২৮ থেকে ৩ দিনের ব্যাংক ধর্মঘট, পরিষেবা সচল রাখতে অর্থ মন্ত্রকের বৈঠক - 24 Ghanta Bangla News
Home

২৮ থেকে ৩ দিনের ব্যাংক ধর্মঘট, পরিষেবা সচল রাখতে অর্থ মন্ত্রকের বৈঠক

Spread the love

নয়াদিল্লি: তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক ঘিরে পরিষেবা সচল রাখার প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আগামী সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকের…

নয়াদিল্লি: তিন দিনের দেশব্যাপী ব্যাংক ধর্মঘটের ডাক ঘিরে পরিষেবা সচল রাখার প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আগামী সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা দফতর। ধর্মঘটের সময় যাতে ব্যাংকিং পরিষেবা এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা যতটা সম্ভব চালু রাখা যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে।

ব্যাংক কর্মীদের সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাংক ইউনিয়নস বা ইউএফবিইউ ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যাংকিং পরিষেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে সপ্তাহান্তে ছুটিও রয়েছে। এই ধর্মঘট কার্যকর হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ের সঙ্গেও তা মিলে যাবে। ফলে পরিষেবায় বিঘ্নের আশঙ্কা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার বৈঠকে বসবেন ব্যাংকের শীর্ষ কর্তারা

অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা দফতরের সচিব সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ব্যাংকগুলিকে পাঠানো একটি যোগাযোগ অনুযায়ী, ধর্মঘটের সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় গ্রাহক পরিষেবা কীভাবে সচল রাখা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

ধর্মঘটের কারণে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে গ্রাহকের প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং পরিষেবা যাতে চালু রাখা যায় এবং ধর্মঘটের প্রভাব যাতে যতটা সম্ভব সীমিত করা যায়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রকের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হল ধর্মঘটের সময়ে সম্ভাব্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া।

Advertisements


   


   

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের ধর্মঘট

ব্যাংক ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ ইউএফবিইউ ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যাংকিং কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ হল ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে সপ্তাহান্তের ছুটি রয়েছে। ফলে ধর্মঘটের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে গ্রাহকদের নিয়মিত ব্যাংক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের জন্য সমস্যা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি, ধর্মঘটের সময়টি ব্যাংকিং খাতের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময়ের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। এই সময় ব্যাংকগুলির কাছে হিসাব সংক্রান্ত কাজের গুরুত্ব থাকে। ফলে ধর্মঘটের প্রভাব নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পাঁচ দিনের পরিষেবায় প্রভাবের আশঙ্কা

তিন দিনের ধর্মঘট হলেও তার প্রভাব পাঁচ দিনের ব্যাংকিং পরিষেবায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ধর্মঘটের আগে থেকেই ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সীমিত থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে নগদ লেনদেন, শাখা পর্যায়ের বিভিন্ন পরিষেবা এবং অন্যান্য গ্রাহক পরিষেবায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোন কোন পরিষেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রস্তুতি এবং ধর্মঘটের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। অর্থ মন্ত্রকের বৈঠকে তাই সম্ভাব্য সমস্যা চিহ্নিত করে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এর আগেও দেশব্যাপী ধর্মঘট হয়েছিল

পাঁচ দিনের ব্যাংকিং পরিষেবা এবং অন্যান্য দাবিতে ব্যাংক ইউনিয়নগুলি এর আগেও দেশব্যাপী ধর্মঘটে গিয়েছিল। ইউএফবিইউ-র অধীনে থাকা ব্যাংক ইউনিয়নগুলি ১১ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করেছিল। এবার ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ফের তিন দিনের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে এই আন্দোলন চলছে। ইউএফবিইউ-র দাবি অনুযায়ী, তারা ব্যাংকিং ক্ষেত্রের ৯০ শতাংশ কর্মীকে প্রতিনিধিত্ব করে।

কী কী দাবি রয়েছে ব্যাংক ইউনিয়নগুলির?

পাঁচ দিনের ব্যাংকিং পরিষেবা চালুর দাবি ছাড়াও ব্যাংক ইউনিয়নগুলির একাধিক দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেনশন ব্যবস্থার সংশোধন ও উন্নতি এবং সমস্ত পেনশনভোগীর জন্য অভিন্ন মহার্ঘ ভাতা হিসাবের সূত্র চালু করা। এছাড়াও জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা বা এনপিএস-এর আওতায় থাকা কর্মীদের পুরনো পেনশন ব্যবস্থা বা ওপিএস-এ ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। ব্যাংক ইউনিয়নগুলির বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মীদের বিভিন্ন বিষয় এবং অবসরকালীন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত এই দাবিগুলিও তাদের আন্দোলনের অংশ।

পরিষেবা সচল রাখাই এখন মূল লক্ষ্য

২৮ সেপ্টেম্বরের ধর্মঘটের আগে সোমবারের বৈঠককে তাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থ মন্ত্রক ধর্মঘটের সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং পরিষেবা কীভাবে চালু রাখা যায়, সেই পরিকল্পনা করবে। বিশেষ করে গ্রাহকদের জরুরি পরিষেবা যাতে যতটা সম্ভব সচল থাকে, তার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই বৈঠকে জোর দেওয়া হবে।

ধর্মঘটের সঙ্গে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং ব্যাংকিং খাতের অর্ধবার্ষিক হিসাব বন্ধের সময় একসঙ্গে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাংকগুলির প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Essential Business Intelligence, Sharp Market Insights, Practical Personal Finance Advice, Daily Fuel, Gold and Silver Prices and Latest Stories — On Kolkata24x7 Business.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *