গ্রান্ট ইন এড: বকেয়া ডিএ–র জন্য কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি
এই সময়: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা ‘গ্রান্ট ইন এড’ কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ আদায়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতিও এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলো। সংগঠনের দাবি, বকেয়া ডিএ (২০০৮-২০১৯) আদায়ে বারবার ‘গ্রান্ট ইন এড’–এর বিভিন্ন স্তরে কর্মরত শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী এবং কর্মচারীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তাই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০০৯–এ রাজ্য সরকার গঠিত পে কমিশন অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই) অনুসারে ডিএ দেওয়ার কথা বলেছিল | কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার কখনও এআইসিপিআই অনুসারে ডিএ দেয়নি। যে ডিএ দেওয়া হচ্ছিল, তা সর্বভারতীয় হারের তুলনায় অত্যন্ত কম। দীর্ঘদিন বঞ্চনার পরে ২০১৭–তে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে (স্যাট) এই ডিএ বঞ্চনার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট ঘুরে তা পৌঁছয় সুপ্রিম কোর্টে | চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত এআইসিপিআই অনুসারে ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকী গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটিও করে দেয়।
নতুন রাজ্য সরকার কমিটির নির্দেশ মেনে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ–র বেশ খানিকটা অংশ ইতিমধ্যে মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ‘গ্রান্ট ইন এড’–এর কর্মচারীদের বকেয়া মেটানোর কোন উদ্যোগ গ্রহণ নেয়নি বলে অভিযোগ। যদিও মামলাকারীদের দাবি, রাজ্য সরকারের আইনজীবী যখন সুপ্রিম কোর্টে হিসেব পেশ করেছিলেন, তখন সরকারি কর্মচারী এবং ‘গ্রান্ট ইন এড’— উভয়ের ক্ষেত্রের কর্মী সংখ্যার হিসেব কষেই ৪৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের কথা জানিয়েছিল |
ডব্লিউবিএইচএ–র সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র বলেন, ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাঁদের প্রাপ্যের কিছু অংশ পেলেও গ্রান্ট ইন এড–র শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা এ ব্যাপারে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে | মালহোত্রা কমিটি সরকারি কর্মীদের মতোই গ্রান্ট ইন এডে কর্মরতদেরও বকেয়া মেটানোর বিষয়ে পদ্ধতি ও সময়সীমা চূড়ান্তের নির্দেশ দিক রাজ্যকে।’