Raw or Boiled: কাচা না সেদ্ধ, কোন গাজরে পুষ্টিগুণ বেশি? | Raw or Boiled: The Best Way to Eat Carrots All Year Round for Maximum Health Benefits
কোনটা শরীরের জন্য ভালো?Image Credit: Free pik
গাজর (Carrot) এখন আর কেবল শীতকালের সবজি নয়, সারা বছরই বাজারে এর দেখা মেলে। স্যালাড থেকে শুরু করে স্যুপ বা তরকারি, বাঙালির হেঁশেলে গাজরের কদর সব সময়েই রয়েছে। কিন্তু এই গাজর ঠিক কীভাবে খেলে শরীরের সবচেয়ে বেশি উপকার হয়, তা নিয়ে অনেকের মনেই ধন্দ রয়েছে। কাঁচা কামড় দিলে বেশি পুষ্টি মেলে, নাকি সেদ্ধ করে খেলে? মা-ঠাকুমারা চোখ ভাল রাখতে গাজর খেতে বলেন, চিকিৎসকেরাও সেই একই পরামর্শ দেন। আসুন, এই কাঁচা আর সেদ্ধর বিভ্রান্তি দূর করে নেওয়া যাক।
সেদ্ধ গাজরের জাদু
গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম, ফোলেট এবং ফাইবার থাকে। মজার ব্যাপার হল, গাজর যখন সেদ্ধ বা হালকা ভাপানো হয়, তখন আমাদের শরীর খুব সহজেই এই বিটা ক্যারোটিন শুষে নিতে পারে। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য সেদ্ধ গাজর একেবারে আদর্শ। শিশু এবং বয়স্কদেরও সেদ্ধ গাজর খাওয়া উচিত, কারণ এটি চিবনো ও হজম করা খুব সহজ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেদ্ধ করলে গাজরে থাকা শর্করার পরিমাণ কিছুটা কমে যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী।
কাঁচা গাজরের পুষ্টিগুণও কম নয়
অনেকেই আবার সেদ্ধ গাজরের বদলে কাঁচা গাজর চিবিয়ে খেতে বেশি পছন্দ করেন। কাঁচা গাজরের মুচমুচে স্বাদটাই আলাদা! পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। কাঁচা গাজরে থাকা ফাইবার আমাদের পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে দারুণ কাজ করে। এর সঙ্গে বেশ কিছু উপকারী ভিটামিন ও উৎসেচক কাঁচা গাজর থেকে পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে, কাঁচা গাজর খাওয়ার আগে তা খুব ভাল করে ধুয়ে নেওয়া ভীষণ জরুরি। নাহলে ধুলোবালি বা ব্যাকটেরিয়া থেকে পেটের সমস্যা বা কৃমির সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই বিষয়ে আরও সাবধান হতে হবে।
রান্নার সময় যা খেয়াল রাখবেন
গাজর উপকারী হলেও, বেশি তেল-মশলা দিয়ে চড়া আঁচে অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই গাজরের আসল গুণ পেতে হলে, কম বা মাঝারি আঁচে গাজর রান্না করা বা ভাপিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে খাবেন?
তাহলে শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল? কাঁচা হোক বা ভাপানো, গাজর সব রকম ভাবেই খাওয়া যায়। আপনার ঠিক যেমনটা পছন্দ, আপনি তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সে ভাবেই গাজর খেতে পারেন। কেবল নিজের শরীর, বয়স আর হজম ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে খাওয়ার ধরনটা বেছে নিন। নিয়ম মেনে খেলে কাঁচা বা রান্না করা, দু’ভাবেই আপনি পুরো পুষ্টি পাবেন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।