রাজ্যের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব আনতে উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রিরর ভাবনা WBPDCL র
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড বা WBPDCL এখন নিজের উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রি করে রাজ্যের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব আনার পথে এগোচ্ছে। সম্প্রতি কর্পোরেশনটি নিজের…
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড বা WBPDCL এখন নিজের উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রি করে রাজ্যের কোষাগারে অতিরিক্ত রাজস্ব আনার পথে এগোচ্ছে। সম্প্রতি কর্পোরেশনটি নিজের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য পর্যাপ্ত ক্যাপটিভ কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করার পর অতিরিক্ত কয়লা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় করার লক্ষ্য স্থির করেছে, যা আগামী কয়েক বছরে রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।WBPDCLএবং NTPC মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অধীনে পাঁচ লাখ টন কয়লা মার্চ ২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
আরও দেখুনঃ আসছে ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্প! বেকার ভাতা ও আবেদনের নিয়ম নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
ইতিমধ্যেই তারা কয়লা খনি থেকে প্রথম ৩,৫০০ টনের একটি রেক লোড করা হয়েছে এবং তা এনটিপিসির কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এনটিপিসি এই অতিরিক্ত দেশীয় কয়লা ব্যবহার করবে তাদের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির পরিচালনার জন্য। দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ শুধু নিজেদের অতিরিক্ত সম্পদের সদ্ব্যবহার নয়, বরং কেন্দ্রীয় পাওয়ার জায়ান্টের সঙ্গে সহযোগিতার একটি উদাহরণও হয়ে উঠেছে।
Advertisements
এর পাশাপাশি WBPDCL আরও ৩০ লাখ টন কয়লা ই-অকশনের মাধ্যমে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে। মোট ৩৫ লাখ টন উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি টন কয়লার গড় মূল্য প্রায় তিন হাজার টাকা ধরলে এই বিক্রি থেকে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থ রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, পরিকাঠামো মজবুতকরণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
কয়লা খনি থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত জ্বালানি যদি সঠিকভাবে বাজারজাত করা যায়, তাহলে তা শুধু আর্থিক লাভই আনবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করবে।রাজ্য সরকার একইসঙ্গে ডব্লিউবিপিডিসিএল-এর শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। এই তালিকাভুক্তি হলে কর্পোরেশনের আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে, তহবিল সংগ্রহ সহজ হবে এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি রাজ্য এখন উদ্বৃত্ত সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরিত করার দিকে নজর দিচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য রাজ্যের পাওয়ার ইউটিলিটিগুলিও অনুপ্রাণিত হতে পারে। দেশে কয়লার চাহিদা এখনও উল্লেখযোগ্য এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানি ব্যয় কমবে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তারা এবং অন্যান্য খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা যদি নিয়মিতভাবে বাজারজাত হয়, তাহলে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও স্থিতিশীল থাকবে। পরিবেশগত পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য টেকসই খনন ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়।সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম রেক পাঠানোর পর ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে।
ই-অকশনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্রেতা নির্ধারণ করা হবে, যাতে সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়া যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের নজরদারি থাকবে যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে। উদ্বৃত্ত কয়লা বিক্রির এই মডেল শুধু আর্থিক লাভের বিষয় নয়, বরং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের একটি উদাহরণ। পশ্চিমবঙ্গ যদি এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে, তাহলে তা রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের আত্মনির্ভরশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।