ঘরের দেবতা থেকে কী ভাবে গণেশপুজো হলো সর্বজনীন?
তারপর সামনে এলেন বাল গঙ্গাধর তিলক। ১৮৯৩ সালে তিলক তাঁর সংবাদপত্রের মাধ্যমে সর্বজনীন গণেশোৎসবের ধারণাকে সমর্থন করেন এবং খুব দ্রুত এই উৎসবকে আরও বড় সামাজিক ও সাংগঠনিক পরিসরে নিয়ে যাওয়ার কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এখানেই তাঁর আসল কৃতিত্ব। তিলক গণেশ চতুর্থী সৃষ্টি করেননি, এমনকী সর্বজনীন গণপতি উৎসবের প্রথম উদ্যোগও তাঁর ছিল না। তাঁর ভূমিকা ছিল আগে থেকেই তৈরি হতে থাকা একটি জনউৎসবকে সংগঠিত, বিস্তৃত এবং সামাজিক ভাবে আরও প্রভাবশালী করে তোলা। যে উৎসব একসময় পরিবারের বাড়ির ভিতরে সীমাবদ্ধ ছিল, সেটিই তাঁর উদ্যোগে পুনের পাড়া, রাস্তা এবং জনসমাগমের সঙ্গে আরও গভীর ভাবে যুক্ত হতে থাকে।
গণেশ মণ্ডপে তখন শুধু পুজো হচ্ছে না। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বক্তৃতা, গান, নাটক, কবিতা পাঠ, শরীরচর্চা এবং নানা সামাজিক আয়োজন। মানুষ শুধু গণেশের সামনে দাঁড়াচ্ছেন না, একে অপরের সঙ্গেও পরিচিত হচ্ছেন, কথা বলছেন, নতুন ধারণা শুনছেন। একটি ধর্মীয় উৎসব ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে একটি সামাজিক মিলনক্ষেত্র। আর এই পরিবর্তনের পিছনে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও বড় ভূমিকা ছিল। ব্রিটিশ শাসনের সময় বড় জনসমাবেশ ও রাজনৈতিক সভার উপর প্রশাসনের নজর ছিল। সরাসরি রাজনৈতিক সংগঠন বা সভা করা সবসময় সহজ ছিল না। কিন্তু ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে বেশি সুযোগ ছিল। তিলক বুঝেছিলেন, গণেশ এমন এক প্রতীক যাঁকে কেন্দ্র করে সমাজের বিস্তৃত অংশের মানুষকে এক জায়গায় আনা সম্ভব। ফলে গণেশোৎসব হয়ে উঠল এমন একটি জায়গা যেখানে পুজো চলবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, কিন্তু তার পাশাপাশি তৈরি হবে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সংগঠনের সুযোগও।