বিশ্বের সেরা ৫০ ডেস্টিনেশনের তালিকায় ভারতের দুই জায়গা, জানেন কোনগুলি?
বিশ্ব পর্যটন মহলে ফের নজর কাড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। সম্প্রতি জনপ্রিয় ভ্রমণ পত্রিকা ‘লোনলি প্ল্যানেট’ প্রকাশ করেছে তাদের ‘বেস্ট ইন ট্রাভেল ২০২৭’-এর তালিকা। সেই তালিকাতেই বিশ্বের সেরা ২৫টি গন্তব্যের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।
দার্জিলিঙের টয়ট্রেনের জয় রাইডের খ্যাতি দীর্ঘ দিনের। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ধীরগতিতে চলা এই ট্রেনে চেপে হিমালয়ের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। যাত্রাপথে কোথাও চোখে পড়ে সবুজ পাহাড়, কোথাও বিস্তীর্ণ চা-বাগান। আর সেখানে খেলা চলে মেঘেদের। আকাশ পরিষ্কার থাকলে উঁকি দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘাও।
ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের পথে টয়ট্রেনে চেপে ঘুরে নেওয়া যায় বাতাসিয়া লুপ, ঘুম, কার্শিয়াং-সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। ধীরগতির এই সফরেই পাহাড়ের প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। তা ছাড়া দার্জিলিং বেড়াতে গেলে চা বাগান, চিড়িয়াখানা, টাইগার হিল সব কিছুই ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। তিব্বতি খাবারের স্বাদও নেওয়া যায় এখানে।
‘লোনলি প্ল্যানেট’-এর ‘বেস্ট ইন ট্রাভেল ২০২৭’ তালিকায় রয়েছে বিশ্বের মোট ৫০টি গন্তব্য। সেখানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার রেড সেন্টার, কাজ়াখস্তানের আস্তানা, কেনিয়ার স্ত ইস্ট ও ওয়েস্ট ন্যাশানাল পার্ক, আমেরিকার মেরিল্যান্ড, মিয়ামি, আলাস্কা, ভিয়েতনামের ডানাং, আবু ধাবি, তাইওয়ানের মতো একাধিক জায়গা। তবে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের পাশাপাশি ভারতের গুজরাটও স্থান পেয়েছে এই তালিকায়।

গুজরাটের ঐতিহ্য, খাবার, হস্তশিল্প, বন্যপ্রাণ এবং বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি প্রধান আকর্ষণ। একদিকে রয়েছে কচ্ছের সাদা লবণের মরুভূমি, অন্যদিকে এশীয় সিংহের আবাসস্থল গির জাতীয় উদ্যান। পাশাপাশি গুজরাটের বস্ত্রশিল্প ও খাদ্যসংস্কৃতিও পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
এ ছাড়া ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট চম্পানের-পাওয়াগড় প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যানও গুজরাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও খাবার— সব মিলিয়ে গুজরাটে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা হয়।
কখন যাবেন দার্জিলিং ও গুজরাট?
দার্জিলিঙে বছরের বিভিন্ন সময়েই বেড়াতে যাওয়া যায়। শুধু ভরা বর্ষায় এই ডেস্টিনেশন এড়িয়ে চলা ভালো। এ ছাড়া জয় রাইডের স্বাদ নিতে পারেন নিজের সুবিধা অনুযায়ী। তবে গুজরাট ভ্রমণের জন্য শীতকাল তুলনামূলক আরামদায়ক। নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুজরাট ঘোরার উপযুক্ত সময়। এই সময়েই কচ্ছের রণ উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়।
এক নজরে
-
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ‘Best in Travel 2027’ তালিকায় জায়গা পেয়েছে।
-
টয়ট্রেনের জয় রাইডে পাহাড়, চা-বাগান ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যায়।
-
দার্জিলিংয়ের টয়ট্রেন রুটে বাতাসিয়া লুপ, ঘুম ও কার্শিয়াং রয়েছে।
-
গুজরাটও ‘Best in Travel 2027’ তালিকায় স্থান পেয়েছে।
-
গুজরাট ভ্রমণের জন্য নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি আরামদায়ক সময়।
FAQ
১. দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কেন জনপ্রিয়?
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ধীরগতির টয়ট্রেন যাত্রা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এটি জনপ্রিয়।
২. দার্জিলিং টয়ট্রেনে কী কী দেখা যায়?
বাতাসিয়া লুপ, ঘুম, কার্শিয়াং, পাহাড় ও চা-বাগানের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
৩. দার্জিলিং বেড়ানোর উপযুক্ত সময় কখন?
বর্ষাকাল বাদ দিয়ে বছরের অন্যান্য সময়ে দার্জিলিং যাওয়া যায়।
৪. গুজরাটে শীতকালে কেন ঘুরতে যাওয়া ভালো?
নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে।
৫. গুজরাটের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ কী?
কচ্ছের রণ, গির জাতীয় উদ্যান, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাবার অন্যতম আকর্ষণ।