টাইগার ট্যুরিজমকে ঘিরে সুন্দরবনে ৫ তারা রিসর্টের পরিকল্পনা মিঠুনের
কলকাতা: সুন্দরবনে পাঁচতারা রিসর্টের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (tiger tourism)। বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী সম্প্রতি সুন্দরবন সফর করে ফিরে ‘টাইগার…
কলকাতা: সুন্দরবনে পাঁচতারা রিসর্টের প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (tiger tourism)। বিজেপি নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী সম্প্রতি সুন্দরবন সফর করে ফিরে ‘টাইগার ট্যুরিজম’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে জনবসতিহীন আট থেকে দশটি দ্বীপে পরিবেশবান্ধব ট্রি-হাউস স্টাইলের পাঁচতারা রিসর্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।(tiger tourism)মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন, এই দ্বীপগুলো ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে বা স্থায়ী বরাদ্দের মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে শর্ত থাকবে যে কংক্রিটের ভারী নির্মাণ করা যাবে না। শুধুমাত্র পরিবেশসম্মত ট্রি-হাউস বা অনুরূপ কাঠামোই অনুমোদিত হবে।
আরও দেখুনঃ ৭২ ঘণ্টা, ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: ব্রিকস সামিটে কীভাবে কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মোদী
প্রতিটি রিসর্টে স্থানীয় যুবকদের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রকল্পে ৭০-৮০ জন স্থানীয় তরুণ-তরুণী কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।এই পরিকল্পনার সঙ্গে আরও কিছু পর্যটন সুবিধার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কম শব্দের এরিয়াল টাইগার ভিউয়িং ব্যবস্থা, ডলফিন দেখার জন্য জেটি, ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, জীববৈচিত্র্য জাদুঘর, ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট এবং স্থানীয় মধু ও হস্তশিল্প বিক্রির জন্য গ্রামীণ হাট।
Advertisements
উদ্দেশ্য হল পর্যটকদের আকর্ষণ করা এবং একইসঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা।(tiger tourism)তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, প্রিমিয়াম পর্যটন কি সুন্দরবনের অনন্য বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সম্প্রসারিত হতে পারে? সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ অসংখ্য বিরল প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে কোনো ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে।মিঠুন চক্রবর্তী তার সফর শেষে কলকাতায় ফিরে এই প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র পাঁচতারা মানের সুবিধা গড়ে তুলতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদেরই লিজ দেওয়া হবে। কম মানের কোনো প্রকল্প অনুমোদন পাবে না। স্থানীয় কর্মসংস্থানের শর্তও কঠোরভাবে মানতে হবে।
ডলফিন দেখার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় মন্দির সংস্কারের মাধ্যমে ধর্মীয় পর্যটনও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। ইতিমধ্যেই কিছু ইকো-রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, কিন্তু পাঁচতারা মানের ট্রি-হাউস রিসোর্টের এই ধরনের বড় পরিকল্পনা নতুন। পিপিপি মডেলে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সরকারের উপর আর্থিক চাপ না পড়ে।
একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে তাদের জীবিকা (tiger tourism)উন্নত করার লক্ষ্যও রয়েছে।তবে পরিবেশগতবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, অরক্ষিত দ্বীপগুলোতে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুললে ম্যানগ্রোভের ক্ষতি হতে পারে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিঘ্নিত হতে পারে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, কঠোর নিয়মনীতি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকা জরুরি।