জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, গুয়াহাটিতে আটক গৌরব গগৈ, পাটনা-চণ্ডীগড়ে আন্দোলনকারীদের উপর চলল জলকামান
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালীন গুয়াহাটিতে আটক করা হলো অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈকে। শুক্রবার রাজ্য কংগ্রেসের সদর দপ্তর রাজীব ভবন থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল করার সময়ে পুলিশ ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করেন গগৈ-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা। এর পরেই তাঁদের আটক করা হয়।
শুধু গুয়াহাটি নয়, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ SIR ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লি থেকে কলকাতা, গুয়াহাটি থেকে জম্মু, পাটনা থেকে চণ্ডীগড়—একাধিক রাজ্য ও শহরে চলছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভ। কোথাও নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিল, কোথাও জ্ঞানেশ কুমার-সহ নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির চিত্রও সামনে এসেছে।
গুয়াহাটিতে আটক গগৈ-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা
শুক্রবার সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা ছড়ায় অসমের গুয়াহাটিতে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে রাজীব ভবন থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল বেরোয়। সেখানে আগে থেকেই ব্যারিকেড করে রেখেছিল পুলিশ। গগৈ-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতা সেই ব্যারিকেড পার হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে গগৈ বলেন, ‘আজ মানুষ জানতে পেরেছেন যে জ্ঞানেশ কুমার অপরাধ করেছেন। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত।’ গগৈয়ের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জন্য দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
গগৈয়ের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক মনোজ চৌহান, সেবা দলের সভাপতি দীপ বায়ান, অসম প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক উদিত ভানু দাস-সহ আরও কয়েক জন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। কংগ্রেস মুখপাত্র বেদব্রত বরা অবশ্য এই ঘটনাকে ‘জোর করে গ্রেপ্তার’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এটা গণতন্ত্রের উপর আরও একটি আঘাত।’
বিহার ও চণ্ডীগড়ে জলকামান
অসমের পাশাপাশি বিহারেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবি নিয়ে মিছিল করছিল কংগ্রেস। বিক্ষোভ চলাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। পাটনায় কংগ্রেস কর্মীদের সেই মিছিল আটকে দিতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। চণ্ডীগড়েও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান চালানো হয়।
দিল্লিতে বিক্ষোভ
দিল্লিতে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। নির্বাচন কমিশনের দপ্তর এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কলকাতাতেও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্বে মিছিল বেরিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দিকে এগোয়। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে।
এ ছাড়া এ দিন একই ইস্যুতে জম্মু, দেরাদুন, লখনৌ, ভুবনেশ্বর, শিমলা, হায়দরাবাদ এবং ভোপালেও বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। জম্মুতে দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির হুসেন কর্মসূচিতে যোগ দেন। হায়দরাবাদে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মহেশ কুমার গৌড়ের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।