উৎসবের আগে চিনির দাম কমল ১০%, বড় ক্রেতাদের মজুত দ্বিগুণ করল কেন্দ্র
উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির খুচরো দামে (Sugar Price) স্বস্তি মিলেছে। গত তিন সপ্তাহে খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা…
উৎসবের মরশুমের আগে দেশে চিনির খুচরো দামে (Sugar Price) স্বস্তি মিলেছে। গত তিন সপ্তাহে খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা থেকে নেমে এসেছে প্রায় ৫৮.৫০ টাকায়। এই পরিস্থিতিতে বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্রেতাদের জন্য চিনির মজুত রাখার সীমা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, বড় পরিমাণে চিনি ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি এবার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের প্রয়োজনের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখতে পারবে। এতদিন এই সীমা ছিল ১৫ দিন। তবে বাড়তি মজুতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
১৫ দিনের বদলে ৩০ দিনের মজুত
বিস্কুট, মিষ্টি, কনফেকশনারি, কোমল পানীয় এবং অন্যান্য খাদ্য ও পানীয় উৎপাদনকারী বড় সংস্থাগুলি শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বিপুল পরিমাণ চিনি ব্যবহার করে। যে শিল্প সংস্থাগুলি প্রতি মাসে কাঁচামাল হিসেবে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে, তাদের এতদিন ১৫ দিনের ব্যবহারের সমপরিমাণ চিনি মজুত রাখার অনুমতি ছিল। এবার সেই সীমা দ্বিগুণ করে ৩০ দিন করা হয়েছে। তবে ১৫ দিনের অতিরিক্ত যে চিনি মজুত করা হবে, সেটি অবশ্যই নির্দিষ্ট আমদানি বা রপ্তানি সংক্রান্ত ব্যবস্থার আওতায় সংগ্রহ করতে হবে।
বাড়তি চিনির উৎস নিয়ে কেন্দ্রের শর্ত
খাদ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগের ১৫ দিনের সীমার বাইরে যে চিনি মজুত করা হবে, তা ট্যারিফ রেট কোটা বা অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিমের আওতায় সংগ্রহ করা হতে হবে। দেশীয় খোলা বাজার থেকে কেনা চিনির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ দেশীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা চিনি দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের ব্যবহারের সমপরিমাণ মজুত রাখা যাবে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ট্যারিফ রেট কোটার আওতায় ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি অ্যাডভান্স অথরাইজেশন স্কিমের আওতায় রপ্তানির জন্য সংগ্রহ করা চিনির একটি অংশ দেশের বাজারে বিক্রির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
Advertisements
মিলগেটে দাম কমেছে ২৫ শতাংশ, ক্রেতারা পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না
চিনির খুচরো দাম কমলেও খাদ্য দফতরের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে অন্য একটি বিষয়। দফতরের মতে, মিল থেকে বেরনোর সময় বা এক্স-মিল পর্যায়ে চিনির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু সেই হারে খুচরো বাজারে দাম কমেনি। অর্থাৎ উৎপাদক থেকে পাইকার এবং সেখান থেকে খুচরো বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খলে দামের যে পতন হয়েছে, তার পুরো সুবিধা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য দফতর পাইকার, খুচরো বিক্রেতা এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের দ্রুত দাম কমানোর সুবিধা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
উৎসবের মরশুমে বাড়তে পারে চাহিদা
দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং অন্যান্য উৎসবের সময়ে মিষ্টি, বিস্কুট, কনফেকশনারি ও বিভিন্ন পানীয়ের চাহিদা সাধারণত বাড়ে। ফলে বড় শিল্প ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির চিনির প্রয়োজনও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ১৫ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের মজুত রাখার অনুমতি শিল্প সংস্থাগুলিকে অতিরিক্ত চাহিদা সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বাড়তি মজুতের জন্য নির্দিষ্ট উৎস থেকে চিনি সংগ্রহের শর্ত রাখা হয়েছে।
প্রতি শুক্রবার মজুতের হিসাব জানাতে হবে
কেন্দ্র বড় চিনি ব্যবহারকারীদের জন্য মজুত সংক্রান্ত রিপোর্টিং ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করেছে। এখন থেকে সব বাল্ক কনজিউমারকে প্রতি শুক্রবার খাদ্য দফতরের অনলাইন পোর্টালে নিজেদের কাছে থাকা চিনির মজুতের পরিমাণ জানাতে হবে। অর্থাৎ একদিকে উৎসবের আগে শিল্প সংস্থাগুলিকে বেশি চিনি মজুতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সেই মজুতের উপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
খুচরো বাজারে গত তিন সপ্তাহে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমলেও মিল পর্যায়ে দাম কমার হার আরও বেশি। ফলে কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে, এই দামের সুবিধা সরবরাহ শৃঙ্খল পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের বাজারেও কতটা পৌঁছয়।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও