সব স্বপ্ন হারিয়েও, হারাননি আদর্শ - 24 Ghanta Bangla News
Home

সব স্বপ্ন হারিয়েও, হারাননি আদর্শ

Spread the love

গৌরহরি কুণ্ডু বরাবরই ছা-পোষা মানুষ। আবার পিছনের সারির পার্টি হোলটাইমারও। যথেষ্ট বয়স হয়েছে তার। কিন্তু এলাকার লোকেদের কাছে সে খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয়। তার প্রায় ভেঙে পড়া একটি বাড়ি। দীর্ঘদিন কোনও সংস্কার হয়নি। অনেকে ভুতুড়ে বাড়িও বলে থাকেন। সেই বাড়িতেই ঘাঁটি আগলে বসে থাকে গৌরহরি। একদা এটাই ছিল তার পার্টির লোকাল অফিস। এখন তো সেই অফিসে কেউ আসে না।

এই বাড়িটা অবশ্য দান করে যান বর্গা আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ধরণী ধর। কেউ-কেউ বলে, তার প্রেতাত্মা নাকি বাড়ির আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায়। মাঝে-মধ্যেই ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে, ‘অপারেশনে যাবি না?’ সেই প্রেতাত্মাও যে কিছু দিন যাবৎ শান্তিতে নেই, তা বোঝাই যায়। কারণ কায়েমি স্বার্থের মানুষজনের নজর পড়েছে এই বিশাল বাড়িটির দিকে। আর বাড়ি সংলগ্ন জমিটির উপর। একা কুম্ভের মতো লড়াই চালিয়ে যায় সে। সেই সূত্রেই বেরিয়ে আসে বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি। একই সঙ্গে গৌরহরি কুণ্ডুর ব্যক্তিগত জীবনের অজানা নানা কাহিনি।

মেঘনাদ ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় ‘কুণ্ডুবাবু’ নাটকটি ফের আলোড়ন তুলেছে নিঃসন্দেহে। কিছু দিন আগে অ্যাকাডেমিতে মঞ্চস্থ হয়েছে। যোগ্য নির্দেশনা ছাড়াও নাটকের সবচেয়ে বড় সম্পদ কিছু সংলাপ। যার ফলে নাটকের প্রতিটি মুহূর্তেই চড়েছে উত্তেজনার পারদ। যেহেতু মূল চরিত্রে রয়েছেন মেঘনাদ ভট্টাচার্য তাই প্রতিটি দৃশ্য হয়ে ওঠে বাস্তবের এক চেনা মুখ।

কুণ্ডুবাবু যখন বলে ওঠে, ‘হ্যাঁ, আমি ডাইনোসর, বোধহয় ঠিক মতো কমিউনিস্ট-ও নই। কেন না মার্ক্স-এর পাতা তো উল্টে দেখিনি কখনও। কোনও দিনও নয়। তবে এটা বুঝি, চাষি আর মাটি তারা ঠিক বেইমানকে চিনিয়ে দেয়।’ আর তাই সে কখনও পাগল। কখনও বা গোঁয়ার। এক উপেক্ষিত স্বপ্নহীন দলীয় কর্মী ছাড়া আর কিছু নয়।

স্বমহিমায় মেঘনাদ ভট্টাচার্য আজও একাই একশো। সহ-অভিনেতাদের মধ্যে ছিলেন রুণা, আশিস, সমীরণ, বিশ্বনাথ, ইন্দ্রজিতা, অনামিকা, রূপসা ও সুব্রত। সঙ্গীত মুরারী রায় চৌধুরীর। মঞ্চ ভাবনায় সৌমিক ও পিয়ালী। কোরিয়োগ্রাফিতে সুকল্যাণ ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *