৪১ বছর বয়সে মা হচ্ছেন মাহিরা খান, ৪০-এর পর মাতৃত্ব এলে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত?
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেট—সর্বত্রই আলোচনায় ৪১ বছর বয়সি পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান (Mahira Khan)। কারণ, এই বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন তিনি। শুধু মাহিরা খানই নন, ক্যাটরিনা কাইফ থেকে শুরু করে হলিউডের অ্যান হ্যাথাওয়ে—বর্তমানে ৪০ বা তার কাছাকাছি বয়সে মা হওয়ার প্রবণতা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে মহিলারা কেরিয়ার, আর্থিক স্থায়িত্ব ও ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে হয়তো একটু দেরিতে মাতৃত্বকে বেছে নিচ্ছেন। যে কারণে শারীরিক বেশ কিছু ঝুঁকিও থাকছে। তবে বিষয়টি যে একেবারে অসম্ভব নয়, তার প্রমাণ দিচ্ছেন এই তারকা মায়েরাই। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে মা হওয়ার ক্ষেত্রে বায়োলজিক্যাল ও চিকিৎসাগত কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন?
চিকিৎসকদের মতে, ৪০ পেরিয়েও স্বাভাবিক ভাবে মা হওয়া পুরোপুরি সম্ভব। তবে এই সময়ে দুটো প্রধান শারীরিক পরিবর্তন ঘটে।
-
ডিম্বাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া: বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর এবং বিশেষ করে ৪০-এর কোঠায় পৌঁছলে শরীরে ভালো মানের ডিম্বাণুর সংখ্যা কমতে শুরু করে।
-
ডিম্বাণুর গুণমান ও ক্রোমোজোমগত ঝুঁকি: ডিম্বাণুর সংখ্যা কমার চেয়েও বড় বিষয় হলো বয়সের সঙ্গে এর গুণমান হ্রাস পাওয়া, যা ক্রোমোজোমজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
৪০ পেরিয়ে গর্ভাবস্থার প্রধান ঝুঁকি ও প্রতিকার:
-
ডায়াবিটিস: বয়সের কারণে হরমোনের তারতম্য ও প্রেশার বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ব্লাড সুগার ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ডাক্তার দেখান।
-
ক্রোমোজ়োমজনিত সমস্যা: ডিম্বাণুর গুণমান কমে যাওয়ার কারণে বাচ্চার ক্রোমোজোমগত সমস্যা হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থার একেবারে শুরুর দিকেই উপযুক্ত জেনেটিক স্ক্রিনিং ও টেস্ট করান।
-
প্লাসেন্টাজনিত সমস্যা: প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, সময়ের আগেই সন্তান প্রসব (Premature Birth) বা সিজ়ারিয়ান ডেলিভারির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে ‘হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ হিসেবে মনিটরিং করাও জরুরি।
ভীতি নয়, সচেতনতা জরুরি:
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ৩৫ বা ৪০-এর পর গর্ভধারণকে ‘অ্যাডভান্সড মেটারনাল এজ’ বলা হয়। এটি একটি পরিসংখ্যানগত সতর্কবার্তা মাত্র, তার মানে এই নয় যে প্রতিটি গর্ভাবস্থাই জটিল হবে। সুস্থ জীবনধারা, সঠিক পুষ্টি এবং আধুনিক ফার্টিলিটি চিকিৎসার (যেমন এগ ফ্রিজিং বা IVF) সাহায্যে ৪০-এর পরেও একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়া সম্ভব।
কনসিভ করার আগে যে ৫ প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন
১. প্রি-কনসেপশন কাউন্সেলিং: সন্তান নেওয়ার চেষ্টার শুরুতেই গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
২. মেডিকেল চেক-আপ: ওভারিয়ান রিজ়ার্ভ (AMH Test), থাইরয়েড, ব্লাড প্রেশার ও ভ্যাকসিনেশন স্ট্যাটাস পরীক্ষা করান।
৩. ফোলিক অ্যাসিড: কনসিভ করার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শে ফোলিক অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন খাওয়া শুরু করুন।
৪. সুস্থ জীবনধারা: অতিরিক্ত ওজন কমানো, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ধূমপান বা অ্যালকোহল পরিহার এবং হাঁটাচলা বজায় রাখুন।
৫. দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ৪০ পেরিয়ে ৬ মাস বা তার বেশি সময় স্বাভাবিক চেষ্টার পরও কনসিভ না হলে অবিলম্বে ফার্টিলিটি স্পেশালিস্টের সাহায্য নিন।