‘পাঠকদের জন্য নয়, নিজের অনুসন্ধিৎসা থেকেই লিখি’: তৃষ্ণা বসাকের সঙ্গে একান্ত আলাপে বাণী বসু - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘পাঠকদের জন্য নয়, নিজের অনুসন্ধিৎসা থেকেই লিখি’: তৃষ্ণা বসাকের সঙ্গে একান্ত আলাপে বাণী বসু

Spread the love

বাণী বসুর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তৃষ্ণা বসাক

 
 
প্রণাম দিদি। আপনি এখন কেমন আছেন?
 
প্রশ্ন ১ আমি শুরু করি আমার একটা বিস্ময় থেকে। এখনো আপনার লেখার খিদে বিস্ময়কর। সেদিন আপনার সঙ্গে গল্প করতে করতে মনে হল, এই যে এত পুরস্কার, এত পাঠকপ্রিয়তা, এত দিনের লেখার যাত্রা- একটা ক্লান্তি তো আসে, কিছু  ক্ষোভ তৈরি হয়, এইটা পাওয়া উচিত ছিল, পাইনি। আপনার মধ্যে তা দেখলাম না। কী করে এই লেখার খিদে ধরে রাখলেন, যে খিদে আপনাকে দিয়ে এই বয়সেও কৃষ্ণ বাসুদেব লিখিয়ে নিতে পারে?
উত্তর ১-তুমি ভুলে গেছো আমি কিন্তু বিশ বছর বয়স থেকে লিখছি না, বড়ো বড়ো লেখকদের মতো। চল্লিশ থেকে পাবলিশ করছি। কাজেই আমার হয়তো এখনো সময় যায় নি।  আর এখন যা সময়,লেখার ইচ্ছে চলে যাচ্ছে। লিখে আমার যেটুকু প্রাপ্তি হয়েছে সেটুকু বোঝার জানার সুযোগ আমি পাই নি। আমি খানিকটা নিভৃতবাসীও বটে, খবরাখবর রাখি না তত সেটাও বটে। তা ছাড়া পাঠকদের জন্যে লিখি  না। নিজের জন্যে লিখি। পাঠকরা ভালোবাসলে সেটা উপরি পাওনা হয়।
 
 পাঠকের জন্য লিখি না কথাটা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আসলে আমি পাঠকদের রুচি ও চাহিদা বিষয়ে  জেনে লিখি না। আজকাল যেটা খুব হচ্ছে।  কোনো বিষয়ে নিজের বিশেষ জিজ্ঞাসা থাকলে  সেটা নিয়েই মনে মনে চর্চা করি, আর সেটাই  লেখার রূপ পায়। বুদ্ধ আসলে কেমন ছিলেন, তাঁর সময়ের মানুষজন তাঁকে কী চোখে দেখতো জানতে চেয়ে মৈত্রেয় জাতক, কৃষ্ণ মানুষটি লোকশ্রুতির আড়ালে সত্যি কী ছিলেন জানতে চেয়ে কৃষ্ণ বাসুদেব, এইভাবে আমার লেখা।
আমাদের আদিপুরুষরা আদিনারীরা কেমন করে কী করলেন, বা করা সম্ভব সেই কৌতূহল থেকেই আদি সংবাদ।
 
 
প্রশ্ন ২ বিজনেস ম্যানেজমেন্টে সোওট অ্যানালিসিস আছে। SWOT. STRENGTH, WEAKNESS, OPPORTUNITY, THREAT.  এখানে যে কোন প্রকল্পের STRENGTH, WEAKNESS, OPPORTUNITY, THREAT  অ্যানালিসিস করা হয়। একজন লেখকের শক্তি কোনটা ? দুর্বলতা কী? সুযোগ কী? বিপদই বা   কী?
 
উত্তর- ২ একজন লেখকের আসল শক্তি তার আইডিয়া, আইডিয়াকে লোকগ্রাহ্য রূপ দেয়ার ক্ষমতা।
দুর্বলতা পাঠকসাধারণের  কথায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া। পাঠকপ্রিয় না হতে পারলে মুষড়ে পড়া।
একেবারে অগ্রাহ্য করাটাও ঠিক না। নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। নতুন করে ভাবতে হয়. কার মতটাকে গুরুত্ব দিতে হবে সেটা না বুঝতে পারলে মুশকিল।
সুযোগ বলতে ঠিক কী বোঝায়? চারপাশে রয়েছে ঘটমান, বহমান জীবন, রয়েছে বিচিত্র জনরূপ আর রয়েছে নিজের অন্তরলোক। এখান থেকেই সাহিত্যের উপাদান সংগ্রহ করা যায়। সেটাই সুযোগ। ল্যাবরেটরি নিজের আশে পাশেই।
থ্রেট তো অজস্র। নতুন কিছু করতে চাইলে বিরোধ আসবে। সত্য বলতে চাইলে প্রাণসংশয়। চারপাশ থেকে বিষয় বাছলে  কারুর সঙ্গে যদি মিলে যায় কিছুটা তা হলে শত্রুতা পেতে হবে।
 
প্রশ্ন  ৩  আপনার এই উত্তর থেকে নতুন লেখক কী করা উচিত আর কী করবে না- একটা দিশা পাবে। এখন একটু অন্য কথা জানতে ইচ্ছে করছে। আপনাকে প্রথম  চিনেছি অনুবাদক হিসেবে ।  মমের সেরা প্রেমের গল্প , রূপা থেকে প্রকাশিত। এখনো আছে আমার কাছে বইটা। সমারসেট মমকে চেনা আপনার অনুবাদের মধ্যে দিয়ে। অসাধারণ অনুবাদ। এই নিয়ে আমার একটা ব্যক্তিগত স্মৃতি আছে। তখন আমি সম্ভবত ক্লাস ইলেভেনে পড়ি। বাবা আমাকে এই বই উপহার দিয়েছিলেন।     সেই অনুবাদ পড়ে  বাবা বলেছিলেন ‘’এই লেখিকা অনেক দূর যাবেন’ তখনো  কিন্তু আপনার মৌলিক  কোন লেখা পড়িনি। ঠিক তার পরের বছর তিনি চলে গেলেন। এরপর দেশে গল্প পড়লাম মিসেস গুপ্তরা , আনন্দলোকে বেরোল আপনার প্রথম উপন্যাস  জন্মভূমি মাতৃভূমি।
এরপর আপনি মৌলিক লেখায় এত ব্যস্ত হয়ে পড়লেন যে অনুবাদ আর সেভাবে পাইনি। কিন্তু অনুবাদ নিয়ে আপনার ভাবনা চিন্তা এখনো চলছে। সম্প্রতি আমার সম্পাদনায় অনুবাদ তত্ত্বের একটি বইতে আপনার একটি ছোট লেখাও পেয়েছি। একটু ব্লুন না অনুবাদ নিয়ে আপনি কী ভাবেন। কী অনুবাদ করবেন, কেন করবেন এবং কীভাবে করবেন, মানে  বাক্যের গঠন,  ভাষার শৈলী এইসব নিয়ে আপনার নির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা কী আছে একটু জানতে চাই।
 
উত্তর ৩ অনুবাদগুলো করেছিলাম  অনুরূদ্ধ হয়ে। প্রথম করি আমার শ্বশুর মশায়ের আজ্ঞাতে।  আই সি এস চারুচন্দ্র দত্তকে মনে আছে? বিলেতের  কথা লিখেছিলেন। আরো অনেক কিছু। ইনি সস্ত্রীক পন্ডিচেরিতে চলে যান। এঁর লেখা My Master as I saw Him বলে একটি লেখা ছিল শ্রী অরবিন্দর ওপর. ইনি ছিলেন আমার শ্বশুরের পিসতুতো জ্যাঠামশাই। খুব শ্রদ্ধা ভক্তির মানুষ। তাঁর সেই লেখাটা অনুবাদ করি। নলিনীকান্ত সরকারের নাম শুনেছো তো? সরি, নলিনীকান্ত সরকার নয়। গুপ্ত। দুজনেই বিখ্যাত। প্রথম জীবনে বিপ্লবী, পরে গৃহী সন্ন্যাসী, শ্রী অরবিন্দর একেবারে প্রথম সঙ্গী পন্ডিচেরির জীবনে। ইনি একজন স্কলার ও লেখক। ইনি আমার ওই অনুবাদ পড়ে খুব খুশি। বললেন এই অনুবাদ উজ্জ্বল। একে দিয়ে শ্রী অরবিন্দর কবিতা অনুবাদ করাও। সেই আমার কবিতা অনুবাদ। সেগুলো পড়ে  রূপা র মেহতা আমাকে তাঁদের জন্য Maugham  অনুবাদ করতে বলেন, পরে D  H Lawrence। এই আমার অনুবাদের হিস্ট্রি। তখন আমি নিজের লেখার তাপে ফুটছি। আর অনুবাদ করি নি।
 
কিন্তু তৃষ্ণা,অনুবাদ আমার খুব প্রিয় বিষয়। মনে হয়, অনুবাদগুলো করা উচিত ওয়ার্কশপ করে। কবিতার অনুবাদ সবচেয়ে কঠিন, বিশেষ রবীন্দ্রনাথ। উনি নিজে যেগুলো করেছেন, সেগুলোতে দেখবে একটু লিবার্টি নিয়েছেন। এটা কবি নিজে পারেন, অন্যরা করলে গ্রাহ্য হয় না। এক ভারতীয় ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করলে ইডিয়মগুলো না জানলে খুব মুশকিল।  একই প্রবচন দুটো ভাষায় দু রকম হয়। এগুলো লিপিকার  (লিপিকা সাহা) বাংলা –হিন্দি ফলো করতে গিয়ে দেখেছি। অন্য দেশীয় ভাষার বেলাতেও  কথাটা খাটে। সবচেয়ে গোলমাল হয় ভাষার চলনটা ধরতে। বাংলায় টেনস সিস্টেমটা অনেক flexible। প্রেসেন্ট দিয়ে পাস্ট এমন কী ফিউচারও বোঝানো যায়। বাংলায় ভার্ব অত লাগে না। সমাস কোনো ব্যাপারই না। যখনতখন ব্যবহার হয়। বাংলায় প্রতিশব্দ প্রচুর। সম্পর্ক শব্দে আমাদের precision অনেক বেশি। আঙ্কেল কেমন, কাজিন ঠিক কেমন কাজিন এ সব স্পষ্ট বোঝার বন্দোবস্ত আছে। এ গুলো ব্যবহার করতে পারলে অনুবাদ সাবলীল হবে।

প্রশ্ন ৪-   একদম ঠিক। আদি সংবাদ উপন্যাসের রিভিউ নিয়ে সেদিন যা কথা হচ্ছিল আমাদের, আপনি বললেন উপন্যাসের স্ট্রাকচার নিয়ে আমি কিছু লিখিনি কেন? সত্যি বলতে কি মূল ধারার পাঠক উপন্যাসের কন্টেন্ট নিয়েই বেশি আগ্রহী। অর্থাৎ গল্পটা কী আছে, এক নিঃশবাসে পড়ে ফেলা যাচ্ছে কিনা – এটাই বিচার্য। উপন্যাসের স্ট্রাকচার  লক্ষ্য কম মানুষেই করে। আপনার কাছে স্ট্রাকচার কতটা গুরুত্বপূর্ণ?  বিষয় অনুযায়ী আপনি কেমন ভাবে স্ট্রাকচারের পরিকল্পনা করেন?
 
উত্তর ৪- দেখো, স্ট্রাকচারালিজম এর একটা জটিল তত্ত্ব আছে। এঁরা বলছেন উপন্যাসের আসল মানে তার চরিত্র কাহিনী ইত্যাদি এলিমেন্ট দিয়ে নির্ধারিত হয় না। হয় তার বেসিক প্যাটার্ন দিয়ে। খানিকটা হলেও কথাটা আমি মানি। কিন্তু তত্ত্ব অনুসরণ করে তো লেখা হয় না। লেখাটা হয়ে যাবার পর দেখি, আরে, বেসিক  প্যাটার্নটার  এখানে তো দেখা যাচ্ছে বেশ তাৎপর্য রয়েছে! এই যে ছোট্ট উপন্যাস আদি সংবাদের ক্ষেত্রে সেটাই দেখলাম। আমি সাইকোলজির ভাষায় ফ্রি এসোসিয়েশন পদ্ধতিতে লিখি। মানে আগেকার লেখক, পৃথিবী তথা ভারত তথা মানুষজাতি, তাদের নষ্টামি  বা তাদের সদ গুণ সব কিছু চেতনায় নিয়ে লেখাটা হচ্ছে। পাস্ট প্রেসেন্ট সব কিছু। ধরো প্রথম রেফারেন্স হলো বিভূতিভূষণ, তাঁর চরিত্র, তাঁর জিজ্ঞাসা, যা আসলে লেখকের নিজেরই জিজ্ঞাসা। তার থেকে কথোপকথনের ভঙ্গিতে পৃথিবীজোড়া অন্য মানুষদের জিজ্ঞাসায় গেলাম। পাঠকের সঙ্গে কথা বলছি- ভঙ্গিটা এইরকম। এইবারে আদি কাহিনীটা কী ভাবে ধরা দিচ্ছে আজকের এক বা দুই জিজ্ঞাসুর কাছে, কাহিনী শুরু হলো।
 
প্রশ্ন ৫  – অসাধারণ।  আচ্ছা, আপনার প্রিয় লেখক এবং অনতিক্রম্য লেখক – এ দুটির যদি তালিকা করা যায়, তবে কি দুটি তালিকাতেই এক লেখক থাকবেন না আলাদা আলাদা? কেন?
 
উত্তর ৫ –  অনতিক্রম্য লেখক তো মাত্র চারজন। ব্যাস, বাল্মীকি হোমর আর শেক্সপীয়ার। তাও হোমর আমি পড়িনি। সে ভাবে দেখতে গেলে ব্যাস বাল্মীকিও পুরো  পড়িনি।  আর প্রিয়ত্ব সব সময়ে শ্রেষ্ঠত্বর ওপর নির্ভর করে না। তোলস্তয় একজন মহালেখক অবশ্যই কিন্তু somehow আমার  Dostoevsky প্রিয়। জানি কামু একজন আধুনিকতম লেখক যিনি আধুনিক মানুষের সংকট সফলভাবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু Anatole France, Victor Hugo, বা Dumas আমার প্রিয়. রবীন্দ্রনাথ সবদিক ছেয়ে রয়েছেন, তাঁতে মজে আছি, কিন্তু জীবননন্দ বা বিভূতিভূষণ  যেন কোন এক নিভৃত প্রাণের দেবতা।
এ রকম কেন হয়? পাঠকের টেম্পারেমেন্টের ওপরই কী সবটা নির্ভর করে? উত্তর দিতে পারবোনা। এখনকার লেখকদের অনেক লেখা ভালো লাগে, কিন্তু কোনো লেখক আমার  প্রিয় সামগ্রিক ভাবে এ কথা বলা শক্ত। ভাল লেখা ভীষণভাবে appreciate করি, কিন্তু কোনো একজন ভালো লেখকের লেখা বলেই যে সেটা আমার favourite হবে তার কোনো মানে নেই।
 
প্রশ্ন ৬ – হ্যাঁ, এরকম আমার হয়। প্রিয় কেন প্রিয় বলা খুব শক্ত। একটু অন্য কথায় যাই। বলা হয়  রাইটিং ইজ পলিটিকাল। ‘উত্তরসাধক’ উপন্যাসে এক অধ্যাপকের সমাজকল্যাণে জড়িয়ে পড়ার কথা আছে, অষ্টম গর্ভে অনেকগুলি স্তরে রাজনীতি আছে, যেমন লিংগ রাজনীতি।  প্রাচীন ভারতের  তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক   পর্যবেক্ষণ আছে মৈত্রেয় জাতকে। আর সাম্প্রতিক কৃষ্ণ বাসুদেব তো  ভারতের সবচেয়ে পরিচিত রাজনীতিককে নিয়ে লেখা। রাজনীতি কীভাবে সাহিত্যে আসা উচিত, তা নিয়ে আপনার কি কিছু  পরিকল্পনা থাকে? খনামিহিরের ঢিপিতেও লিঙ্গ রাজনীতির ভয়ানক ছবি। বলতে গেলে  লিঙ্গ বিভাজনের ইতিহাস। একটু যদি বলেন।
 
উত্তর  ৬ – রাইটিং ইজ পলিটিকাল — মানেটা কী দাঁড়ায় আমি বুঝতে পারি না। পলিটিকাল মানে আসলে সোশ্যাল। রাইটিং কেন, সব কাজই শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল। এই সোসাইটি  অর্থাৎ মানবসমাজ তো সোশ্যাল- এ ঢুকেই বসে আছে। তাকে বাদ দিয়ে কোনো একটিভিটি হবে কী ভাবে? প্রশ্নটা দাঁড়ায় যদি পলিটিকাল শব্দটার সীমিত অর্থটা ধরি। পলিটিকাল সেখানে মানে হবে রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয়। সে ক্ষেত্রে পলিটিক্সকে সব লেখায় ঢুকতে হবে কেন? কিন্তু এও সত্য যে কোনো বড়ো লেখা লিখতে গেলে পলিটিকাল পারসপেক্টিভ এসেই যায়। যে ভাবেই আসুক যেন  Aesop’s fable এর আকারে না আসে। জীবন যে পলিটিকস – র  থেকেও অনেক অনেক বড়ো কিছু এই জ্ঞানটা হারিয়ে ফেললেই মুশকিল।
 
 
 
প্রশ্ন ৭ – বেশ।  একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে। সম্প্রতি চন্দ্রকেতুগড়ে গিয়েছিলাম। খনা মিহিরের ঢিপি দেখলাম। আপনার উপন্যাসটির কথা মনে পড়ছিল। এই বিষয়টি আপনি বেছে নিলেন কেন? খনা মিহিরের ঢিপি যেমন লিংগ বিভাজনের তেমনি গার্হস্থ্য হিংসার। । যেমন আরেকটি ‘ভাল খারাপ ছেলে’।
 
উত্তর ৭ – আমিও চন্দ্রকেতুগড় গিয়েছিলাম। সংলগ্ন বেড়া চাঁপা ইত্যাদিতেও। ওখানে একটা মিউজিয়াম আছে। এক মুসলিম ভদ্রলোকের তৈরি। খনার কাহিনী তার ইতিহাস ভূগোল নিয়ে আমার বরাবরই খুব কৌতূহল। খনা যেন এক প্রতীকী নারীকাহিনী। ওই স্তুপের তলায় নাকি চাপা পড়ে আছে খনার সেই কাটা জিভ। এমনি রোমহর্ষক এই কাহিনী যে  তখনি এই উপন্যাসের বীজটা আমার মনে এলো।
 সভ্যতার ইতিহাস যদি সরল গতিতে এগত তাহলে নারীর enslavement এর দরকার হতো না। একটা কম্পেটিটিভনেস আর সেলফিশনেস এসে যাওয়ায় খনার দশা হলো মেয়েদের, তাই না? ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর ওপর ভর করেই তো enslavement শুরু, জিভ কেটে নেওয়াই তো সেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স গো!

প্রশ্ন ৮ – গান্ধর্বী উপন্যাস একজন অসফল গায়িকাকে নিয়ে। গান আপনাকে কতটা ঘিরে থাকে? যতদূর মনে পড়ে আপনি এক বা একাধিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রগানের গ্রন্থনা করেছিলেন।
 সিনেমার স্ট্রাকচার পাশ্চাত্য সঙ্গীতের স্ট্রাকচারের কাছে ঋণী। আপনি কি সেইভাবে ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের চলন উপন্যাসে ব্যবহার  করার কথা ভেবেছেন?
 
 
 
 
 উত্তর ৮ –  গান আমার খুব প্রিয় বিষয়। রাগসংগীতের ভেতর আমি এক পৃথিবী গভীরতা পাই। অনুভূতির গভীরতা। তুমি দেখবে আমাদের ফিল্মে সিরিয়ালে কিভাবে গান ব্যবহার করে অতি খেলো একটা জায়গাকে কী রকম সুন্দর করে দেয়। রবি গানের তো কথাই নেই। ফিল্মের লোকেদের রবীন্দ্রনাথ একেবারে নিশ্চিন্ত করে দিয়েছেন। যেই আর কথা সরছে না, ফিলিং প্রতিষ্ঠা করতে পারা যাচ্ছে না অমনি একটা রবি গান । 
আমি উপন্যাসের form কে  খুব গুরুত্ব দি ঠিকই। কিন্তু সচেতনভাবে সেটাকে গঠন করতে যাই না। তাহলে পুরোটাই কৃত্রিম হয়ে যাবে। তুমি বলছো, তাই ভেবে  দেখলাম এই যে উপন্যাস যত এগোয় তার গতি তত বেড়ে যায় সেটাকে ঝালার সঙ্গে তুলনা করা যায়। বিমল মিত্র শুনেছি খেয়ালের বিস্তার বা আলাপের স্টাইল উপন্যাসে প্রয়োগ করতেন। বারবার এক প্রসঙ্গে ফিরে আসা যেন সম এ ফিরে আসা। এক্সপেরিমেন্টটা কী সফল হয়েছিল?
 
 
প্রশ্ন ৯ – গান নিয়ে আমিও এমন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। গান ছেড়ে কবিতায় আসি। সম্প্রতি  দেখছি কবিতায় পেয়েছে আপনাকে, কবিতার বইও বেরিয়েছে।  এটা কি আপনার প্রথম কবিতার বই?  কবিতা কি আপনি বরাবর লিখেছেন, চুপিচুপি? অনেকের মতোই প্রথমে কবিতা পরে গদ্য – আপনার ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে না উল্টোটা?  কবিতাগুলো পড়লে মনে হয় যেন এক ঝর্নার মুখ পাথর দিয়ে বন্ধ ছিল, পাথর সরে যেতে শতধারায় ঝরনা বইছে। কবিতা এখন আসছে, কেন?
 
 
উত্তর ৯ – আমি কবিতা আর গদ্য দুটো একই সঙ্গে শুরু করি। কিছু কবিতা এক নামী কবিকে পড়তে দেওয়া হয়, তিনি encourage করেন নি। ব্যাস, আমার হয়ে গেলো। কিন্তু আমার ছোট গল্প উপন্যাসে যখনি সুযোগ পেয়েছি,  কবিতা ঢুকিয়েছি। পাঠক হয়তো ভেবেছে ও গুলো quotes। ‘একুশে পা’, ‘কবিকাহিনী’, ‘পঞ্চম পুরুষ’ এগুলোতে যথেষ্ট কবিতা আছে। কোভিড এর সময়টা, ২০২০-র  মার্চ থেকে শুরু। আরেকটা booster এর কথা না বললে অন্যায় হবে। আর একজন কবি আমার কবিত্ব স্বীকার করলেন। জানি না, ওই সময়ের ঘোর রাজনৈতিক সংকট, এপিডেমিক, পলিউশনহীন পৃথিবীদর্শনের আনন্দ, কীসের সংযোগে হঠাৎ এই  কবিতা উৎসার। এখন আর আসছে না।
 
 
 
