জন্তরমন্তর প্রতিবাদে উপস্থিত ছিল ২৪০০ দাগি আসামি! ফেস রিকগনিশনে ফাঁস বড় তথ্য
নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশ জন্তরমন্তরের প্রতিবাদ স্থলে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার (Facial Recognition)নিয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই প্রতিবাদীদের অবাধ নজরদারি বা প্রোফাইলিংয়ের জন্য…
নয়াদিল্লি: দিল্লি পুলিশ জন্তরমন্তরের প্রতিবাদ স্থলে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার (Facial Recognition)নিয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা কোনোভাবেই প্রতিবাদীদের অবাধ নজরদারি বা প্রোফাইলিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়নি। বরং এটি শুধুমাত্র পূর্বের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিদ্যমান পুলিশ রেকর্ডের সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখার কাজে লাগানো হয়েছিল।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের কোনো প্রোফাইল তৈরি করা হয়নি বলে পুলিশ দাবি করেছে (Facial Recognition)।পুলিশের মতে, এই প্রক্রিয়ায় মোট দুই হাজার আটশো তিয়াত্তর জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার চারশো দুই জন ক্রাইম কুণ্ডলী ডাটাবেসের মাধ্যমে শনাক্ত হয়েছেন এবং চারশো একাত্তর জন পুলিশ ডসিয়ার রেকর্ডের সঙ্গে মিলেছেন।
আরও দেখুনঃ ৮ হাজার ৪৫২ কোটি ব্যালান্স নিয়ে রেকর্ড করল পিএম কেয়ার্স ফান্ড
পুলিশ আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই দুই হাজার আটশো তিয়াত্তর জন ছাড়া অন্য কোনো প্রতিবাদীকে এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তদন্তের আওতায় আনা হবে না। (Facial Recognition)এই স্পষ্টীকরণের মূল কথা হল, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমকে ব্যাপক নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। এটি শুধুমাত্র বিদ্যমান অপরাধ রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করার একটি মাধ্যম ছিল।
পুলিশ বলেছে, সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির মুখ ধারণ করে না বা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে না। শুধুমাত্র যাদের আগে থেকেই পুলিশের ডাটাবেসে গুরুতর অপরাধের রেকর্ড আছে, তাদের মুখই মিলিয়ে দেখা হয়। যন্তরমন্তরে (Facial Recognition)সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রতিবাদের সময় এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অনেকেই এটিকে গণনজরদারি বলে সমালোচনা করেছিলেন।
আরও দেখুনঃ ভারত-মার্কিন বাণিজ্যে ঘুচুক জট! কর ও নীতিতে স্থিরতার বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
সেই প্রেক্ষাপটে দিল্লি পুলিশ সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতি বৈধ রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিবাদ স্থলে অপরাধী ব্যক্তিদের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অপরাধ যেমন হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ধর্ষণ, পকসো আইন এবং অন্যান্য গুরুতর মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তবে শুধুমাত্র রেকর্ড মেলানোর কারণেই কাউকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হচ্ছে না। শুধু সেইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধেই তদন্ত চলবে যাদের পূর্বের অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনা আবারও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নাগরিক স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একদিকে পুলিশ বলছে এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, (Facial Recognition)অন্যদিকে সমালোচকরা গোপনীয়তা ও মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন তুলছেন। তবে পুলিশের সাম্প্রতিক অবস্থান হল তারা ব্যাপক নজরদারি করেননি এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেননি।