ত্রাণ অবধি পৌঁছতে বাধা বার্ধক্য! বৃদ্ধদের জন্য প্যাকেট এনে দিচ্ছেন কিশোর–তরুণরাই
কৌশিক দে, মালদা
বুদ্ধ মণ্ডলের বয়স ৮০। স্ত্রী মিনু মণ্ডলের বয়স ৭২। একসময়ে কৃষিকাজ করে সংসার চালালেও বর্তমানে বার্ধক্যজনিত কারণে দম্পতি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। মালদার ভুতনি থানার কেশরপুর এলাকায় তাঁদের একচিলতে ভিটে বর্তমানে বন্যার জলে ডুবে রয়েছে। দম্পতি আশ্রয় নিয়েছেন একটি হাইস্কুলের ছাদে। নদীঘাটে যেখানে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে, সেখানে পৌঁছতেই পারছেন না তাঁরা।
ভুতনির বাল্লিটোলা এলাকাও প্লাবিত। সেই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব দম্পতি রাজকুমার মণ্ডল এবং বাবলি মণ্ডল দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তাঁরাও বার্ধক্যজনিত কারণে এখন চলাফেরা করতে পারেন না। ডুবে থাকা একতলা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার তাঁরা এখন নিঃসঙ্গ। নৌকোয় চেপে ত্রাণ নিতে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তাঁদের।
শুধু এই দু’টি ঘটনা নয়, ভুতনিজুড়ে এমন অসংখ্য বৃদ্ধ–বৃদ্ধা রয়েছেন, যাঁদের নদীঘাটে গিয়ে ত্রাণ সংগ্রহ করে আনার ক্ষমতা নেই। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন বানভাসি এলাকার কিশোর–তরুণরা। নিজেদের জন্য ত্রাণ নেওয়ার পাশাপাশি বৃদ্ধ–বৃদ্ধাদের জন্যও প্যাকেট সংগ্রহ করে পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়িতে কিংবা হাইস্কুলের শিবিরে। ত্রাণ নিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছেন বিশেষ ভাবে সক্ষমরাও। তাঁদেরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই। বিপদের মধ্যেই একে অন্যের পাশে থাকা এই তরুণ–কিশোররা যেন সংহতির বার্তাই দিয়ে চলেছেন।