 
প্রশ্ন ১০ – আসবে নিশ্চয় আবার। আচ্ছা আব্র গদ্যে ফেরা যাক।  শার্লক হোমস অকুস্থলে গিয়ে তদন্ত করতেন, কোথায় মাটির রঙ কীরকম, কার্পেট উল্টোনো হয়েছিল কিনা- এইসব।  আর তাঁর  সাত বছরের বড় দাদা মাইক্রফট হোমস ইজিচেয়ারে শুয়ে শুয়ে রহস্যের সমাধান করতেন। আপনার কোনটি পথ? মানে ক্ষেত্র সমীক্ষা করে লেখা , নাকি একজায়গায় বসে বসে মাথার মধ্যে লেখাটাকে ঘনিয়ে তোলা? অভিজ্ঞতা, কল্পনাশক্তি, অনুভব  মিশ্রণের অনুপাত কোনটা  কতটা?
 
উত্তর ১০ –   By compulsion Mycroft. কারণ, না আছে আমার শারীরিক বল, না আছে তেমন সুযোগ। এখনো যে নিয়ম করে বেড়াতে যাই, সমস্ত এজেন্ট ঠিক করে দেয়,  ভালো হোটেল, সুখপ্রদ সুবিধাজনক যানবাহন এ সব বুঝে নিয়ে যেতে হয়। Partly ছেলের জন্যে, মেয়ে নাতিকেও কষ্টকর কোথাও নিয়ে ফেলতে পারি না। নিজের ক্ষমতাও  তথৈবচ। অনেক আগে, এরা যখন ছোট ছিল তখন বরং মধুপুর গিয়ে কবিতা লিখেছি, দার্জিলিং পুরী মুসৌরি হরিদ্বার এ সব জায়গায় গিয়ে লিখেছি, ফিরে এসেও সে সব inspiration তাজা থেকেছে। Emotion recollected ইন tranquility যাকে বলে। জানো, মজার কথা হলো মৈত্রেয় জাতক লিখলাম. Asiatic Society তে বসে বসে। রাজগীর যাবার সুযোগ এলো পরে। গিয়ে দেখি সব চিনতে পারছি। বেণুবন থেকে অজাতশত্রুর কারাগার, সব সঙ্গীদের, নিপুণ গাইডের মতো চিনিয়ে নিয়ে গেছি। সবাই অবাক। একই ঘটনা অজন্তাতেও। নারায়ণ সান্যালের  ‘অপরূপা অজন্তা’ পড়ে গিয়েছিলাম। সব চিনতে পারছিলাম। যাই হক, এখন আর সেই ম্যাজিকটা হয় না। তবে ফিল্ড ওয়ার্ক একবার করতে হয়। ‘রাধানগর’ উপন্যাস লেখবার সময়ে এংলো কমিউনিটির বাসস্থানগুলো দেখার দরকার পড়েছিল। মধ্য কলকাতা, বউবাজার, নিউ মার্কেটের আশপাশে তখন গাড়ি নিয়ে একটু ঘোরাঘুরি করি। তবে একটা জিনিস, নিজের জায়গাটিতে না বসলে যেন মাথা খেলতে চায় না। তাই Sherlock আর  Mycroft দু জনেই আছেন!

প্রশ্ন ১১- গল্পহীন গল্প বিষয়ে আপনার অভিমত কী?  এইরকম গল্প  লিখতে আপনি কতটা স্বচ্ছন্দ?
উত্তর ১১ – গল্পহীন গল্প একটা সোনার পাথরবাটি। কিছু না কিছু গল্প এলিমেন্ট থাকবেই। একটা গল্প ঠিকঠাক ফলিয়ে তোলাও কিন্তু খুব সহজ নয়। গোয়েন্দা গল্প নয়, অথচ সাসপেন্স রয়েছে সত্যিকারের, এমন গল্প যিনি লিখতে পারেন তিনি সিদ্ধ গল্পকার।
 
 
 
প্রশ্ন ১২ – আচ্ছা,  পূর্বনারীদের কাছে, বলতে চাইছি পূর্ব লেখিকাদের কাছে আপনার ঋণ কতটা? জ্যোতির্ময়ী দেবী, সুলেখা স্যান্যাল, সাবিত্রী রায় এবং পরবর্তীকালে আশাপূর্ণা দেবী, লীলা মজুমদার, মহাশ্বেতা দেবী- এই পরম্পরাকে আপনি কতটা মান্যতা দেন? 
 
উত্তর ১২ – সরি, আমি এখনো সুলেখা সান্যাল এঁদের পড়ি নি। জ্যোতির্ময়ী দেবী যেটুকু পড়েছি খুব আশ্চর্য হয়েছি। আশালতা সিংহ একজন মান্য লেখিকা। লীলা মজুমদার তাঁর নিজের জায়গায় দারুণ। মহাশ্বেতা দেবী – আই ওয়ারশিপ। সুবোধ ঘোষের পর ওই রকম ছোটগল্প আর কেউ লেখেন নি।  আমি কারুর দ্বারা ইনফ্লুয়েন্সড হই নি। তুমি কী কোনো প্রভাব পাও? আমি তো সবটা বিচার করতে পারবো না। তবে সে সময়ে আমি বুদ্ধদেব বসুকে খুব পছন্দ করতুম।
 
 
প্রশ্ন ১৩ – দিদি, একটা অভিযোগ জানাই। কল্পবিজ্ঞানের গল্প আরও লিখলেন না কেন? আমার সম্পাদিত ‘প্রমীলা কলমে কল্পবিজ্ঞান’-এ  আপনার একটি চমৎকার গল্প পেয়েছি, ‘জেগে ওঠো’, যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শিশু ঘুমিয়ে পড়ছে।  এছাড়া আছে বিখ্যাত গল্প  ‘কাঁটাচুয়া’।  কল্পবিজ্ঞানে আপনার আরও দেবার আছে। কেন সেভাবে লেখেন না?
 
 
উত্তর ১৩ – কল্পবিজ্ঞান আমার খুব লিখতে ইচ্ছে করে।  যথেষ্ট জানিনা, সায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে হতো। ছোটদের জন্য আনন্দমেলায়  দুটো ছোট উপন্যাস লিখেছিলাম, ‘অপারেশন অরিন্দম’ আর ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’। এগুলো পড়লে তোমার ভালো লাগতো, জেগে ওঠো ভালো লেগেছে যখন।
 
 
প্রশ্ন ১৪ – পড়তেই হবে। আচ্ছা রাজ্য , দেশ ও বিশ্বে এখন বড়  হিংসা, সব কিছুরই দলীয় রাজনীতিকরণ চলছে্। এই পরিবেশে একজন ছাতাহীন লেখক কীভাবে নিজেকে লেখায় ধরে রাখবেন? এই সঙ্গে জানতে চাইব বাংলার মতো আঞ্চলিক ভাষায় লেখা কেন পূর্ণ সময়ের পেশা হতে পারছে না?
 
উত্তর ১৪ – লেখক তো ছাতাহীনই হন। যিনি ছাতা মাথায় চলেন তিনিও কিন্তু লেখার সময়টায় ছাতা গুটিয়ে রাখেন। লেখাতেও যদি চটি চাটেন কিংবা থিওরির দাসত্ব করেন তাঁকে কী আর লেখক বলা যায়? নেহাত যদি স্টালিনি রাজ্য হয়, তো লেখক কারাবরণ করেন, যেমন আমাদের দেশে এখন দেখছি। রাশিয়ায় প্রচুর, স্পেন এ  একটা সময়ে ঘটেছে। তবে বুদ্ধিমানরা পালান। আমাদের তেমন পালানোর সুযোগ নেই ভাই, এই দেশেতেই জন্ম আর এই দেশেতেই মরি। তাই মনে মনে পালাই। ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা, মনে                   মনে’।
 আরেকটা উপায় আছে।  একটা ক্লোক পরে নাও ।  কী বলছো মূর্খ বুঝতে পারবেনা। যারা বোঝার তারা ঠিকই বুঝে যাবে।
তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে বলি, একমাত্র ইংরেজি ছাড়া আর কোনো ভাষার লেখক কী পূর্ণ সময়ের লেখক হতে পেরেছেন? Colonisation এর হাত ধরে ইংরেজির বিশ্বজোড়া বাজার।
 রাশিয়ার বেশির ভাগ লেখক সাংবাদিক, ফ্রান্সের লেখকরা অধ্যাপক বা সাংবাদিক। শুধু লেখক হয়ে আর যাঁরা বাঁচতে চান, তাঁদের কপালে দারিদ্র, বহুপ্রজ হবার দরুন অনেক বাজে লেখা।
 Agatha christie ছিলেন, আরো কয়েকজন গোয়েন্দা বা থ্রিলার লেখক পেরেছেন অবশ্য। তাও ইংরেজিতে।
 
 
প্রশ্ন ১৫-  সত্যিই তাই।  এবার ‘আদি সংবাদ’-এ আবার। বিভূতিভূষণের ইছামতী উপন্যাসে রামকানাই কবিরাজ নীলের দেওয়ান রাজারাম রায়ের জামাই ভবানীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘আচ্ছা, আদি সংবাদটা কী?’ আদি সংবাদ মানে পৃথিবী, ব্রহ্মাণ্ড  কেমন ভাবে জন্ম নিল। সব মানব গোষ্ঠীতেই পৃথিবী সৃষ্টির গল্প কথা প্রচলিত। তাদের মধ্যে কিছু কিছু আশ্চর্য মিলও দেখা যায়। আমাদের যেমন মনুর নৌকো টেনে নিয়ে যায় একটা মাছ,   তেমনি আরমেনিয়ান পুরাণ কথায় একটা মাছ নিজের লেজ কামড়ে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সে পারছে না, আর তার এই না পারার ওপরেই বেঁচে আছে সৃষ্টি।  বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে সৃষ্টি নিয়ে ধরা আছে ইহুদিদের ভাবনা। ঈশ্বর ছ দিনে ব্রহ্মাণ্ড তৈরি করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম করলেন।  আদম, ঈভ, নরক তৈরি বৃত্তান্ত এর পর পাওয়া গেল মিলটনের কাব্যে। লিলিথকে পাওয়া গেল দ্য বুক অফ আইজায়াতে।
আবার গ্রিক পুরাণে আমরা পাই অলিম্পাস পাহাড়ের ওপরে থাকা টাইটান দেবতাদের, যাদের হারিয়ে ক্ষমতা দখল করে তাদের সন্তানরা, অর্থাৎ জিউস ও তাঁর ভাইবোনেরা।
বাইবেলের জেনেসিস, আমাদের পুরাণ আর সৃষ্টির বিগ ব্যাং থিওরি- এদের মধ্যে কি কোথাও মিল আছে?
বিভিন্ন কালখণ্ডে বিভিন্ন দেশে এই নিয়ে গুরু শিষ্য আলাপ আলোচনা কম হয়নি । বেদব্যাস আর তাঁর শিষ্য অনামিক,  ম্যাথিউ আর জেরার্ড  থেকে করোনাকালে এই বঙ্গের  প্রাচীন ইতিহাসের অধ্যাপক  গোয়াবাগানের রবিরঞ্জন মুস্তাফি আর আর্জব সাহা- খুঁজে চলেছেন এর উত্তর।
 
আপনার ছোট্ট উপন্যাস আদি সংবাদ। কিন্তু প্রশ্নটা অনেক বড়। কীভাবে এল এই উপন্যাসের বীজ?
উত্তর ১৫-  উপন্যাসটা ছোট, কিন্তু প্রশ্নটা সত্যি বড্ডো বড়ো। একজন লেখককে ঠিকঠাক লিখতে হলে হিস্ট্রি জিওগ্রাফি, বিজ্ঞান, আনথ্রোপলজি জানতে হবে। এঁদের সবাইকে নিয়ে একটা ক্লাব গড়লে হয়, যখন লেখকের যা লাগবে এঁরা সেইসব জ্ঞান সাপ্লাই দেবেন। যা পেরেছি খুঁটে খুঁটে জড়ো করেছি  প্রশ্নটার উত্তর খুঁজতে।
এই সব প্রশ্ন খুব জ্বালায়, রাতে জাগিয়ে রাখে, যতক্ষণ না কিছুটা অন্তত explore করছি শান্তি পাই না। এটাই বীজ, আর এ জন্যেই লেখা।
 
 
প্রশ্ন ১৬- আগামী পরিকল্পনার কথা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। এই সময়টাকে  ধরার জন্য যদি কোন উপন্যাস লিখতে চান, যা  পুরাণের কোন আখ্যানের  বিনির্মাণ হবে, , তবে কোন আখ্যানকে বাছবেন?
 
উত্তর ১৬- একেবারে এই সময়? লেখার জন্যে যে একটু দূরত্ব লাগে! তোমার পরের জেনারেশনের জন্য ওটা রেখে দাও। নব্বই হলো একটা watershed। তার আগেকার যে বাঙালি জীবন, নকশাল পর্যন্ত টা নিয়ে লিখেছি অষ্টম গর্ভ ২ খন্ড। তার জন্য metaphor  ব্যবহার করেছি রূপকথা, মহাভারত। এখন সমুদ্রমন্থনটা  ভাবাচ্ছে। পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
 
প্রশ্ন ১৭- পথ তো আপনি ঠিক খুঁজে নেবেন। পাঠক আবার অনাস্বাদিত কিছু পাবে।  আচ্ছা, লেখার সময় কি কখনো মনে হয়, কী হবে লিখে? ভয় হয় আগামী প্রজন্ম বাংলা পড়বে তো?
উত্তর ১৭- যতদিন লিখতে পারি, ভালো লাগে, ততদিন লিখবো। এখনকার প্রজন্মই কী পাঠক হিসেবে খুব সন্তোষজনক? ভবিষ্যতের কথা ভাবিনা।
  
ভাল থাকবেন দিদি।  এতক্ষণ সময় দেবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। আপনার নীরোগ  সৃষ্টিশীল জীবন প্রার্থনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *