দেখতে থাকু‍ন! লগ্নির আশ্বাস শুভেন্দুর গলায় - 24 Ghanta Bangla News
Home

দেখতে থাকু‍ন! লগ্নির আশ্বাস শুভেন্দুর গলায়

Spread the love

এই সময়: নতুন জমানায় শিল্প সম্মেলন কবে হবে, তার দিনক্ষণ সরকারি ভাবে এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলায় শিল্পের হাল ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেছে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, মিলেছে একাধিক শিল্প স্থাপনের আশ্বাসও। এ বার রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনা নিয়ে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠক করলেন তিনি। সোমবারের সেই বৈঠকে শিল্পস্থাপনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই বৈঠকের বিষয়ে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলায় অনেক বিনিয়োগ হবে।’ তবে এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গেলেই সরকারি ভাবে তা ঘোষণা করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। এরই মধ্যে আজ, বুধবার বিকেলে ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলায় বিভিন্ন শিল্প সংস্থার হাতে জমির অনুমোদনপত্র তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এক দিকে শিল্পপতিদের বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, আর অন্য দিকে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বিতরণের কাজও জোরকদমে চালাচ্ছে তাঁর সরকার। আজ, বুধবার ৩৩টি শিল্প ইউনিটের অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে জমি তুলে দেবেন‍ শুভেন্দু। নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সোলার পাওয়ার, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মা, স্টিল, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্র এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যান্ড অ্যালটমেন্ট লেটার’ বণ্টন করা হবে। হরিণঘাটা, খড়্গপুর, পানাগড়, রঘুনাথপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, কোচবিহার, সল্টলেক ও অঙ্কুরহাটিতে এই সব শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হবে রাজ্যের তরফে। এতে প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থান হবে বলেও সূত্রের দাবি।

শিল্পায়নের এই কর্মযজ্ঞের মধ্যে মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানির বাসভবন অ্যান্টিলিয়ায় গণেশ পুজোয় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই আমন্ত্রণেই সোমবার সন্ধেয় মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কালীঘাটের মা কালীর মূর্তির একটি প্রতিরূপ তিনি উপহার দেন আম্বানিদের। শুভেন্দু-আম্বানির সাক্ষাতে যে রাজ্যের শিল্পের বিষয়টিও উঠে আসবে, তা অনুমান করছিলেন অনেকেই। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। যুবসমাজের উন্নতিতে এবং রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুত্থানে গতি আনবে— এমন দূরদর্শী বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে পশ্চিমবঙ্গ প্রস্তুত।’ রাজ্যে বিনিয়োগ এলে তা রাজ্যের যুবসমাজের পাশাপাশি অর্থনীতিকেও যে চাঙ্গা করবে, সে কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার কোচবিহারে গিয়ে আম্বানিদের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘আম্বানি পরিবারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ডিনার করেছি। বাংলায় অনেক বিনিয়োগ হবে, দেখতে থাকুন।’

গত জুনে গৌতম আদানির পুত্র তথা আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা করণ আদানির সঙ্গে নবান্নে বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রীর। তার পরেই জানা যায়, নিউ টাউনে ২০০০ বেডের একটি হাসপাতাল তৈরি করছে আদানি গোষ্ঠী। মঙ্গলবার কোচবিহারে গিয়ে সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘আদানি হাসপাতালের ভূমিপুজো দু’দিন বাদেই হবে।’ সূত্রের খবর, আগামিকাল, বৃহস্পতিবার কলকাতায় ফের আসার কথা আদানি গোষ্ঠীর কর্তাদের। গত কয়েক মাসে ডানকুনি থেকে পুরুলিয়ায় কয়েক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে একাধিক শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন সংক্রান্ত প্রকল্পেরও ঘোষণা হয়েছে।

বিজেপি শুরু থেকেই বলে আসছে, তৃণমূল জমানায় গত দেড় দশকে রাজ্যে কোনও ভারী শিল্প আসেনি। পালাবদলের পর থেকে বাংলার শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তি বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। কিছু শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং নতুন কারখানার শিলান্যাস দেখা গিয়েছে গত কয়েক মাসে। এই পরিস্থিতিতে আম্বানিদের সঙ্গে শুভেন্দুর শিল্প-আলোচনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে শিল্পমহল।

জুলাইয়ে এক অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, বিজেপি সরকার এসেছে বলেই বিমুখ শিল্পপতিরা বাংলায় ফিরছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার মানুষ বেঁচে গিয়েছে। তৃণমূল গিয়েছে, বাংলা-বাঙালি বেঁচে গিয়েছে। বাংলায় বন্ধ হয়েছে গুন্ডা ট্যাক্স। বাংলায় ফিরছেন বিমুখ শিল্পপতিরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *