প্রবাসে পুজো, কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল এ বার ক্যালিফোর্নিয়ায়
সোহিনী চৌধুরী
মা আসছেন। হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। শুধুমাত্র রাজ্য বা দেশেই নয়, বিদেশেও গত কয়েক বছরে বেড়েছে বারোয়ারি দুর্গাপুজো। প্রবাসী বাঙালিরা দল বেঁধে মাতৃ আরাধনা করছেন বিভিন্ন জায়গায়। আমাদের ক্যালিফোর্নিয়ার সান রামনের আগমনীর দুর্গাপুজো এ বার দশে পা দেবে।
১০ বছর Tri-Valley ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাঙালিদের মিলনস্থল এই পুজো। বেশ একটা পাড়া পাড়া অনুভূতি কাজ করে। সুদূর আমেরিকায় বসেও যখন গ্যারাজে গ্যারাজে পুজোর রিহার্সাল শুরু হয়, তখন যেন মনে হয় Tri-Valley নয়, টালিগঞ্জেই বসে আছি। বাঙালি বাবা-মায়ের ছোটবেলার নস্টালজিয়া আর এ দেশে বড় হওয়া ছোটদের উৎসাহ মিলে দুর্গাপুজোটা যেন কাল আর আজ-এর এক অদ্ভুত মিলন।
আমরা বুঝতেই পারি না, কী ভাবে যে ১০ বছর কেটে গেল। অনেক কিছু বদলেছে। পুজোর স্থান বদলেছে, বড় হয়েছে পুজোর জায়গা, বেড়েছে লোকসমাগম। কিন্তু আমাদের এই পাড়ার পুজোর আন্তরিকতা কিন্তু কোন অংশে কমেনি। তাই শুধু Tri-Valley নয়, বে এরিয়ার নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসেন এই পুজো দেখতে।
আমাদের পুজোর আরও একটা আকর্ষণ হলো প্যান্ডেলের অভিনবত্ব। কলকাতার থিমের পুজোর মতো এখানেও ডেকরেটারের লোকেরা মাসের পর মাস পরিশ্রম করে প্যান্ডেল তৈরি করেন। পুজোয় নানা স্টল বসে। প্রচুর দোকান, কেনাকাটার সুযোগ। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের আয়োজন আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই সবের জন্যেই এই পুজো এত প্রশংসা পেয়েছে।
আমাদের এ বছরের থিম এক টুকরো কলকাতা। তাই প্যান্ডেলের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ল্যান্ডমার্ক ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে। কুমোরটুলি থেকে এসেছে প্যান্ডেলের সাজসজ্জা। এ ছাড়া আরও একটি বিশেষ চমক থাকছে এ বছর। চন্দননগরের আলোকসজ্জায় গোটা হাওড়া ব্রিজ জেগে উঠবে Tri-Valleyর বুকে। কলকাতার শিল্পীরাও আসবেন অনুষ্ঠান করতে।
আমাদের সদস্যদের জন্য প্রতি বছর থাকে এলাহি খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। ফিশ ফ্রাই থেকে রাধাবল্লভী, ভাপা সন্দেশ, সব স্বাদ আমরা চেটেপুটে নিই এই সময়টা। শুধু কি পুজো? সারা বছরই লেগে থাকে নানান কর্মকাণ্ড। মানুষের জন্য কাজ করি আমরা। হলিডে ডিনার, মিল প্যাকিং ড্রাইভ এ সব তো আছেই। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের বাচ্চাদের পড়াশোনা শেখানোর কাজেও এক সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলে কাজ। নির্যাতিতা নারীদের জন্যও কাজ করা হয়।