গ্রামে রাতভর ভ্রমণের ৩৮.৪% চিকিৎসার জন্য, শহরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি
ভারতের গ্রামীণ (Rural India) পরিবারের রাতভর ভ্রমণের একটি বড় অংশই হচ্ছে চিকিৎসার প্রয়োজনে। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর বা এনএসও-র ৮০তম রাউন্ডের ডোমেস্টিক ট্যুরিজম এক্সপেন্ডিচার সার্ভে বা ডিটিইএস-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে গ্রামীণ ভারতের রাতভর ভ্রমণের ৩৮.৪ শতাংশের উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন। শহরাঞ্চলে এই হার ১৬.৫ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসার জন্য রাতভর ভ্রমণের প্রবণতা শহরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এনএসও-র এই সমীক্ষাটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের দেশীয় পর্যটন ব্যয় ও ভ্রমণের ধরন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সমীক্ষার উদ্দেশ্যের মধ্যে ছিল রাতভর দেশীয় ভ্রমণের কারণ, পরিবারের খরচ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা।
গ্রামে চিকিৎসা, শহরে অবসরযাত্রা
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ ভারতের রাতভর ভ্রমণের সবচেয়ে বড় কারণ ধর্মীয় ও তীর্থযাত্রা। মোট ভ্রমণের ৪৮.৪ শতাংশ এই কারণে হয়েছে। এরপর রয়েছে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, যার হার ৩৮.৪ শতাংশ। গ্রামীণ ভারতের রাতভর ভ্রমণের ১২.৫ শতাংশ হয়েছে ছুটি, অবসর ও বিনোদনের জন্য। কেনাকাটার জন্য ভ্রমণের হার ০.৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলের চিত্র অনেকটাই আলাদা। সেখানে রাতভর ভ্রমণের ৪৬.৬ শতাংশ হয়েছে ধর্মীয় ও তীর্থযাত্রার কারণে। তবে অবসর, ছুটি ও বিনোদনের জন্য ভ্রমণের হার ৩৬.৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার জন্য শহরের রাতভর ভ্রমণের হার ১৬.৫ শতাংশ এবং কেনাকাটার জন্য ০.৫ শতাংশ। সারা ভারত মিলিয়ে ধর্মীয় ও তীর্থযাত্রার অংশ ৪৭.৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার জন্য ২৯.৬ শতাংশ এবং ছুটি, অবসর ও বিনোদনের জন্য ২২.১ শতাংশ।
চিকিৎসার ভ্রমণেই সবচেয়ে বেশি খরচ
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাতভর ভ্রমণ শুধু বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভ্রমণের ধরনগুলির মধ্যেও রয়েছে। চার্ট অনুযায়ী, চিকিৎসা সংক্রান্ত রাতভর একটি ভ্রমণে গ্রামীণ পরিবারের গড় খরচ ২৯,৪৫৪ টাকা। শহরাঞ্চলে এই গড় খরচ আরও বেশি, ৪১,৬৪৯ টাকা। তুলনায়, কেনাকাটার জন্য রাতভর ভ্রমণে গ্রামীণ পরিবারের গড় খরচ ১৬,৩৮৮ টাকা এবং শহরের পরিবারের ২৪,১৭০ টাকা। ছুটি, অবসর ও বিনোদনের ক্ষেত্রে এই খরচ যথাক্রমে ৮,৮৯০ টাকা এবং ১৩,৯৯০ টাকা। ধর্মীয় ও তীর্থযাত্রার ক্ষেত্রে গ্রামীণ পরিবারের গড় খরচ ৬,২৬৯ টাকা এবং শহরের ৯,৯২০ টাকা। অর্থাৎ চিকিৎসার জন্য যাত্রায় পরিবারের গড় ব্যয় অন্যান্য প্রধান ভ্রমণ উদ্দেশ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
Advertisements
চিকিৎসা ভ্রমণের খরচের বড় অংশ যায় চিকিৎসা ও ওষুধে
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হওয়া ভ্রমণে পরিবারের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তারও একটি স্পষ্ট চিত্র দিয়েছে সমীক্ষা। গ্রামীণ পরিবারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে মোট নন-প্যাকেজ খরচের ৭৪.৯ শতাংশ চলে যায়। শহরের ক্ষেত্রে এই হার ৭৫.১ শতাংশ। গ্রামীণ পরিবারের ক্ষেত্রে থাকার খরচ ১০.৯ শতাংশ, খাবারে ৬.২ শতাংশ, যাতায়াতে ৫.৫ শতাংশ, কেনাকাটায় ১.৭ শতাংশ এবং বিনোদন ও অন্যান্য খাতে ০.৮ শতাংশ। শহরাঞ্চলে থাকার খরচ ১১.৮ শতাংশ, খাবারে ৫.৬ শতাংশ, যাতায়াতে ৫.৩ শতাংশ, কেনাকাটায় ১.৬ শতাংশ এবং বিনোদন ও অন্যান্য খাতে ০.৬ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাম ও শহর, দুই ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সংক্রান্ত রাতভর ভ্রমণের মোট নন-প্যাকেজ ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সরাসরি চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে যাচ্ছে।
কেন গ্রামীণ পরিবারের চিকিৎসা ভ্রমণ বেশি?
পরিসংখ্যানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবণতা তুলে ধরছে। গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবার চিকিৎসার জন্য নিজেদের এলাকার বাইরে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়া, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন অথবা উন্নত হাসপাতাল ও চিকিৎসা পরিকাঠামোর কাছে যেতে হওয়া এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে এই কারণগুলির প্রত্যেকটির মাত্রা এই পরিসংখ্যান থেকে আলাদা করে নির্ধারণ করা যায় না।
এর ফলে চিকিৎসা শুধু হাসপাতাল বা ওষুধের খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে হলে যাতায়াত, থাকার জায়গা এবং খাবারের মতো অতিরিক্ত খরচও যুক্ত হচ্ছে। গ্রামীণ পরিবারের ক্ষেত্রে এই পুরো ভ্রমণের গড় ব্যয় ২৯,৪৫৪ টাকা হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজন একটি পরিবারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।
সরকারি সহায়তার অংশ কতটা?
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ পরিবারের চিকিৎসা সংক্রান্ত মোট খরচের মাত্র ৮.২ শতাংশ সরকারি রিইম্বার্সমেন্ট বা খরচ ফেরতের মাধ্যমে মেটানো হয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসার বাকি বড় অংশ পরিবারকেই বহন করতে হয়েছে। এই তথ্য চিকিৎসা পরিষেবার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যয়ের আর্থিক দিকটিও সামনে আনছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পরিবারগুলির ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হলে চিকিৎসা খরচের সঙ্গে যাতায়াত এবং থাকার ব্যয়ও যুক্ত হয়।
রাতভর ভ্রমণের ছবিতে বড় পার্থক্য গ্রাম ও শহরে
এনএসও-র তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, গ্রাম ও শহরের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় রাতভর ভ্রমণের ৩৮.৪ শতাংশ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার কারণে, যেখানে শহরে তা ১৬.৫ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে ছুটি, অবসর ও বিনোদনের জন্য রাতভর ভ্রমণের হার ৩৬.৪ শতাংশ, যা গ্রামীণ এলাকার ১২.৫ শতাংশের প্রায় তিনগুণ।
এই তথ্য দেখাচ্ছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের একটি বড় অংশ শুধুমাত্র বিনোদন বা পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত নয়। চিকিৎসা, ধর্মীয় যাত্রা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজও দেশের রাতভর ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এনএসও-র ডিটিইএস ২০২৫-২৬ সেই বাস্তবতার একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক ছবি তুলে ধরেছে।
Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.