গন্তব্য পুরী? দু’দিনের সফরে ঘুরে দেখুন এই অচেনা সি বিচ লোটাস
রোদের তেজে বেশিক্ষণ সৈকতে থাকা গেল না। ফিরে এলাম হোটেলে। দোতলার ব্যালকনিতে বসে এক কাপ চা হাতে কখনও দেখছি জলসমুদ্র, কখনও সামনের রাস্তা দিয়ে বয়ে চলা জনসমুদ্র।
পুরীতে কী আছে? একদিকে জগন্নাথদেবের মন্দির, আর অন্যদিকে এই বিশাল বঙ্গোপসাগর। এই দু’টি আকর্ষণের টানেই প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ পুরীতে আসেন।
পুরীর ভ্রমণ নিয়ে লেখা মানে অনেকটা লোক হাসানো। বাঙালিরা পুরীকে এত ভালো করে চেনেন যে, নতুন করে পুরীর সমুদ্র বা জগন্নাথদেবের গল্প বলে তাঁদের নতুন কিছু জানানোর নেই। তাই আমি বরং পুরীর বাইরের কিছু ভালো লাগার জায়গার গল্প বলি।
দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে লম্বা ঘুম। ঘুম ভাঙতে ভাঙতে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সোনালি আলোয় সমুদ্রের জল ঝিকমিক করছে। ঢেউ এসে পায়ের কাছে ভেঙে পড়ছে, আবার ফিরে যাচ্ছে। আমরা শুধু দাঁড়িয়ে দেখছি।
সন্ধ্যার পুরী আবার অন্যরকম। সমুদ্রতটে মানুষের ভিড়, ঝালমুড়ি আর ভাজাভুজির গন্ধ, দূরে দোকানের আলো— সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের আবহ।
একটু ঘোরাঘুরি করে আবার ফিরে এলাম সৈকতে। সামনে দিগন্তবিস্তৃত সমুদ্র, আর তার অবিরাম ঢেউ। একটা করে মদনমোহন, সঙ্গে হালকা গরম ছোট ছোট শিঙাড়া— দুটো করে খাওয়া হলো। শরীরে ক্লান্তি, চোখে ঘুম। হোটেলে ফিরে খাওয়াদাওয়া সেরে রাত ন’টার মধ্যেই বিছানায়।
পরদিন ভোরে ঘুম ভাঙল সমুদ্রের ডাকেই। সূর্য ওঠার আগেই চলে গেলাম সৈকতে। আকাশ তখন ধীরে ধীরে রং বদলাচ্ছে। প্রথমে ধূসর, তারপর কমলা, শেষে লালচে আলোয় ভরে উঠল দিগন্ত। সূর্যের প্রথম আলো যখন সমুদ্রের বুকে পড়ল, মনে হলো প্রকৃতি যেন নিজেই আজকের দিনের পর্দা তুলে দিল।
ফিরে এসে ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়লাম ভুবনেশ্বরের দিকে। গন্তব্য— লোটাস বিচ। তবে পুরীর কথা বলতে গিয়ে একটা কথা না বললেই নয়।
পুরীতে অনেক নামী-দামি হোটেল হয়েছে। কিন্তু আমি পুরীতে এলে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে যে হোটেলটিতেই উঠি, তার নাম হোটেল সোনালী। স্বর্গদ্বারের কাছে সমুদ্র-মুখী এই হোটেলটির সঙ্গে আমার সম্পর্কটা শুধুই হোটেল আর পর্যটকের নয়— একটা দীর্ঘ স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
থাকার সুন্দর ব্যবস্থা, ভালো খাওয়াদাওয়া আর সবচেয়ে বড় কথা—ঘরে বসেই সমুদ্র দেখা যায়। সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখতে সবসময় সৈকতে নামার প্রয়োজন হয় না; ঘরের জানলা বা ব্যালকনিতেই বসে সেই দৃশ্য উপভোগ করা যায়।