ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করল বাংলাদেশ, বাতিল ১০৩ অনুমতিপত্র - 24 Ghanta Bangla News
Home

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ করল বাংলাদেশ, বাতিল ১০৩ অনুমতিপত্র

Spread the love

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা তৈরি হল পশ্চিমবঙ্গে। ভারত থেকে ইলিশ (Indian Hilsa) আমদানির অনুমতি বাতিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মৎস্য দফতর ১০৩টি নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি বাতিল করার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় ইলিশ আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর এই অনুমতিগুলি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকেই আমদানি বন্ধ থাকার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশের বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু বাংলাদেশের আমদানিকারকরাই সমস্যায় পড়েননি, দুর্গাপুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুই মাসে বাংলাদেশে ঢুকেছে ৫৫৩ টন ভারতীয় ইলিশ

বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ৫৫৩ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। এই মাছের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৯.১ লক্ষ মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবর্ষে বাংলাদেশ মোট ১,৭৩৯.৫ টন ভারতীয় ইলিশ আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমোদনের একটি বড় অংশ কার্যকর হওয়ার আগেই এনওসি বাতিল করা হয়েছে।

এর ফলে সীমান্তের দুই পারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকজন আমদানিকারক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ভারতে মাছ কিনে রেখেছিলেন তাঁরা। এখন আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই মাছ কম দামে ফেরত বিক্রি করতে হতে পারে। পাশাপাশি পরিবহণ ও অন্যান্য আমদানি সংক্রান্ত খরচের ক্ষতিও বহন করতে হবে।

Advertisements


   


   

কেন বন্ধ হল ভারতীয় ইলিশ আমদানি?

বাংলাদেশের মৎস্য দফতর এনওসি বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানায়নি। তবে বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় ইলিশকে স্থানীয় বা পদ্মার ইলিশ বলে বিক্রি করার অভিযোগ সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের মৎস্যজীবী ফেডারেশনের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ বর্মণ দাবি করেছেন, ভারত থেকে আসা গুজরাটের ইলিশের সঙ্গে বাংলাদেশের পদ্মা বা মেঘনার ইলিশের স্বাদ ও মানের পার্থক্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী ভারতীয় ইলিশকে বাংলাদেশি ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করছিলেন। এই অভিযোগের পরই আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশের আরও কিছু রিপোর্টে আমদানির ঘোষিত মূল্য, বাজারদর এবং ভারতীয় ইলিশকে পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রির অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠার কথা বলা হয়েছে। তবে এগুলিকে সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার নিশ্চিত করেনি।

গুজরাট থেকে গিয়েছিল বেশিরভাগ ইলিশ

সাম্প্রতিক এই বাণিজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ভারত থেকে বাংলাদেশে যাওয়া ইলিশের বড় অংশই এসেছে গুজরাট থেকে। এর ফলে এতদিনের প্রচলিত ইলিশ বাণিজ্যের দিকেও পরিবর্তন দেখা যায়।

সাধারণত বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসে, বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে সীমিত পরিমাণে পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের বাজারে ঢোকে। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বিপরীত দিকে অর্থাৎ ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। গত দুই মাসে প্রায় ৫৫০ টনের বেশি ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

বাংলাদেশে এ বছর ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় ভারত থেকে মাছ আমদানির প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই গুজরাট থেকে ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো শুরু হয়।

দুর্গাপুজোয় পদ্মার ইলিশ কি আসবে কলকাতায়?

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ ভারতে আসবে কি না। হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সচিব তথা ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ইলিশ না এলে পুজোর সময় কলকাতার বাজারে মূলত মায়ানমারের ইলিশের উপর নির্ভর করতে হতে পারে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩৭৫ টন মায়ানমারের ইলিশ মজুত রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে আসার অনুমতি না মিললে পুজোর বাজারে পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশ পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। বাংলাদেশের দিক থেকে দুর্গাপুজোর আগে ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তার উপরই কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের উপস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে।

সীমান্ত বাণিজ্যেও প্রভাব

ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আমদানিকারকদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে কেনা মাছ সীমান্ত পার করাতে না পারলে তাঁদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীদের নজর এখন বাংলাদেশের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ দুর্গাপুজোর আগে কলকাতা ও আশপাশের বাজারে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা প্রতি বছরই থাকে।

ফলে বাংলাদেশের ১০৩টি এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত শুধু ভারতীয় ইলিশের আমদানি বন্ধ করেনি, একই সঙ্গে দুর্গাপুজোর আগে দুই বাংলার ইলিশ বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *