মোদী সফরে ফের সাফল্য! আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি - 24 Ghanta Bangla News
Home

মোদী সফরে ফের সাফল্য! আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে( Free Trade)। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ…

নয়াদিল্লি: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়েছে( Free Trade)। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দশেরা বা বিজয়াদশমীর পুণ্যদিনেই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে এই অংশীদারিত্বকে তিনি উভয়ের জন্যই একটি বড় জয় বলে অভিহিত করেছেন।এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল গত ২৭ এপ্রিল।

তারপর দুই দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সংসদ সম্প্রতি বিল পাস করেছে এবং দুই পক্ষ কূটনৈতিক নোট বিনিময় করেছে।(Free Trade) নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকলে নিউজিল্যান্ডের সংসদে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক নথি বিনিময় করেন। এর ফলে চুক্তিটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে গেল।চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দিচ্ছে।

আরও দেখুনঃ আকাশতীরের সঙ্গে এয়ার ডিফেন্স অস্ত্রের সমন্বয়! শত্রু নিকেশে দিন-রাত মহড়ায় ভারতীয় সেনা

অর্থাৎ ভারতীয় রফতানিকারকরা শুরু থেকেই শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতো, প্রকৌশল পণ্য, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ শ্রমঘন খাতগুলো এতে বিশেষভাবে উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক রয়েছে। সেই বাধা এখন দূর হচ্ছে।অন্যদিকে ভারত নিউজিল্যান্ডের বর্তমান আমদানির ৯৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে।

Advertisements


   


   

প্রায় ৭০ শতাংশ শুল্ক রেখার ক্ষেত্রে বাজার প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। ( Free Trade)তবে সংবেদনশীল খাতগুলো সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দুধ, ক্রিম, পনির, দই, পেঁয়াজ, চিনি, মসলা, ভোজ্য তেল ও রাবারের মতো পণ্য চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। এতে দেশীয় কৃষক ও উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষা পাবে বলে সরকার মনে করছে।নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে আগামী ১৫ বছরে ভারতে দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই বিনিয়োগ কৃষি, উৎপাদন, পরিকাঠামো , স্টার্টআপ ও নতুন প্রযুক্তি খাতে আসতে পারে। দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। গত কয়েক বছরে বাণিজ্য ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ১.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি।চুক্তিতে পরিষেবা খাত ও পেশাজীবীদের চলাচলের সুযোগও রয়েছে। ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য অস্থায়ী কর্মসংস্থান ভিসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বছরে পাঁচ হাজার দক্ষ ভারতীয় তিন বছর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে কাজ করার সুযোগ পাবেন। আয়ুর্বেদ, যোগ, রান্না, সঙ্গীত শিক্ষকসহ তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পেশাজীবীরা এতে উপকৃত হতে পারেন। ছাত্রদের জন্যও কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।ব্যবসায়ী মহলে এই চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে। রফতানি বাড়লে কর্মসংস্থানও বাড়বে। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের কাঠ, উল, ভেড়ার মাংস ও অন্যান্য পণ্য ভারতীয় বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারবে।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।তবে চুক্তির সফলতা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে ভারতীয় রফতানিকারকদের মানসম্মত পণ্য ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বাজার ছোট হলেও উচ্চমানের চাহিদা রয়েছে। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি লাভ সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *