পৃথিবী অতীত! এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঠিকানা বদলে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাবে Google - 24 Ghanta Bangla News
Home

পৃথিবী অতীত! এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঠিকানা বদলে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাবে Google

Spread the love

নয়াদিল্লি: মহাকাশই কি এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী ঠিকানা হতে চলেছে? (AI satellite)পৃথিবীর মাটিতে ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ ও জল খরচের বিকল্প হিসেবে মহাকাশে AI পরিকাঠামো…

নয়াদিল্লি: মহাকাশই কি এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী ঠিকানা হতে চলেছে? (AI satellite)পৃথিবীর মাটিতে ডেটা সেন্টারের বিপুল বিদ্যুৎ ও জল খরচের বিকল্প হিসেবে মহাকাশে AI পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে Google। সেই লক্ষ্যেই আগামী সপ্তাহে SpaceX-এর সাহায্যে লো আর্থ অরবিটে বা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে নিজেদের উন্নত Tensor Processing Unit বা TPU-সহ একটি পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট পাঠাতে চলেছে Google। সংস্থার এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্পের নাম Project Suncatcher। মূল লক্ষ্য, মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে AI-এর জন্য ব্যবহৃত বিশেষ চিপ কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা বাস্তবে পরীক্ষা করে দেখা।

Google জানিয়েছে, প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইটটি SpaceX-এর আসন্ন Transporter-18 rideshare mission-এর মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে। এই মিশনে Planet Labs-ও অংশীদার হিসেবে থাকছে। Google CEO সুন্দর পিচাই সামাজিক মাধ্যমে এই অভিযানের ঘোষণা করে চাঁদে প্রথম পা রাখার সময় নীল আর্মস্ট্রংয়ের বিখ্যাত উক্তির অনুকরণে লিখেছেন, “One small step for TPUs….” অর্থাৎ, TPU-কে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার এই পরীক্ষাকে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার প্রথম ছোট পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে Google।

আরও দেখুনঃ

এই পরীক্ষায় প্রথমে দেখা হবে, মহাকাশে পাঠানোর সময় TPU এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি প্রচণ্ড কম্পন ও ত্বরণ সহ্য করতে পারে কি না। পৃথিবী থেকে নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছতে রকেটের সাধারণত প্রায় ১০ মিনিট সময় লাগে। (AI satellite)এই সময় মহাকাশযানকে প্রায় ১০ গুণ মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সমতুল্য ত্বরণ বা 10g-এর মতো চাপ সহ্য করতে হতে পারে। কিছু উপাদানের ক্ষেত্রে সেই চাপ আরও বেশি হতে পারে। Google ইতিমধ্যেই স্যাটেলাইটকে তিনটি অক্ষ বরাবর নাড়িয়ে কৃত্রিমভাবে উৎক্ষেপণের সময়ের কম্পন পরীক্ষা করেছে।

Advertisements


   


   

তবে মহাকাশে AI চিপ চালানোর ক্ষেত্রে আরও বড় সমস্যা হল বিকিরণ। সূর্যের বিভিন্ন বিকিরণ এবং মহাজাগতিক রশ্মি ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ত্রুটি তৈরি করতে পারে। Google জানায়, UC Davis-এর Crocker Nuclear Laboratory-তে AI workload চালিয়ে TPUs-এর বিকিরণ সহনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, পরীক্ষায় তাদের Trillium TPU পাঁচ বছরের মহাকাশ মিশনে সম্ভাব্য যে পরিমাণ total ionising radiation-এর মুখোমুখি হতে পারে, তার চেয়েও বেশি মাত্রার বিকিরণ সহ্য করেছে। অবশ্য পৃথিবীর পরীক্ষাগারের ফলাফল আর বাস্তব কক্ষপথের পরিবেশ এক নয়। তাই এবার সরাসরি মহাকাশে পাঠিয়ে বাস্তব পরিস্থিতিতে হার্ডওয়্যারটির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে চাইছে Google।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হল তাপ নিয়ন্ত্রণ। AI চিপ প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। পৃথিবীতে ডেটা সেন্টারে ফ্যান, এয়ার কুলিং বা জল ব্যবহার করে সেই তাপ সরানো হয়। কিন্তু মহাকাশে বাতাস নেই। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে তাপ বের করে দেওয়া সম্ভব নয়। এই সমস্যার জন্য Google heat pipe এবং radiator-এর সমন্বয়ে একটি বিশেষ cooling system পরীক্ষা করছে। thermal vacuum chamber-এ ইতিমধ্যেই সেই প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

Project Suncatcher-এর পরিকল্পনা অবশ্য একটি স্যাটেলাইটেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে একাধিক স্যাটেলাইটের ক্লাস্টার তৈরি করে প্রতিটিতে বহু TPU বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে কক্ষপথেই বড় AI workload চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর জন্য স্যাটেলাইটগুলির মধ্যে অত্যন্ত নির্ভুল অবস্থান নির্ণয় এবং উচ্চগতির laser communication প্রয়োজন হবে। Google জানিয়েছে, ২০২৭ সালে দুটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়ে সেই প্রযুক্তিও পরীক্ষা করার লক্ষ্য রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *