমিত উৎপাদন, কনভার্টিবল ডিজাইন এবং ৯০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন মিলিয়ে এটি জি-ক্লাসের একটি বিশেষ সংস্করণ হিসেবে তৈরি হয়েছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *