২২ বলে ৫৭ সঞ্জু স্যামসনের ঝড়, আফগানিস্তানকে হারিয়ে সিরিজ জিতল ভারত
নয়াদিল্লি: দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নিল ভারত (Team India)। মঙ্গলবার ৭ উইকেটে আফগানিস্তানকে হারাল শ্রেয়স আইয়ারের দল। ভারতের জয়ের নায়ক সঞ্জু স্যামসন, মাত্র ২২ বলে ৫৭ রান করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। তাঁকে দুরন্ত সঙ্গ দেন অভিষেক শর্মা, যিনি ১৯ বলে ৩৯ রান করেন।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানিস্তান ১৫৯/৮ রান তোলে। ভারতের হয়ে নীতীশ কুমার রেড্ডি কেরিয়ারের সেরা বোলিং করে ৩ উইকেট নেন। অর্শদীপ সিং পান ২ উইকেট। জবাবে ভারত মাত্র ১৪.৫ ওভারে ১৬৩/৩ তুলে ম্যাচ জিতে নেয়।
সঞ্জুর ঝড়ে উড়ে গেল আফগানিস্তানের লক্ষ্য
১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ নিয়ন্ত্রিত ছিল সঞ্জু স্যামসনের। ১০ বলে তাঁর রান ছিল মাত্র ৮। কিন্তু এরপরই বদলে যায় ছবিটা। মাত্র পরের ১০ বলেই নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন সঞ্জু। বাউন্ডারি এবং ছক্কার বৃষ্টিতে আফগানিস্তানের বোলারদের কার্যত অসহায় করে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ২২ বলে ৫৭ রান করে আউট হন সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৪টি ছক্কা। রশিদ খানের বলে লং-অফের কাছে ক্যাচ দিয়ে তাঁর বিধ্বংসী ইনিংস শেষ হয়।
Advertisements
আরও পড়ুন: শুধু হাসিনা নয় এবার আরও ৭ আওয়ামী শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদন্ড দিল ট্রাইব্যুনাল
প্রথম ম্যাচে ব্যর্থতার পর সঞ্জুকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাঁর জায়গায় তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ম্যাচেই ব্যাট হাতে জবাব দিলেন সঞ্জু।
অভিষেকের সঙ্গেও হল ঝড়ের জুটি
সঞ্জুর সঙ্গে ওপেনিংয়ে ছিলেন অভিষেক শর্মা। প্রথম টি-২০ ম্যাচে ৩২ বলে ৮২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলা অভিষেক দ্বিতীয় ম্যাচেও আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেন। তিনি মাত্র ১৯ বলে ৩৯ রান করেন। সঞ্জু ও অভিষেক মিলে মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেন। দুজনের জুটিতে আসে ৮৮ রান।
পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে নাজমুল্লাহ জাদরানের বিরুদ্ধে পরপর চার, ছয়, চার ও ছয় মেরে সঞ্জু নিজের ইনিংসকে বিস্ফোরক পর্যায়ে নিয়ে যান। ৬ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৮২/০। অভিষেক ৩৯ রানে রশিদ খানের বলে আউট হওয়ার পরও ভারতের জয়ের গতি থামেনি।
আরও পড়ুন: চন্দ্রনাথ হত্যায় ২ কোটির সুপারি কিলিংয়ের চুক্তি হয়েছিল, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শুভেন্দুর
ইশান কিশানের ব্যাটেও ঝড়
অভিষেকের পর সঞ্জুও ফিরে গেলে ভারতের হাতে তখনও পর্যাপ্ত সময় ছিল। ইশান কিশান ও শ্রেয়স আইয়ার ম্যাচ এগিয়ে নিয়ে যান। ইশান কিশান গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। একটি ওভারে সোজা মাঠের উপর দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন তিনি।
শ্রেয়স আইয়ারও ৬ মেরে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যদিও ১০.৪ ওভারে রশিদ খানের বলে প্রথম স্লিপে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ভারতীয় অধিনায়ক। শেষদিকে ইশান ও তিলক বর্মা মিলে কাজ শেষ করেন। ১৪.৫ ওভারে তিলক বর্মার জয়সূচক বাউন্ডারিতে ভারত ১৬৩/৩ পৌঁছে যায়।
নীতীশের কেরিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১৫৯-এ আটকাল আফগানিস্তান
এর আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই যশপ্রীত বুমরাহ মেডেন দেন। পরের ওভারে অর্শদীপ সিং রহমানউল্লাহ গুরবাজকে আউট করেন। গুরবাজ পরপর দুই ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হলেন।
আফগানিস্তান পাওয়ারপ্লে শেষে ৪১/১-এ পৌঁছয়। ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকউল্লাহ আতাল কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু নীতীশ কুমার রেড্ডি প্রথম বলেই জাদরানকে ফিরিয়ে দেন। এরপর রবি বিষ্ণোই সেদিকউল্লাহ আতালকে আউট করেন। নীতীশের দ্বিতীয় উইকেট আসে গুলবাদিন নাইবের বিরুদ্ধে।
একসময় ৬৭/৪ হয়ে যায় আফগানিস্তান। পরে আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং দারউইশ রাসুলি কিছুটা রান বাড়ান। কিন্তু নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় বড় স্কোর গড়ার সুযোগ হারায় আফগানিস্তান।
শেষদিকে রশিদ খানের ঝড়
শেষ দিকে রশিদ খান কিছুটা লড়াই করেন। মাত্র ১৬ বলে ২৮ রান করেন আফগানিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার। ১৮তম ওভারে অর্শদীপের বিরুদ্ধে চার, চার ও ছক্কা মেরে ১৬ রান তুলে নেন রশিদ। তবে ১৯.১ ওভারে নীতীশের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে অক্ষর পটেলের দুরন্ত ক্যাচে ফিরে যান তিনি। এরপর যশপ্রীত বুমরাহ মোহাম্মদ নবিকে আউট করেন। নীতীশ রশিদকে ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের তৃতীয় উইকেটও তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৫৯/৮-এ থামে আফগানিস্তান।
এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ ভারতের
প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ব্যবধানে জয় পেল ভারত। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ভারত এখন ২-০ এগিয়ে এবং এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে।
শ্রেয়স আইয়ারের অধিনায়কত্বে ভারতীয় মাটিতে এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের প্রথম জয়ের অপেক্ষাও আরও দীর্ঘ হল।
প্রথম ম্যাচে অভিষেক শর্মার বিস্ফোরক ৮২ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ২২ বলে ৫৭, ভারতের ব্যাটিংয়ের গভীরতা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। অন্যদিকে নীতীশ রেড্ডির কেরিয়ারসেরা ৩ উইকেট ভারতের বোলিং বিভাগকেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিল।