দার্জিলিংয়ের রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণে একাধিক পার্কিং লট
এই সময়: পর্যটনের ভরা মরশুমে দার্জিলিং শহরমুখী রাস্তায় যানজটে ফেঁসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গত কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা চলছে। পরিবারের বয়স্ক সদস্য থেকে শিশু, গাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে নাকাল হতে হয় সবাইকে। দার্জিলিং শহরে গাড়ি পার্কিংয়ের পরিকল্পিত পরিকাঠামো নেই। যার ফলে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যানজট। এ বছর এপ্রিল-মে মাসের পর্যটনে মরশুমেও ওই একই ছবি। শুধু দার্জিলিংয়ের দিকে যাওয়া পর্যটকরা নন, পাহাড়ের ও দিক থেকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনমুখী পর্যটকরাও সমস্যায় পড়েন। এই অবস্থায় যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে সমতল থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তার একাধিক জায়গায় অত্যাধুনিক পার্কিং লট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেট-বিতর্কের জবাবি ভাষণে ওই দপ্তরের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ‘দার্জিলিং শহরমুখী পথে ট্র্যাফিক জ্যাম বড় সমস্যা। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করার জন্য এই সমস্যা হচ্ছে। তাই, আমরা একাধিক জায়গায় হাইড্রোলিক পার্কিং লট তৈরি করার পরিকল্পনা করেছি।’
পাহাড়ে গেলে সূর্যোদয়ের সময়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকদের অনেকে যান টাইগার হিলে। সূর্যোদয় দেখার জন্য সান্দাকফুতে বিকল্প একটি পরিকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন নিশীথ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর কথায়, ‘সান্দাকাফুতে থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। ওখানে আমরা ওই পরিবেশের উপযুক্ত কন্টেনার রুম তৈরি করব। সূর্যোদয় দেখতে পর্যটকদের সুবিধে হবে।’
ইস্পাতের শিপিং কন্টেনারকে এখন দিব্যি ঘরের রূপ দেওয়া হচ্ছে। একেই বলে কন্টেনার রুম বা কন্টেনার কেবিন। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের জমানায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেটে এ বার জেলা ভিত্তিক অর্থ বরাদ্দের তথ্য দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং জেলার জন্য ২০২৬-‘২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৪৮১ কোটি টাকা। এই টাকা থেকেই সমতল থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তায় একাধিক পার্কিং লট, সান্দাকাফুতে কন্টেনার রুম নির্মাণ করা হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেটে মালদা ও কোচবিহার জেলার জন্য সব চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। মালদা জেলার জন্য প্রায় ৯৩৬ কোটি ও কোচবিহার জেলার জন্য প্রায় ৯৩৬ কোটি টাকা। উত্তর দিনাজপুর জেলার জন্য ৮৮৩ কোটি টাকা। জলপাইগুড়ির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা।
কালিম্পং জেলার জন্য সব চেয়ে কম, প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলাতেই শিল্প-পার্ক, ছোট ইন্ডোর স্টেডিয়াম, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের কেন্দ্র, ফুড প্রসেসিং ইউনিট, কোল্ড স্টোরেজ, কমিউনিটি হল, সোলার ইরিগেশন সিস্টেম গড়ে তোলার প্রকিল্পনা নিয়েছে সরকার। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, প্রতিটি জেলাতেই কৃষকদের স্মার্ট ফার্মিংয়ের প্রশিক্ষণ এবং প্রিসিশন ফার্মিংয়ের পদক্ষেপ করা হবে।
এ দিন বিধানসভায় বাজেট-বিতর্কে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক প্রসূন মুখোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে ফিল্মের শুটিংয়ের উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ার প্রস্তাব দেন। প্রসুন বলেন, ‘প্রচুর ছবির শুটিং উত্তরবঙ্গে হয়। কিন্তু সেখানে শুটিংয়ের সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, এই সংক্রান্ত কোনও গিল্ড নেই। প্রযোজকদের বাইরে থেকেই সব নিয়ে যেতে হয়। এর ফলে কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে।’ এর প্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ বলেন, ‘তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে শুটিংয়ের সরঞ্জাম সরবরাহ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য একটি সিঙ্গল উইন্ডো সলিউশন তৈরি করার ব্যবস্থা নেব।’ তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ‘দুর্নীতির আখড়া’য় পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ করে নিশীথ জানান, ১২২টি এজেন্সিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।