ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পেল না! ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে কেন জিন্নাহর ছবি? - 24 Ghanta Bangla News
Home

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান পেল না! ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে সসম্মানে কেন জিন্নাহর ছবি?

Spread the love

ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু ভবনের (Jinnah)ইতিহাস সংরক্ষণ কেন্দ্রে সম্প্রতি এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। সংস্কারের পর পুনরায় খোলা এই মিউজিয়ামে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা…

ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু ভবনের (Jinnah)ইতিহাস সংরক্ষণ কেন্দ্রে সম্প্রতি এক নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। সংস্কারের পর পুনরায় খোলা এই মিউজিয়ামে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ঝুলানো হয়েছিল। কিন্তু ছাত্ররা সেই ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেছে এবং পরের দিন আরও একদল ছাত্র জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি মেঝেতে রেখে পদদলিত করেছে।

তবে বাংলাদেশে এই ঘটনার পাশাপাশি অনেকেই মন্তব্য করেছেন ভারতের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে। সেখানে এখনো জিন্নাহ র ছবিও সযত্নে টাঙানো রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। আবার একথাও তারা বলেছেন যে বাংলাদেশের মত দেশে যদি জিন্নাহর ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান হয় তবে ভারতের মত দেশে যেখানে জিন্নাহ ( Jinnah)ভারত ভাগের জন্য দায়ী তার ছবি কেন রাখা হবে।

আরও দেখুনঃ মেড ইন ইন্ডিয়ায় নয়া মাত্রা ‘সেমিকন!’ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ২৫ টি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

জিন্নাহর ছবি ছেঁড়ার ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। সূত্র অনুসারে, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ডাকসুর সংস্কার করা আর্কাইভ বা মিউজিয়াম পুনরায় খোলা হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক প্রতিকৃতি সরিয়ে জিন্নাহর ছবি যোগ করা হয়। একটি ছবিতে দেখা যায় ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করছেন।

Advertisements


   


   

অন্য ছবিগুলোতেও তাঁর উপস্থিতি ছিল। এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে তিনটার দিকে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের এক ছাত্র মিউজিয়ামে ঢুকে জিন্নাহর ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, যিনি ১৯৪৮ সালে কার্জন হলে ছাত্রদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই জিন্নাহর ছবি ডাকসুতে থাকতে পারে না। আমরা ১৯৭১ ভুলে যাইনি।”

পরে ছাত্র ফেডারেশনের কর্মীরাও প্রতিবাদ জানান এবং গোলাম আজমকে জুতার আঘাতে আক্রান্ত হওয়ার একটি পুরনো ছবি ঝুলিয়ে দেন।পরের দিন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫-২৬ সেশনের একদল ছাত্র ডাকসু ভবন ও মিউজিয়ামের প্রবেশপথে জিন্নাহ ও গোলাম আজমের ছবি মেঝেতে রেখে পদদলিত করেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ সালাম-বরকতের দেশ, তিন মিলিয়ন শহীদের রক্তে কেনা দেশ।

ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন যিনি, তাঁকে সম্মান দেখানো যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের জন্য তিনটি কমিটি গঠন করেছে। ছাত্রদল ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ছবি সরানোর দাবি জানিয়েছিল।এই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাস চেতনার গভীরতা তুলে ধরেছে। জিন্নাহকে অনেকেই ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের ওপর চাপানো নীতির প্রতীক হিসেবে দেখেন।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এখনও তাজা। ছাত্রদের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সেই ঐতিহাসিক আঘাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।অন্যদিকে ভারতে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ হলে জিন্নাহর (Jinnah)প্রতিকৃতি এখনও ঝুলছে। ১৯৩৮ সালে তাঁকে আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ঐতিহ্য অনুসারে ছবিটি সেখানে রয়েছে। ভারতে এই বিষয়টি নিয়ে অতীতে বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু ছবিটি সরানো হয়নি। দুই দেশের এই ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ইতিহাস ব্যাখ্যার পার্থক্যকে স্পষ্ট করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *