জার্মানিতেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, মার্কিন অনুমতির অপেক্ষা - 24 Ghanta Bangla News
Home

জার্মানিতেই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, মার্কিন অনুমতির অপেক্ষা

Spread the love

বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট (Patriot Missile) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের মজুত কমে যাওয়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন…

বিশ্বজুড়ে প্যাট্রিয়ট (Patriot Missile) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে বিভিন্ন দেশের মজুত কমে যাওয়ায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের ভূখণ্ডে উন্নত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইছে জার্মানি।

ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস জানিয়েছেন, ইউরোপে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি নিজেদের দেশে মার্কিন অস্ত্র তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরও রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইউরোপে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং একই সঙ্গে মার্কিন নির্মাতাদের ওপর থাকা উৎপাদন চাপ কমানো।

জার্মানিতে তৈরি হতে পারে পিএসি-৩ এমএসই

জার্মানির প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও উপাদান তৈরি হতে পারে। বরিস পিস্টোরিয়াসের বক্তব্য অনুযায়ী, জার্মানি পিএসি-৩ এমএসই এবং পিএসি-২ জিইএম-টি ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে। এর পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার লঞ্চারসহ অন্যান্য উপাদানও জার্মানিতে তৈরি করা যেতে পারে।

তবে এই উৎপাদন শুরু করার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন। কারণ প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা এবং এর বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি চুক্তি হয়েছে, যার লক্ষ্য জার্মানিতে মার্কিন অস্ত্রের অতিরিক্ত উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা। প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

প্যাট্রিয়ট সরবরাহ ব্যবস্থায় আগে থেকেই জার্মানির ভূমিকা

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ব্যবস্থায় জার্মানি সম্পূর্ণ নতুন দেশ নয়। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। এমবিডিএ জার্মানি পিএসি-২ ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনে যুক্ত। অন্যদিকে আরও উন্নত পিএসি-৩ এমএসই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে লকহিড মার্টিন। এবার বার্লিন সেই শিল্পভিত্তিক ভূমিকা আরও সম্প্রসারণ করতে চাইছে। জার্মানিতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে ইউরোপে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার সরবরাহ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপও কিছুটা কমতে পারে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি কেন?

প্যাট্রিয়ট উৎপাদন বাড়ানোর জার্মান উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হল ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে যাওয়া। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে।

সমস্যাটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়। ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদেরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করছে। ফলে একই সময়ে একাধিক অঞ্চলে চাহিদা তৈরি হওয়ায় নতুন ইন্টারসেপ্টর উৎপাদনের ওপর চাপ বাড়ছে।

ইউরোপে মজুতকে ‘বিয়ন্ড ক্রিটিক্যাল’ বলা হয়েছিল

আগস্টে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইউরোপে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর প্যাট্রিয়ট মজুত ‘বিয়ন্ড ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অর্থ, চাহিদা এবং উপলব্ধ মজুতের মধ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়।

প্যাট্রিয়টের মতো জটিল ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লাগে। ডিফেন্স নিউজের প্রতিবেদনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএস-এর একটি হিসাবের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, একটি পিএসি-৩ এমএসই ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে প্রায় ৪২ মাস সময় লাগতে পারে।

উৎপাদন ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্রে নেওয়ার পরিকল্পনা

পিএসি-৩ এমএসই ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে লকহিড মার্টিন। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৬০০টি ইন্টারসেপ্টর তৈরির ক্ষমতা থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে বছরে ২,০০০টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ২,০০০ ইউনিটের বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ অর্জনের কথা বলা হয়েছে। তবে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর এই পরিকল্পনা কার্যকর হলেও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে সময় লাগবে। কারণ কারখানার সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরি এবং প্রয়োজনীয় উপাদান উৎপাদনের মতো একাধিক ধাপ রয়েছে।

ইউরোপের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন চাপ

জার্মানির প্রস্তাব শুধু প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর সঙ্গে ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও যুক্ত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ এবং নিজেদের মজুত পূরণ করতে গিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জার্মানিতে মার্কিন অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো গেলে ইউরোপের অভ্যন্তরে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতের সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।

তবে জার্মানিতে পিএসি-৩ এমএসই বা পিএসি-২ জিইএম-টি উৎপাদন শুরু করার বিষয়টি এখনও মার্কিন অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। উৎপাদন বাস্তবে শুরু হলে ইউরোপের প্যাট্রিয়ট সরবরাহ ব্যবস্থায় জার্মানির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Defence News-এর সর্বশেষ আপডেট।  ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক মহড়া, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির খবর পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *