ব্যানারে বিরিয়ানী রান্না করছেন গণেশ ঠাকুর! তামিলনাড়ুতে গ্রেফতার দোকান মালিক
তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি শহরে এক বিরিয়ানি দোকানের বিজ্ঞাপন ব্যানার (Ganesha Biryani)নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে দোকানটি বিশেষ অফার ঘোষণা করে ব্যানারে ভগবান গণেশকে চিকেন…
তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি শহরে এক বিরিয়ানি দোকানের বিজ্ঞাপন ব্যানার (Ganesha Biryani)নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে দোকানটি বিশেষ অফার ঘোষণা করে ব্যানারে ভগবান গণেশকে চিকেন বিরিয়ানি রান্না করতে দেখানো হয়। এই চিত্রায়ন স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রতিবাদের মুখে পুলিশ ব্যানার সরিয়ে ফেলে এবং দোকানের মালিক জয়ন্তকে গ্রেফতার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে তিরুনেলভেলি-তিরুচেন্দুর মূল সড়কের কাছে ডিন্ডিগুল কল্যাণ বিরিয়ানি নামের দোকানে। ভিনায়গর চতুর্থী উপলক্ষে আরবি স্টাইলের চিকেন ৬৫ বিরিয়ানি মাত্র ৯৯ টাকায় দেওয়ার অফার দেওয়া হয়। ব্যানারে গণেশকে (Ganesha Biryani)সেই বিরিয়ানি রান্না বা খাওয়ার ভঙ্গিতে দেখানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননা বলে মনে করেন। হিন্দু মুন্নানিসহ কিছু সংগঠনের সদস্যরা দোকানের সামনে জড়ো হন এবং ব্যানার সরানোর দাবি জানান।
আরও দেখুনঃ পার্কিং লটে গন্ডগোল! রডের বাড়িতে হাত ভাঙল কার্গিল যোদ্ধার
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যানার সরিয়ে ফেলে। পরে সেল্বরাজ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, দেবতাকে মাংসের পদ রান্না করতে দেখানো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দোকানের মালিক ৩০ বছর বয়সী জয়ন্তকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতি উসকে দেওয়ার অভিযোগে ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।এই ঘটনা উৎসবের আগে সংবেদনশীলতা নিয়ে আলোচনা তুলে ধরেছে।
Advertisements
ভিনায়গর চতুর্থী তামিলনাড়ুতে বড় করে পালিত হয়। (Ganesha Biryani)মন্দিরে পুজো, মিছিল ও প্রতিমা স্থাপনের মধ্যে ব্যবসায়িক প্রচারে দেবতার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনেকে মনে করেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করলে তা সম্মানহানির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলেন, এটি নিছক বিজ্ঞাপন এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা দেখানো হচ্ছে।দোকান মালিক জয়ন্ত স্থানীয়। তিনি উৎসবের আমেজ কাজে লাগিয়ে গ্রাহক আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু চিত্রায়নটি অনেকের কাছে অশ্রদ্ধাজনক লেগেছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ব্যানার সরানোর পর এলাকায় শান্তি বজায় আছে।এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে জনসমক্ষে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সময় সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে উৎসবের মরশুমে এমন বিজ্ঞাপন সহজেই বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
ব্যবসায়ীরা লাভের কথা ভাবলেও স্থানীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান রাখা দরকার। পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।তিরুনেলভেলির এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ সমর্থন জানাচ্ছেন পুলিশের পদক্ষেপকে, কেউ বলছেন ব্যবসায়িক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। তবে আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ গুরুতর। তদন্ত চলছে এবং আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে