২৭৯৯ টাকা EMI দিতে পারেনি, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রক্ত বিক্রি করে টাকা আদায় করল রিকোভারি এজেন্টরা! | Youth Forced to Sell Blood to Repay Mobile EMI, 2 Recovery Agents Arrested in Lucknow
লখনউ: ফোনের ইএমআই দিতে পারেননি? কী হতে পারে এতে? সর্বাধিক নতুন ফোনটি নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক প্রাইভেট ফিন্যান্স কোম্পানির রিকোভারি এজেন্টরা যা করল, তা অবর্ণনীয়, নৃশংস। ২৭৯৯ টাকার ইএমআই দিতে না পারায় এক যুবককে অপহরণ করে, তাঁর রক্ত বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। এখানেই শেষ নয়, ওই যুববকে বন্দি করে রাখা হয় বাড়িতে পরিচারকের কাজ করার জন্য।
ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের লখনউতে। বৃহস্পতিবার লখনউ পুলিশ ওই প্রাইভেট ফিন্যান্স কোম্পানির দুই কর্মীকে গ্রেফতার করে। আরেক পলাতক কর্মীর জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, লখনউয়ের শেষ প্রান্তে রাজারামখেরা গ্রামের বাসিন্দা নেহাল নামক ওই যুবক স্থানীয় একটি দোকান থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কেনেন ইএমআই-তে। এক বছরের জন্য ২৭৯৯ টাকা করে দিতে হত।
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যুবক কোনও কাজ বা চাকরি করত না। তারপরও দোকানদার ও ফিন্যান্স কোম্পানি তাঁকে মোবাইল কেনার লোনের টাকা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই নেহাল প্রথম মাসের ইএমআই-ও দিতে পারেনি। এরপরই রিকোভারি এজেন্টদের অত্যাচার শুরু হয়। ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে টাকার জন্য।
গত ৮ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত দুই রিকোভারি এজেন্ট, শুভম ও অনিকেত নেহালের বাড়ি যায় এবং তাঁকে তুলে নিয়ে আসে। অভিযোগ, নেহালকে একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁকে জোর করে রক্তদান করাতে বাধ্য করে। সেই রক্ত বিক্রি করে টাকা আদায় করে রিকোভারি এজেন্টরা। এরপরে শুভম নামক রিকোভারি এজেন্টের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁকে চারদিন আটকে রেখে পরিচারকের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। নেহালকে ছাড়ার আগে এক মাসের ইএমআই-ও আদায় করে তাঁর দাদা রাজকুমারের কাছ থেকে।
লখনউ সাউথের ডিএসপি মহম্মদ মুস্তাক জানিয়েছেন, ধৃত দুইজন নেহাল নামক এক যুবক ও তাঁর মাকে ক্রমাগত হেনস্থা করছিল। সম্প্রতি যুবকের মা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান যে তাঁর ছেলেকে রিকোভারি এজেন্টরা জোর করে তুলে নিয়ে গিয়েছে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে। শুরু হয় তদন্ত।
তদন্তে নেমে কল ডিটেইলসের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মীদের চিহ্নিত করা হয়। দুইজনকে গ্রেফতার করা হলেও, একজন পলাতক। ওই ফিন্যান্স কোম্পানি ও ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।