পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংকট তীব্র, ৯ মাসে প্রায় ১,০০০ নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে নিরাপত্তা (Pakistan Security) পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত। ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে সহিংস ঘটনায় ৯৮৭ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া সন্ত্রাসবাদ পোর্টাল…
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে নিরাপত্তা (Pakistan Security) পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত। ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে সহিংস ঘটনায় ৯৮৭ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়া সন্ত্রাসবাদ পোর্টাল বা এসএটিপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেনা, ফ্রন্টিয়ার কোর, পুলিশ এবং লেভিস বাহিনীর সদস্যদের এই হিসাব ধরা হয়েছে। একই সময়ে মোট ৩,৬৯৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬৫৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং ২,০৫০ জন জঙ্গি বা বিদ্রোহী হিসেবে নথিভুক্ত। এসএটিপির তথ্য সংবাদ প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত এবং তা প্রাথমিক বা পরিবর্তনযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তাবাহিনীর মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ২০২৬ ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ বছর হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে নিরাপত্তাবাহিনীর ১,২২৯ জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এই সংখ্যা ছিল ১,০১২। তবে ২০২৬ সালের তথ্য এখনও ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ পুরো বছরের হিসাব নয়।
মোট নিহতের সংখ্যা ৩,৬৯৩
এসএটিপির হিসাবে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট ৩,৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সহিংস ঘটনায়। এর মধ্যে ৬৫৫ জন সাধারণ নাগরিক, ৯৮৭ জন নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য এবং ২,০৫০ জন জঙ্গি, বিদ্রোহী বা চরমপন্থী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। একজনের ক্ষেত্রে পরিচয় নির্দিষ্ট করা যায়নি।
২০০৯ সাল এখনও মোট প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর। সে বছর পাকিস্তানে মোট ১১,৩১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। পরবর্তী বছরগুলিতে এই সংখ্যা অনেকটা কমলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে মোট প্রাণহানি ছিল ২,২৩৬, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৪,০০১-এ পৌঁছয়। ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সেই সংখ্যা ৩,৬৯৩ হয়েছে।
Advertisements
বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
বর্তমান সহিংসতার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া। এসএটিপির রাজ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বালুচিস্তানে মোট ২,০৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৮১ জন সাধারণ নাগরিক, ৬৭৮ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং ৯৯২ জন জঙ্গি বা বিদ্রোহী। খাইবার পাখতুনখোয়ায় একই সময়ে মোট প্রাণহানি হয়েছে ১,৫৪০। সেখানে ২৩০ জন সাধারণ নাগরিক, ২৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মী এবং ১,০২৫ জন জঙ্গি বা বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন বলে এসএটিপির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই প্রদেশেই নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও রেলপথের মতো পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নিয়মিত সামনে এসেছে।
২০১৮-২০২২-এর তুলনায় ফের বাড়ছে সহিংসতা
পাকিস্তানে ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সহিংসতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের পর পরিস্থিতি ফের খারাপ হতে শুরু করে। এই সময়কাল আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখলের পরবর্তী পর্যায়ের সঙ্গেও মিলে যায়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপি। সংগঠনটি আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী পশতুন অধ্যুষিত অঞ্চলে তাদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে এবং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় শরিয়া-ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
বালুচিস্তানেও বিদ্রোহীদের তৎপরতা
অন্যদিকে বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন বালুচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি ব্যবহার করে হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের ঘটনাও সেখানে দেখা যায়। কোয়েটার সঙ্গে পাকিস্তানের অন্যান্য অংশের যোগাযোগকারী জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনও অতীতে একাধিক হামলার লক্ষ্য হয়েছে।
২০২৬-এ পরিস্থিতির চাপ আরও স্পষ্ট
এসএটিপির হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম সাড়ে আট মাসেই পাকিস্তানে প্রায় ১,০০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গত বছরের পুরো সময়ের তুলনায় সংখ্যা এখনও কম হলেও বছর শেষ হতে আরও কয়েক মাস বাকি। ফলে বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় একসঙ্গে বিদ্রোহী তৎপরতা, সন্ত্রাসবাদ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা পাকিস্তানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালেও দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি থামেনি।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও