ভারতে বেকারত্ব কমে ৫ শতাংশ, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত
ভারতে বেকারত্বের (Unemployment India) হার আগস্ট মাসে কমে পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা বা পিএলএফএস-এর মাসিক বুলেটিন…
ভারতে বেকারত্বের (Unemployment India) হার আগস্ট মাসে কমে পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা বা পিএলএফএস-এর মাসিক বুলেটিন অনুযায়ী, জুলাইয়ের ৫.১ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে দেশের সামগ্রিক বেকারত্বের হার হয়েছে ৫ শতাংশ।
শুধু বেকারত্বের হার কমেনি, একই সঙ্গে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার এবং কর্মসংস্থানের অনুপাতও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই উন্নতির পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে গ্রামীণ ভারতের। শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও গ্রামে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
গ্রামে বেকারত্ব কমে ৪.১ শতাংশ
আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪.১ শতাংশে। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৪.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে গ্রামীণ বেকারত্ব ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। আগস্টের ৪.১ শতাংশ হার গত আট মাসের মধ্যে গ্রামীণ অঞ্চলে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। বর্তমান সাপ্তাহিক অবস্থান বা সিডব্লিউএস পদ্ধতিতে শহরাঞ্চলের বেকারত্বের হার জুলাইয়ের ৬.৭ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে আগস্টে ৬.৮ শতাংশ হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতকে মৃত অর্থনীতি সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে বৈদেশিক মুদ্রা রিসার্ভে ৪ নম্বরে ভারত
Advertisements
কীভাবে মাপা হয় বেকারত্ব?
পিএলএফএস-এর বর্তমান সাপ্তাহিক অবস্থান বা সিডব্লিউএস পদ্ধতিতে সমীক্ষার আগের সাত দিনকে হিসাবের সময়কাল হিসেবে ধরা হয়। এই পদ্ধতিতে কোনও ব্যক্তি যদি ওই সাত দিনের মধ্যে কোনও দিন অন্তত এক ঘণ্টাও কাজ না করে থাকেন, কিন্তু অন্তত এক ঘণ্টার জন্য কাজ খুঁজে থাকেন অথবা কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তাঁকে বেকার হিসেবে গণ্য করা হয়।
শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণও বাড়ল
আগস্টে দেশের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার বা এলএফপিআর বেড়ে হয়েছে ৫৫.৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৫৫.৪ শতাংশ। এটি গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গ্রামীণ এলাকায় এলএফপিআর জুলাইয়ের ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে ৫৮.২ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে অবশ্য এই হার ৫০.৪ শতাংশেই অপরিবর্তিত রয়েছে। এলএফপিআর মূলত সেই জনসংখ্যার অনুপাতকে বোঝায়, যারা হয় কাজ করছেন, অথবা সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে ধস, দেশের বাজারে কমল সোনা-রুপোর দাম; পুজোর আগে স্বস্তিতে ক্রেতারা
কর্মরত মানুষের অনুপাতেও উন্নতি
কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত বা ডব্লিউপিআর। আগস্টে এই হার বেড়ে হয়েছে ৫২.৮ শতাংশ, যেখানে জুলাইয়ে ছিল ৫২.৫ শতাংশ। মার্চ ২০২৬-এর পর এটিই ডব্লিউপিআরের সর্বোচ্চ স্তর। গ্রামীণ এলাকায় ডব্লিউপিআর জুলাইয়ের ৫৫.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে ৫৫.৮ শতাংশ হয়েছে। শহরাঞ্চলে অবশ্য এই হার ৪৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কর্মরত মানুষের অনুপাত বৃদ্ধির পিছনেও গ্রামীণ ভারতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রেও উন্নতি
আগস্টে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের কর্মী জনসংখ্যা অনুপাতই বেড়েছে। পুরুষদের ডব্লিউপিআর জুলাইয়ের ৭৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে আগস্টে হয়েছে ৭৩.৫ শতাংশ। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩২.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ শতাংশ। বেকারত্বের হারেও একই ধরনের উন্নতি দেখা গেছে। পুরুষদের মধ্যে বেকারত্বের হার জুলাইয়ের ৫ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৪.৯ শতাংশ হয়েছে। মে মাসে এই হার ছিল ৫.৪ শতাংশ। অর্থাৎ টানা তৃতীয় মাসে পুরুষদের বেকারত্বের হার কমেছে। মহিলাদের বেকারত্বের হারও জুলাইয়ের ৫.৪ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৫.১ শতাংশ হয়েছে। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই আগস্টের বেকারত্বের হার গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
গ্রামীণ পুনরুদ্ধারই মূল কারণ
সামগ্রিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, আগস্টে দেশের শ্রমবাজারে উন্নতির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল গ্রামীণ অঞ্চল। গ্রামে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ এবং কর্মরত মানুষের অনুপাতও বেড়েছে। শহরাঞ্চলে অবশ্য বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব কমার পিছনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেই পরিসংখ্যান থেকে ইঙ্গিত মিলছে।
বদলেছে পিএলএফএস-এর পদ্ধতি
উল্লেখ্য, গত বছরের জানুয়ারি মাসে পিএলএফএস-এর নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এরপর থেকে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল মিলিয়ে সারা দেশে বর্তমান সাপ্তাহিক অবস্থান পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতি মাসে কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রকাশ করা হচ্ছে।
আগস্টের পরিসংখ্যান তাই দেশের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার আট মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে আসা এবং কর্মী জনসংখ্যা অনুপাত বৃদ্ধির ঘটনা অর্থনীতিতে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।