Muslim Marriage After Puberty: বয়ঃসন্ধি পেরোলেই পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করতে পারেন মুসলিম যুবক-যুবতী? কী বলল হাইকোর্ট? | Minor Muslim Girl Or Boy Free To Marry Anyone They Like After Attaining Puberty: Punjab and Haryana High Court
চণ্ডীগড়: মুসলিম আইনে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনোর পর নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে করার অধিকার রয়েছে। আগের একটি রায়ের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে এমন মন্তব্য করেছে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। তবে এই মামলায় ওই বিয়ের বৈধতা নিয়ে কোনও মতামত দেয়নি আদালত।
এক মুসলিম দম্পতির জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা চেয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লুধিয়ানার (গ্রামীণ) সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশকে তাঁদের অভিযোগ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি বিক্রম আগরওয়াল এই নির্দেশ দেন। সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদনটি করা হয়েছিল।
কী আবেদন করেছিলেন দম্পতি?
আবেদনকারীদের দাবি, তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে একে অপরকে চেনেন এবং বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। যুবতীর বাবা এই বিয়েতে আপত্তি জানানোর পর গত ২২ অগস্ট তিনি তাঁর বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ওই দিনই মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাঁদের বিবাহ হয় বলে আদালতে দাবি করেন তাঁরা।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথম আবেদনকারী অর্থাৎ যুবকের বয়স ২৬ বছর। দ্বিতীয় আবেদনকারী অর্থাৎ যুবতীর বয়স ১৭ বছর ৮ মাস। নিজেদের জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে যুবতীর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আশঙ্কা রয়েছে বলেও তাঁরা আদালতে জানান। এর আগে গত ৩০ অগস্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের কাছে নিরাপত্তার আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
মুসলিম পার্সোনাল ল’র প্রসঙ্গ-
আবেদনকারীদের আইনজীবী মুসলিম পার্সোনাল ল এবং বয়ঃসন্ধির পর মুসলিমদের বিয়ের ক্ষেত্রে যোগ্যতা নিয়ে হাইকোর্টের আগের কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করেন। বিচারপতি বিক্রম আগরওয়াল স্যার দিনশাহ ফারদুনজি মুল্লার প্রিন্সিপ্যাল অব মহামেডান ল বইয়ের ১৯৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনও মুসলিম বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনোর পর বিয়ে করতে পারেন। আর বিপরীত কোনও প্রমাণ না থাকলে, ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে বয়ঃসন্ধি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি অন্য একটি মামলায় হাইকোর্টের আগের পর্যবেক্ষণও উল্লেখ করে আদালত। সেই রায়ে মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী বিয়ের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। সেকথা উল্লেখ করে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ২ নম্বর আবেদনকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি হওয়ায় তিনি তাঁর পছন্দের কোনও ব্যক্তিকে বিয়ে করতে পারেন। সুতরাং, মুসলিম পার্সোনাল ল অনুযায়ী উভয় আবেদনকারীরই বিয়ের উপযুক্ত বয়স হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আবেদনকারীদের পেশ করা তথ্য এবং আইনি নীতির বিরোধিতা করতে পারেনি রাজ্য।
তবে মামলায় তাঁদের বিয়ের বৈধতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি হাইকোর্ট। আবেদনটি নিষ্পত্তি করে লুধিয়ানা জেলার (গ্রামীণ) সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশকে ৩০ অগস্টের আবেদনটি বিবেচনা করতে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।